সড়কের বিভাজকে নতুন রং, পুরোনো স্থাপনায় তুলির ছোঁয়া। কোথাও চলছে সড়ক সংস্কার, কোথাও পরিচ্ছন্নতার কাজ। নগরীকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে ব্যস্ত কর্মীরা। তাদের তুলির আঁচড় ও শ্রমে বদলে যাচ্ছে রাজশাহীর চেনা চিত্র।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নগরজুড়ে চলছে এই প্রস্তুতি। সাজসজ্জার পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাদের প্রত্যাশা, প্রিয় নেতাকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে বরণ করবেন।
আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর। এ উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার কাজ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিনব্যাপী নগরীর বিমানচত্বর এলাকায় দেখা যায়, রংমিস্ত্রিরা বিভিন্ন স্থাপনায় রং করছেন। কেউ তুলির আঁচড়ে পুরোনো স্থাপনাকে নতুন রূপ দিচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত রঙের শেষ প্রলেপ দিতে। পাশেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করছেন। সবার লক্ষ্য, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে নগরীকে আরও পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলা।
রংমিস্ত্রি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীতে আসবেন। তাকে স্বাগত জানাতে আমরা তুলির আঁচড়ে নগরীকে রাঙিয়ে তুলছি। কাজটি করতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী এসে আমাদের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী দেখুন।’
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে রাজশাহী সিটি করপোরেশনও (রাসিক) পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম জোরদার করেছে। সড়ক বিভাজকে রং করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনার সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ চলছে। নগরীর পরিবেশ উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের রাজশাহীতে এটিই প্রথম সফর। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ, আবেগ ও গৌরবের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে রাজশাহীবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করছি, তার এই সফর রাজশাহীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীতে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার কাজও জোরদার করেছে সিটি করপোরেশন। বিপুল জনসমাগম ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে চান তারা।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে বরণ করে নিতে রাজশালীবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন নগরীর মাধ্যমে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে এবং সফরটি স্মরণীয় করে রাখতে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। তার মতে, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও সফরটি নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসতে পারে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহীতে আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আবেগ ও অনুভূতির বিষয়। তাকে একনজর দেখার জন্য রাজশালীবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ জোরদার করা হয়েছে। সড়ক বিভাজকে রং করা, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার এবং পরিবেশ উন্নয়নের কাজ চলছে।
জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ, আবেগ ও গর্বের বিষয়। তাকে বরণ করে নিতে রাজশালীবাসীর মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তা নগরীর সাজসজ্জা ও মানুষের প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠছে। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তাদের হৃদয়ে রয়েছে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রত্যাশা।’
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















