ঢাকা ১২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ Logo সাংবাদিক আমির খসরুর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর গভীর শোক Logo আটক ৪ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ Logo সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, আটকে পড়েছেন পর্যটকেরা Logo সৌদিতে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক প্রকাশ Logo মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: জামায়াত আমির Logo ম্যানসিটি ম্যাচের আগে বড় জয় পিএসজির, শীর্ষে মোনাকো Logo স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণ-হত্যার দিনও মাদকাসক্ত ছিলেন সুমন Logo মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ Logo মাটির কাজ শেষে রং-তুলির টান, প্রাণ পাচ্ছে প্রতিমা

বাদামের বাম্পার ফলন, খুশি ইদ্রিস মিয়া

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নন্দনালী এলাকার মৌসুমি কৃষক ইদ্রিস মিয়ার মুখে হাসি ফুটেছে।কারণ, চলতি রবি মৌসুমে তার বাদামের খেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। শুধু ইদ্রিস মিয়াই নয়, উপজেলাজুড়ে বাদামের ভালো ফলন পেয়ে খুশি এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রবি ও খরিপ-১—এই দুই মৌসুমে বাদামের চাষ হয়। তবে বিশেষ করে রবি মৌসুমে বাদাম চাষ অধিক লাভজনক হয়ে থাকে। চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

এ বছর মাইচর ও বাসন্তি জাতের বাদাম স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শলিয়া, মদনডাঙ্গা, গন্ডগোহালি, বৈঠাখালী ও উদয়পুরসহ বালুমাটি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কৃষকরা আগ্রহভরে বাদাম চাষে ঝুঁকেছেন।

বাদামচাষি আমিনুল রহমান, বৈঠাখালী গ্রামের বাসিন্দা, বলেন, গত বছর অল্প পরিমাণে বাদাম চাষ করেছিলাম, লাভ ভালো হওয়ায় এবার দুই বিঘা জমিতে বাদাম করেছি। ফলন দেখে খুবই সন্তুষ্ট, আশাকরি ভালো দাম পাবো।

রফিকুল ইসলাম শলিয়া গ্রামের আরেক কৃষক বলেন, আমাদের এলাকায় বালুমাটি, যা বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। অন্য ফসলের চেয়ে বাদামে খরচ কম, লাভ বেশি। সরকার যদি সার ও বীজের আরও সহজ সহায়তা দেয়, তাহলে আমরা আরও বড় পরিসরে চাষ করতে পারবো।

একই সুরে কথা বলেন শাহানাজ বেগম, মদনডাঙ্গা গ্রামের একজন নারী কৃষক। তিনি জানান, আমি নিজের ও স্বামীর সহযোগিতায় এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। এর মাধ্যমে সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসবে বলে মনে করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষি বিভাগ কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতিতে বাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। মাঠপর্যায়ে পরামর্শ প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর বাদামের রেকর্ড ফলন হবে বলে আশা করছি।

বাদাম চাষের এই অগ্রগতি আত্রাই উপজেলার কৃষি খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। কৃষকরা যেমন আশাবাদী, তেমনি কৃষি বিভাগও ভবিষ্যতে বাদাম চাষ আরও বিস্তারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আগ্রহী।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ

Tag :

ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ

বাদামের বাম্পার ফলন, খুশি ইদ্রিস মিয়া

আপডেট সময় ০৯:০৬:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নন্দনালী এলাকার মৌসুমি কৃষক ইদ্রিস মিয়ার মুখে হাসি ফুটেছে।কারণ, চলতি রবি মৌসুমে তার বাদামের খেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। শুধু ইদ্রিস মিয়াই নয়, উপজেলাজুড়ে বাদামের ভালো ফলন পেয়ে খুশি এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রবি ও খরিপ-১—এই দুই মৌসুমে বাদামের চাষ হয়। তবে বিশেষ করে রবি মৌসুমে বাদাম চাষ অধিক লাভজনক হয়ে থাকে। চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

এ বছর মাইচর ও বাসন্তি জাতের বাদাম স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শলিয়া, মদনডাঙ্গা, গন্ডগোহালি, বৈঠাখালী ও উদয়পুরসহ বালুমাটি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কৃষকরা আগ্রহভরে বাদাম চাষে ঝুঁকেছেন।

বাদামচাষি আমিনুল রহমান, বৈঠাখালী গ্রামের বাসিন্দা, বলেন, গত বছর অল্প পরিমাণে বাদাম চাষ করেছিলাম, লাভ ভালো হওয়ায় এবার দুই বিঘা জমিতে বাদাম করেছি। ফলন দেখে খুবই সন্তুষ্ট, আশাকরি ভালো দাম পাবো।

রফিকুল ইসলাম শলিয়া গ্রামের আরেক কৃষক বলেন, আমাদের এলাকায় বালুমাটি, যা বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। অন্য ফসলের চেয়ে বাদামে খরচ কম, লাভ বেশি। সরকার যদি সার ও বীজের আরও সহজ সহায়তা দেয়, তাহলে আমরা আরও বড় পরিসরে চাষ করতে পারবো।

একই সুরে কথা বলেন শাহানাজ বেগম, মদনডাঙ্গা গ্রামের একজন নারী কৃষক। তিনি জানান, আমি নিজের ও স্বামীর সহযোগিতায় এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। এর মাধ্যমে সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসবে বলে মনে করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষি বিভাগ কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতিতে বাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। মাঠপর্যায়ে পরামর্শ প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর বাদামের রেকর্ড ফলন হবে বলে আশা করছি।

বাদাম চাষের এই অগ্রগতি আত্রাই উপজেলার কৃষি খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। কৃষকরা যেমন আশাবাদী, তেমনি কৃষি বিভাগও ভবিষ্যতে বাদাম চাষ আরও বিস্তারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আগ্রহী।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ