শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে আছেন মাদুরো, নেওয়া হচ্ছে নিউইয়র্ক

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর কঠোর পাহারায় আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, বন্দি এই দম্পতিকে বর্তমানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ইও জিমা-তে রাখা হয়েছে এবং তাদের গন্তব্য এখন নিউ ইয়র্ক।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত নাটকীয় ভঙ্গিতে এই বন্দি স্থানান্তরের বর্ণনা দিয়ে জানান, কারাকাসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে তাদের হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। ট্রাম্প ব্যঙ্গাত্মক স্বরে বলেন, তারা একটি চমৎকার ফ্লাইটে করে গেছেন, আমার বিশ্বাস তারা এই সফর বেশ উপভোগ করেছেন। তবে পরক্ষণেই কঠোর হয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, মাদুরো ও তার স্ত্রীর হাতে অসংখ্য মানুষের রক্ত লেগে আছে এবং তাদের এই কৃতকর্মের বিচার নিশ্চিত করা হবে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর আগে মাদুরোকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছাড়ার একটি সুযোগ দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সুযোগের ধরণ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, আমি এক সপ্তাহ আগে সরাসরি মাদুরোর সাথে কথা বলেছিলাম। আমি তাকে স্পষ্টভাবে বলেছিলাম—আপনাকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং আত্মসমর্পণ করতে হবে। কিন্তু মাদুরো সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শেষ পর্যন্ত এই ঝটিকা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় হোয়াইট হাউস।

শনিবার মধ্যরাতে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের সেই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর এখন মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অর্থপাচার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মামলা লড়া হবে। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে একজন দায়িত্বরত রাষ্ট্রপ্রধানকে ভিনদেশি সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গিয়ে নিজ দেশে বিচারের মুখোমুখি করছে।

বর্তমানে মাদুরো দম্পতিকে বহনকারী যুদ্ধজাহাজটি মার্কিন কোস্টগার্ড ও বিমানবাহিনীর কড়া নজরদারিতে রয়েছে। নিউ ইয়র্কে তাদের পৌঁছানোর পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখন সারা বিশ্বের নজর মার্কিন বিচার বিভাগের দিকে।

বাংলা৭১নিউজ/এএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com