ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়: জাহেদ উর রহমান Logo লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও স্বল্পসুদে ঋণ সম্প্রসারণে সরকারের নানা উদ্যোগ: শিল্পমন্ত্রী Logo রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৪ Logo গুজব প্রতিরোধে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী Logo ষড়যন্ত্র করে ভোটে হারানো হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত ছিল Logo শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় ১৭ দফা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে Logo জ্বালানি খাতে তুরস্কের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ Logo বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রীরও Logo প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি গড়ে তুলতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকার Logo জাতিসংঘে বাংলাদেশের পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান

‘শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ন্যায়বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের পথে নতুন বাংলাদেশ’

গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেছেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ। সেই রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর প্রাক্কালে বাঞ্ছারামপুরে তাঁর পিতার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকী বলেন, ‘সারাদেশের মতো বাঞ্ছারামপুরেও যারা শহীদ হয়েছেন, আমরা তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। গণঅভ্যুত্থানের পরও পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। শহীদ হাদী তাঁদের অন্যতম। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, আমরা তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’

তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের একটি সুস্পষ্ট ফয়সালা রয়েছে—এটি জনগণের রায়। কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদকে নতুন নামে বা নতুন রূপে ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না। যে শক্তির হাতেই হোক, ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্মের সব পথ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

উগ্রবাদ ও ধর্মীয় উসকানির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতে ফ্যাসিবাদের ভয়াবহ পরিণতি দেখেছি। আজ আবার ধর্মীয় উসকানির মাধ্যমে জবরদস্তিমূলক শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে। এসবের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।’

রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের বেঁচে থাকার অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর সে কারণেই রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক হতে হবে।

এই গণঅভ্যুত্থান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকী বলেন

প্রথমত, ন্যায়বিচার। গুম, খুন ও দমন-পীড়নের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার হতেই হবে। ন্যায়বিচারের মধ্য দিয়েই শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, সংস্কার। ক্ষমতা একজনের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকার কারণেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্র, সংবিধান সংস্কার, জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

তৃতীয়ত, নির্বাচন। এই সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে নির্বাচন অপরিহার্য। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একদিকে গণভোট, অন্যদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মতি জানাবে এবং একই সঙ্গে একটি বৈধ সংসদ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে এমন রাজনৈতিক ব্যবস্থা দরকার, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজেকে অংশীদার মনে করবে। একটি গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হলে সেখান থেকেই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের জন্ম হয়।

আয়-বৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খেটে খাওয়া মানুষ তাদের ন্যায্য হিস্যা না পেলে এবং দেশের সম্পদ যদি মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, তাহলে সমাজে শান্তি ও ঐক্য আসবে না। ধর্মীয়, জাতিগত কিংবা লিঙ্গভিত্তিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বাঞ্ছারামপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা সারাদেশে মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে। পাশাপাশি শিশু ও তরুণদের শারীরিক, মানসিক ও মানবিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করতে হবে, যাতে তারা মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাঞ্ছারামপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ঢাকা-সংযোগকারী মেঘনা সেতু নির্মাণ। এ সেতু বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বেকারত্ব কমবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরলহনিয়া গ্রামের কবরস্থানে তাঁর পিতার কবর জিয়ারত করেন জোনায়েদ সাকী। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারত শেষে সেখানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রার্থনা করা হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এসএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়: জাহেদ উর রহমান

‘শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ন্যায়বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের পথে নতুন বাংলাদেশ’

আপডেট সময় ০৪:০২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেছেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ। সেই রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর প্রাক্কালে বাঞ্ছারামপুরে তাঁর পিতার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকী বলেন, ‘সারাদেশের মতো বাঞ্ছারামপুরেও যারা শহীদ হয়েছেন, আমরা তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। গণঅভ্যুত্থানের পরও পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। শহীদ হাদী তাঁদের অন্যতম। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, আমরা তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’

তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের একটি সুস্পষ্ট ফয়সালা রয়েছে—এটি জনগণের রায়। কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদকে নতুন নামে বা নতুন রূপে ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না। যে শক্তির হাতেই হোক, ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্মের সব পথ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

উগ্রবাদ ও ধর্মীয় উসকানির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতে ফ্যাসিবাদের ভয়াবহ পরিণতি দেখেছি। আজ আবার ধর্মীয় উসকানির মাধ্যমে জবরদস্তিমূলক শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে। এসবের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।’

রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের বেঁচে থাকার অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর সে কারণেই রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক হতে হবে।

এই গণঅভ্যুত্থান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকী বলেন

প্রথমত, ন্যায়বিচার। গুম, খুন ও দমন-পীড়নের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার হতেই হবে। ন্যায়বিচারের মধ্য দিয়েই শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, সংস্কার। ক্ষমতা একজনের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকার কারণেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্র, সংবিধান সংস্কার, জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

তৃতীয়ত, নির্বাচন। এই সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে নির্বাচন অপরিহার্য। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একদিকে গণভোট, অন্যদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মতি জানাবে এবং একই সঙ্গে একটি বৈধ সংসদ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে এমন রাজনৈতিক ব্যবস্থা দরকার, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজেকে অংশীদার মনে করবে। একটি গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হলে সেখান থেকেই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের জন্ম হয়।

আয়-বৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খেটে খাওয়া মানুষ তাদের ন্যায্য হিস্যা না পেলে এবং দেশের সম্পদ যদি মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, তাহলে সমাজে শান্তি ও ঐক্য আসবে না। ধর্মীয়, জাতিগত কিংবা লিঙ্গভিত্তিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বাঞ্ছারামপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা সারাদেশে মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে। পাশাপাশি শিশু ও তরুণদের শারীরিক, মানসিক ও মানবিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করতে হবে, যাতে তারা মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাঞ্ছারামপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ঢাকা-সংযোগকারী মেঘনা সেতু নির্মাণ। এ সেতু বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বেকারত্ব কমবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরলহনিয়া গ্রামের কবরস্থানে তাঁর পিতার কবর জিয়ারত করেন জোনায়েদ সাকী। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারত শেষে সেখানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রার্থনা করা হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এসএস