ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রংপুরে নারীদের জন্য তৈরি কারখানা পেল বিশ্বের সেরা ভবনের স্বীকৃতি Logo ইউক্রেনে রুশ হামলায় বিদ্যুৎহীন কয়েক লাখ বাসিন্দা, নিহত ৮ Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নীত করবে : জহির উদ্দিন স্বপন Logo বেলজিয়ামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ Logo সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড : যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo ১০০ বছর পর ফ্রান্সে প্রদর্শনীতে উঠছে বিরল গোলাপি হীরা Logo নিয়ম বহির্ভূত যা আছে তাই সরকার পরিচ্ছন্ন করবে: কৃষিমন্ত্রী Logo গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিলের ঘটনায় ১৪ জন রিমান্ডে Logo প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার পদ থেকে সরিয়ে মাহফুজুরকে তথ্য কমিশনার নিয়োগ Logo গাজীপুরে ইবনে সিনা ওষুধ কারখানায় আগুন

১০০ বছর পর ফ্রান্সে প্রদর্শনীতে উঠছে বিরল গোলাপি হীরা

প্রায় ১০০ বছর আগে চুরি হয়ে গিয়েছিল এই বিরল গোলাপি হীরা ‘গ্রঁ কোঁদে’। উদ্ধারের ১০০ বছর পর আবারও জনসাধারণের সামনে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে হীরাটি।

১৯২৬ সালে ফ্রান্সের একটি প্রাসাদ থেকে চুরি হয় নয় ক্যারেটের এই হীরাটি। এটি দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক রহস্যের সাক্ষী। এবার ফ্রান্সের শাতো দ্য শঁতিলির কোঁদে জাদুঘরে হীরাটি প্রদর্শন করা হবে।

নাশপাতির মতো আকৃতির এই হীরাটি ১৯২৬ সালের অক্টোবরে শাতো দ্য শঁতিলি থেকে রাতের আঁধারে চুরি হয়।

চোরেরা হীরাটি একটি ফাঁপা আপেলের ভেতরে লুকিয়ে রেখেছিল। চুরির কয়েক সপ্তাহ পর হীরাটি উদ্ধার করা হয়। যে হোটেলে চোরেরা লুকিয়ে ছিল, সেখানকার এক ক্ষুধার্ত পরিচারিকা আপেলটিতে কামড় দিতে গিয়ে হীরাটি খুঁজে পান।

ফরাসি বিপ্লবের সময় ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া অল্প কয়েকটি রাজকীয় গহনার মধ্যে এটি অন্যতম।

দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী পর বিরল এই রত্নটি আবারও জনসাধারণের দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত শাতো দ্য শঁতিলির কোঁদে জাদুঘরে এটি প্রদর্শন করা হবে।

জাদুঘরের পরিচালক ম্যাথিউ ডেলডিক বলেন, আপেলের ভেতরে হীরা লুকিয়ে রাখার ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও, সে সময়ের সংবাদপত্রে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবে প্রায় ১০০ বছর পর হীরাটি আবার প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে গত ১২ মাসে ইউরোপের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে প্যারিসের লুভ্‌র জাদুঘর থেকে দিনের আলোয় মূল্যবান গয়না চুরির ঘটনাও রয়েছে। হীরাটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে ডেলডিক বলেন, এর বীমার মূল্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে হীরাটিকে সহজে শনাক্ত করার জন্য এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করা হয়েছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রদর্শনীতে হীরাটির ইতিহাস, এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার ফলাফল এবং চুরির ঘটনা সম্পর্কিত আগে অপ্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথি তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে দর্শকেরা বিরল এই রত্নটির অতীত সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।

প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া গোলাপি হীরা অত্যন্ত বিরল। এ ধরনের হীরা নিলামে প্রায়ই কয়েক কোটি ডলারে বিক্রি হয়। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবি’সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে একটি গোলাপি হীরা নিলামে ৭ কোটি ১২০ লাখ ডলারে (৫ কোটি ৩৬ লাখ পাউন্ড) বিক্রি হয়েছিল।

তবে ‘গ্রাঁ কোঁদে’ নামের গোলাপি হীরাটি কোথা থেকে এসেছে, তা এখনো রহস্য রয়ে গেছে। শাতো দ্য শঁতিলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘গ্রাঁ কোঁদে’ গোলাপি হীরাটির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৭৪০ সালে তৈরি একটি সম্পত্তির তালিকায়। কোঁদে-র রাজপুত্র লুই অঁরি দ্য বুরবোঁর মৃত্যুর পর তালিকাটি তৈরি করা হয়েছিল।

পরে হীরাটি ফ্রান্সের রাজা লুই ফিলিপের স্ত্রী রানি মারি-আমেলির সংগ্রহে আসে। এরপর এটি তাঁদের ছেলে অঁরি, ডিউক অব ওমালের সংগ্রহের অংশ হয়।

অঁরি হীরাটিসহ হাজার হাজার শিল্পকর্ম ও পাণ্ডুলিপি ফ্রান্সের ইন্সটিটিউট ডি ফ্রান্সকে দান করেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান প্যারিসের প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত শাতো দ্য শঁতিলির মালিক। দান করা এসব মূল্যবান সংগ্রহ নিয়েই পরে গড়ে ওঠে কোঁদে জাদুঘর।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

রংপুরে নারীদের জন্য তৈরি কারখানা পেল বিশ্বের সেরা ভবনের স্বীকৃতি

১০০ বছর পর ফ্রান্সে প্রদর্শনীতে উঠছে বিরল গোলাপি হীরা

আপডেট সময় ০৬:২৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রায় ১০০ বছর আগে চুরি হয়ে গিয়েছিল এই বিরল গোলাপি হীরা ‘গ্রঁ কোঁদে’। উদ্ধারের ১০০ বছর পর আবারও জনসাধারণের সামনে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে হীরাটি।

১৯২৬ সালে ফ্রান্সের একটি প্রাসাদ থেকে চুরি হয় নয় ক্যারেটের এই হীরাটি। এটি দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক রহস্যের সাক্ষী। এবার ফ্রান্সের শাতো দ্য শঁতিলির কোঁদে জাদুঘরে হীরাটি প্রদর্শন করা হবে।

নাশপাতির মতো আকৃতির এই হীরাটি ১৯২৬ সালের অক্টোবরে শাতো দ্য শঁতিলি থেকে রাতের আঁধারে চুরি হয়।

চোরেরা হীরাটি একটি ফাঁপা আপেলের ভেতরে লুকিয়ে রেখেছিল। চুরির কয়েক সপ্তাহ পর হীরাটি উদ্ধার করা হয়। যে হোটেলে চোরেরা লুকিয়ে ছিল, সেখানকার এক ক্ষুধার্ত পরিচারিকা আপেলটিতে কামড় দিতে গিয়ে হীরাটি খুঁজে পান।

ফরাসি বিপ্লবের সময় ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া অল্প কয়েকটি রাজকীয় গহনার মধ্যে এটি অন্যতম।

দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী পর বিরল এই রত্নটি আবারও জনসাধারণের দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত শাতো দ্য শঁতিলির কোঁদে জাদুঘরে এটি প্রদর্শন করা হবে।

জাদুঘরের পরিচালক ম্যাথিউ ডেলডিক বলেন, আপেলের ভেতরে হীরা লুকিয়ে রাখার ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও, সে সময়ের সংবাদপত্রে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবে প্রায় ১০০ বছর পর হীরাটি আবার প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে গত ১২ মাসে ইউরোপের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে প্যারিসের লুভ্‌র জাদুঘর থেকে দিনের আলোয় মূল্যবান গয়না চুরির ঘটনাও রয়েছে। হীরাটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে ডেলডিক বলেন, এর বীমার মূল্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে হীরাটিকে সহজে শনাক্ত করার জন্য এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করা হয়েছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রদর্শনীতে হীরাটির ইতিহাস, এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার ফলাফল এবং চুরির ঘটনা সম্পর্কিত আগে অপ্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথি তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে দর্শকেরা বিরল এই রত্নটির অতীত সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।

প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া গোলাপি হীরা অত্যন্ত বিরল। এ ধরনের হীরা নিলামে প্রায়ই কয়েক কোটি ডলারে বিক্রি হয়। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবি’সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে একটি গোলাপি হীরা নিলামে ৭ কোটি ১২০ লাখ ডলারে (৫ কোটি ৩৬ লাখ পাউন্ড) বিক্রি হয়েছিল।

তবে ‘গ্রাঁ কোঁদে’ নামের গোলাপি হীরাটি কোথা থেকে এসেছে, তা এখনো রহস্য রয়ে গেছে। শাতো দ্য শঁতিলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘গ্রাঁ কোঁদে’ গোলাপি হীরাটির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৭৪০ সালে তৈরি একটি সম্পত্তির তালিকায়। কোঁদে-র রাজপুত্র লুই অঁরি দ্য বুরবোঁর মৃত্যুর পর তালিকাটি তৈরি করা হয়েছিল।

পরে হীরাটি ফ্রান্সের রাজা লুই ফিলিপের স্ত্রী রানি মারি-আমেলির সংগ্রহে আসে। এরপর এটি তাঁদের ছেলে অঁরি, ডিউক অব ওমালের সংগ্রহের অংশ হয়।

অঁরি হীরাটিসহ হাজার হাজার শিল্পকর্ম ও পাণ্ডুলিপি ফ্রান্সের ইন্সটিটিউট ডি ফ্রান্সকে দান করেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান প্যারিসের প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত শাতো দ্য শঁতিলির মালিক। দান করা এসব মূল্যবান সংগ্রহ নিয়েই পরে গড়ে ওঠে কোঁদে জাদুঘর।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ