রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ১ হাজার মানুষের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সংসদ ভবনে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে জলবায়ু প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরুল হক নুরের জলবায়ু স্থিতিস্থাপক সমাজ গড়তে নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না : সড়কমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন, ১৮ কোটি মানুষ: বিরোধীদলীয় নেতা মহাকাশ গবেষণায় আধুনিক ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান গড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সাবেক কমিশনার হাবিবসহ ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ : গৃহায়ন মন্ত্রী

ডহুরী খালের ভাঙনে হুমকিতে ১৩০ বছরের পুরাতন বিদ্যালয়-কবরস্থান-ব্রিজ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে

মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তালতলা ডহুরী খালের ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ১৩০ বছরের পুরোনো বিদ্যালয়, কবরস্থান ও ব্রিজ। বিলীনের পথে সরকারি সড়ক। একের পর এক বিলীন হচ্ছে ফসলের জমি, বসতভিটা। বর্ষা শুরুর আগেই ভাঙন দেখা দেওয়ায় খালের দু’পাড়ে মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। খালের স্রোত এবং বাল্কহেড ট্রলারের ঢেউয়ে ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই খালে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও অহরহ চলছে বাল্কহেড। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই খালের টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও সিরাজদিখান উপজেলার বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ভাঙন চলছে। ওই খালের ডহুরি এলাকা হতে তালতলা পর্যন্ত লৌহজং উপজেলার ডহুরি, খেদেরপাড়া, কাজির গাঁও, সিরাজদিখান উপজেলার ফেগুনসার, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কুন্ডের বাজার এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি। ১৩০ বছরের পুরোনো লৌহজংয়ের কাজির গাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০০ ফুটের মধ্যে চলছে তীব্র ভাঙন।

 বিগত দুই বছরের খালের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ওই বিদ্যালয়ের মাঠটি। বিদ্যালয়ের পাশের খেদেরপাড়া কবরস্থানটিরও ৫০ ফিটের মধ্যে ভাঙন চলছে। কাজিরগাঁও গ্রামের একমাত্র সড়কটিও খালের ভাঙনে বিলীনের পথে।

কাজিরগাঁও ছাড়াও বড় মোকাম , হাড়িদিয়া, বরুদিয়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। এছাড়া টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কুন্ডের বাজার বেইলি সেতুর নিচে খালের দু’পাশে তীব্র স্রোতের কারণে মাটি ধসে পড়ছে।

এর মধ্যে অহরহ চলছে বালুবাহী বাল্কহেড যার ঢেউয়ে ভাঙন ঝুঁকি বাড়ছে। সেতুর পিলারের আশপাশের মাটি সরে গেছে। সেতুর পূর্ব উত্তর পাশে কয়েকটি বাড়ি কয়েক বছর ধরে ভাঙছে। ওই এলাকায় সেতুর দুটি পাশে তীব্র ভাঙন চলায় হুমকির মুখে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি। কাজিরগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের আগেও ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় ওই খাল। 

ওই বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আবুল হোসেন সেন্টু জানান, আমাদের এই স্কুলটি ১৮৯৫ সালে স্থাপিত হয়। এর আগেও স্কুলের দুটি ভবন খালে ভেঙে যায়। এখন নতুন ভবনটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। যদি সরকার ব্যবস্থা না নেয় তবে যেকোনো সময় আগের ভবনের মতো এই ভবনটিও বিলীন হয়ে যাবে।

মোহাম্মদ আব্দুল সালাম বলেন, আমার বাবা মৃত জিএস আলাউদ্দিন এই স্কুলের ছাত্র ছিল। তিনি মারা গেছেন। তাই স্কুলটার প্রতি আমাদের অনেক দরদ। অনেক বহু পুরানো স্কুল এই এলাকার ছাত্রছাত্রীরা এই স্কুলেই লেখাপড়া করে। এছাড়া বিকল্প কোন স্কুল নাই। আমাদের কাজীরগাঁও জামে মসজিদের জমিটিরও অর্ধেকেরও বেশি  ইতিমধ্যে খালের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

সাবেক ছাত্র সিফাত বলেন, স্কুলের পাশেই খালে ভাঙন চলছে। স্কুলের মাঠটিতে আমরা তিন বছর আগেও খেলাধুলা করেছি। কিন্তু এখন সেই মাঠটি ভেঙে শেষ হয়ে গেছে। স্কুলের পাশ দিয়ে বইছে পানির তীব্র স্রোত। যে কোনো মুহূর্তে এই স্কুলটিও বিলীন হয়ে যাবে। 

কাজিরগাঁও গ্রামের হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের গ্রামের একমাত্র সড়কটি ভেঙে যাচ্ছে। কাজিরগাঁও ছাড়াও বোন সামন্ত, বড় মোকাম, হাড়দিয়া, বরুদিয়া এলাকার কয়েক হাজার লোকের যাতায়াত করে সড়কটি দিয়ে। আগে গাড়ি চলাচল করলেও সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ  হয়ে গেছে। 

 সিরাজদিখান উপজেলার ফেগুনাসার  গ্রামের আল আমিন বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসমেই আমাদের এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এবার সেতু ঝুঁকিতে পড়েছে। আমরা প্রশাসনের কঠোর ও টেকসই ব্যবস্থার দাবি জানাই। 

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নেছার উদ্দিন বলেন, আমি নিজে বেশ কয়েকবার স্কুলটি পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ার এসে পরিদর্শন করে গেছেন। আমার জানা মতে ওখানে জিও ব্যাগ ভর্তি বালু ফেলানোর জন্য একটি বরাদ্দও হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নায়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী  মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, স্কুলের পাশে ১০০ মিটার একটি বাধ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু ঈদের ছুটির কারণে বালু কাটা বন্ধ থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ওই খালের যে সমস্ত অংশে ভাঙন বেশি আমরা ওই সমস্ত অংশে ভাঙন রোধে কাজ করছি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com