ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতারণা ঠেকাতে হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’ ফিচার Logo জ্বালানি সংকট সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে : নৌপরিবহন মন্ত্রী Logo প্রকৃতির এক অন্যরকম সৌন্দর্য কাঁঠালিচাঁপা Logo এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের দল ঘোষণা বাংলাদেশের, আছেন কারা Logo এবার ওটিটিতে মুক্তি পাচ্ছে ‘জন নায়াগণ’ Logo মূল সড়কে হকার নয়, নীতিমালা মেনে পুনর্বাসন : ডিএসসিসি Logo ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে ওমানে হামলার হুমকি ট্রাম্পের Logo সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ছে! Logo স্বাধীনতা ভোগ করতে গিয়ে অন্যের স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না : গয়েশ্বর চন্দ্র রায় Logo খিচুরি বিতরণের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, গ্রেপ্তার মহিলা লীগ নেত্রী

অস্ট্রেলিয়ায় বন্দুক হামলার সন্দেহভাজনরা ভারতীয়-অস্ট্রেলীয় নাগরিক?

অস্ট্রেলিয়ায় সিডনির বন্ডাই বিচে ইহুদি উৎসবে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের জাতীয়তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তবে সরকারি তথ্য বলছে, হামলাকারীরা পাকিস্তানি নন।

ফিলিপাইনের অভিবাসন বিভাগের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত বাবা–ছেলের একজন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক এবং অন্যজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক।

ফিলিপাইনের অভিবাসন বিভাগের মুখপাত্র ডানা সান্দোভাল জানান, ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে এবং তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরাম অস্ট্রেলীয় পাসপোর্ট নিয়ে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর ফিলিপাইনে প্রবেশ করেছিলেন। সে সময় তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দাভাও প্রদেশের নাম উল্লেখ করা হয়।

দাভাও অবস্থিত মিন্দানাও দ্বীপে, যেখানে অতীতে ইসলামপন্থি বিদ্রোহীদের তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে। তবে ফিলিপাইনের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, ওই সফরের সময় এমন কোনো তথ্য ছিল না, যাতে বোঝা যায় এই দুই ব্যক্তি তাৎক্ষণিক বা গুরুতর কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন।

ফিলিপাইনের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র কর্নেলিও ভ্যালেন্সিয়া এএফপিকে বলেন, কেন তারা সেখানে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণও মেলেনি যে তারা ফিলিপাইনে কোনো সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মঙ্গলবার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে হামলাকারীরা ‘ইসলামিক স্টেটস’-এর মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিল।

 

পাকিস্তানি পরিচয়ে ভুল প্রচার, নিরপরাধ ব্যক্তির দুর্ভোগ

এদিকে হামলার পর ভারত-অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নাভিদ আকরাম’ নামে এক পাকিস্তানি ব্যক্তিকে হামলাকারী দাবি করে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জার্সি পরা ওই ব্যক্তির ছবি হাজার হাজারবার শেয়ার করা হয়, যা থেকে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ছড়াতে থাকে।

পরে জানা যায়, ছবিটি ছিল সিডনিতে বসবাসকারী ভিন্ন এক পাকিস্তানি নাগরিক নাভিদ আকরামের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া। তিনি এক ভিডিওতে বলেন, ‘আমার নামও নাভিদ আকরাম, কিন্তু আমি ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।’

তিনি এই ভুয়া প্রচার বন্ধে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং জানান, ভুল তথ্যের কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন।

এই নাভিদ আকরাম জানান, তিনি ২০১৮ সালে পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসেন এবং বর্তমানে একটি গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, ‘এই মিথ্যা প্রচার আমার ও আমার পরিবারের ভাবমূর্তি ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

ভয়াবহ হামলায় বহু হতাহত

রোববার সন্ধ্যায় বন্ডাই বিচে অনুষ্ঠিত হানুক্কা ইহুদি উৎসবে বাবা–ছেলে গুলি চালালে অন্তত ১৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হন আরও ৪২ জন।

এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ। হামলাকারীদের একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, অন্যজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সূত্র: এএফপি

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ

Tag :

প্রতারণা ঠেকাতে হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’ ফিচার

অস্ট্রেলিয়ায় বন্দুক হামলার সন্দেহভাজনরা ভারতীয়-অস্ট্রেলীয় নাগরিক?

আপডেট সময় ০৪:৪৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

অস্ট্রেলিয়ায় সিডনির বন্ডাই বিচে ইহুদি উৎসবে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের জাতীয়তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তবে সরকারি তথ্য বলছে, হামলাকারীরা পাকিস্তানি নন।

ফিলিপাইনের অভিবাসন বিভাগের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত বাবা–ছেলের একজন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক এবং অন্যজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক।

ফিলিপাইনের অভিবাসন বিভাগের মুখপাত্র ডানা সান্দোভাল জানান, ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে এবং তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরাম অস্ট্রেলীয় পাসপোর্ট নিয়ে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর ফিলিপাইনে প্রবেশ করেছিলেন। সে সময় তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দাভাও প্রদেশের নাম উল্লেখ করা হয়।

দাভাও অবস্থিত মিন্দানাও দ্বীপে, যেখানে অতীতে ইসলামপন্থি বিদ্রোহীদের তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে। তবে ফিলিপাইনের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, ওই সফরের সময় এমন কোনো তথ্য ছিল না, যাতে বোঝা যায় এই দুই ব্যক্তি তাৎক্ষণিক বা গুরুতর কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন।

ফিলিপাইনের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র কর্নেলিও ভ্যালেন্সিয়া এএফপিকে বলেন, কেন তারা সেখানে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণও মেলেনি যে তারা ফিলিপাইনে কোনো সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মঙ্গলবার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে হামলাকারীরা ‘ইসলামিক স্টেটস’-এর মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিল।

 

পাকিস্তানি পরিচয়ে ভুল প্রচার, নিরপরাধ ব্যক্তির দুর্ভোগ

এদিকে হামলার পর ভারত-অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নাভিদ আকরাম’ নামে এক পাকিস্তানি ব্যক্তিকে হামলাকারী দাবি করে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জার্সি পরা ওই ব্যক্তির ছবি হাজার হাজারবার শেয়ার করা হয়, যা থেকে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ছড়াতে থাকে।

পরে জানা যায়, ছবিটি ছিল সিডনিতে বসবাসকারী ভিন্ন এক পাকিস্তানি নাগরিক নাভিদ আকরামের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া। তিনি এক ভিডিওতে বলেন, ‘আমার নামও নাভিদ আকরাম, কিন্তু আমি ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।’

তিনি এই ভুয়া প্রচার বন্ধে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং জানান, ভুল তথ্যের কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন।

এই নাভিদ আকরাম জানান, তিনি ২০১৮ সালে পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসেন এবং বর্তমানে একটি গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, ‘এই মিথ্যা প্রচার আমার ও আমার পরিবারের ভাবমূর্তি ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

ভয়াবহ হামলায় বহু হতাহত

রোববার সন্ধ্যায় বন্ডাই বিচে অনুষ্ঠিত হানুক্কা ইহুদি উৎসবে বাবা–ছেলে গুলি চালালে অন্তত ১৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হন আরও ৪২ জন।

এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ। হামলাকারীদের একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, অন্যজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সূত্র: এএফপি

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ