ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রাজধানীতে বাসের রুট কমে হচ্ছে ৩২, এক রুটে এক কম্পানি Logo মেসির অ্যাসিস্টে টানা তৃতীয়বার প্লে-অফে মায়ামি Logo বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের বিমানকর্মীদের নিয়ে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স Logo ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ: নিয়োগ পেলেন ১,৭০২ জন Logo ১২ দিন বন্ধ থাকবে বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী স্থলবন্দর Logo মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা জরুরি: আইএমএফ Logo জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, অটোরিকশাচালক আহত Logo সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি Logo জার্মানিতে আগুনে দগ্ধ হয়ে ৩ ভারতীয়র মৃত্যু Logo নোবেল পুরস্কারের পেজে রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষী চিঠি প্রকাশ

নোবেল পুরস্কারের পেজে রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষী চিঠি প্রকাশ

দুই গোলার্ধের দুই শ্রেষ্ঠ চিন্তানায়কের ভাবনার মেলবন্ধন কেমন ছিল? সেই কৌতূহল মেটাতেই যেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের চিঠি আদান-প্রদানের এক ঐতিহাসিক দলিল সামনে এনেছে নোবেল প্রাইজ কর্তৃপক্ষ। ১৯১২ সালের ১৩ অক্টোবর লেখা চিঠিটির ছবি প্রকাশ পাওয়ায়, এই দুই মনীষীর দর্শন এবং তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে জ্ঞানচর্চার দুয়ার উন্মোচিত হলো।

চিঠিটি কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত বার্ট্রান্ড রাসেল আর্কাইভস থেকে সংগৃহীত। নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ চিঠিটির ছবি প্রকাশ করে পাঠকদের এটি দেখার আহ্বান জানিয়েছে।

চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ জানান, তিনি সম্প্রতি রাসেলের ‘দ্য এসেন্স অব রিলিজিয়ন’ শীর্ষক প্রবন্ধটি পড়েছেন। প্রবন্ধটি তার মনে করিয়ে দেয় প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ উপনিষদের একটি শ্লোকের কথা।

চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ রোমান হরফে সংস্কৃত শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন। পাশাপাশি এর ইংরেজি অনুবাদ ও দার্শনিক ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন। তার ব্যাখ্যায় উঠে আসে মানুষের সীমাবদ্ধ সত্তা অতিক্রম করে অসীমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ভাবনা। রবীন্দ্রনাথের মতে, মানুষ যখন নিজের সংকীর্ণ সত্তার গণ্ডি পেরিয়ে অসীমের আনন্দ উপলব্ধি করতে পারে, তখনই সে জাগতিক ভয় থেকে মুক্তি লাভ করে।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ১৯১২ সালে ইংল্যান্ড সফরের সময় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে রাসেলের সাক্ষাৎ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে চিন্তাভাবনার আদান-প্রদানের নিদর্শন হিসেবে এই চিঠি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদসহ তার সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিতে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ছিলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী। অন্যদিকে বার্ট্রান্ড রাসেল ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।

এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো এই চিঠি দুই মনীষীর চিন্তার জগৎ এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দার্শনিক সংলাপের এক মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

রাজধানীতে বাসের রুট কমে হচ্ছে ৩২, এক রুটে এক কম্পানি

নোবেল পুরস্কারের পেজে রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষী চিঠি প্রকাশ

আপডেট সময় ১০:২৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

দুই গোলার্ধের দুই শ্রেষ্ঠ চিন্তানায়কের ভাবনার মেলবন্ধন কেমন ছিল? সেই কৌতূহল মেটাতেই যেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের চিঠি আদান-প্রদানের এক ঐতিহাসিক দলিল সামনে এনেছে নোবেল প্রাইজ কর্তৃপক্ষ। ১৯১২ সালের ১৩ অক্টোবর লেখা চিঠিটির ছবি প্রকাশ পাওয়ায়, এই দুই মনীষীর দর্শন এবং তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে জ্ঞানচর্চার দুয়ার উন্মোচিত হলো।

চিঠিটি কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত বার্ট্রান্ড রাসেল আর্কাইভস থেকে সংগৃহীত। নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ চিঠিটির ছবি প্রকাশ করে পাঠকদের এটি দেখার আহ্বান জানিয়েছে।

চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ জানান, তিনি সম্প্রতি রাসেলের ‘দ্য এসেন্স অব রিলিজিয়ন’ শীর্ষক প্রবন্ধটি পড়েছেন। প্রবন্ধটি তার মনে করিয়ে দেয় প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ উপনিষদের একটি শ্লোকের কথা।

চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ রোমান হরফে সংস্কৃত শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন। পাশাপাশি এর ইংরেজি অনুবাদ ও দার্শনিক ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন। তার ব্যাখ্যায় উঠে আসে মানুষের সীমাবদ্ধ সত্তা অতিক্রম করে অসীমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ভাবনা। রবীন্দ্রনাথের মতে, মানুষ যখন নিজের সংকীর্ণ সত্তার গণ্ডি পেরিয়ে অসীমের আনন্দ উপলব্ধি করতে পারে, তখনই সে জাগতিক ভয় থেকে মুক্তি লাভ করে।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ১৯১২ সালে ইংল্যান্ড সফরের সময় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে রাসেলের সাক্ষাৎ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে চিন্তাভাবনার আদান-প্রদানের নিদর্শন হিসেবে এই চিঠি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদসহ তার সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিতে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ছিলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী। অন্যদিকে বার্ট্রান্ড রাসেল ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।

এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো এই চিঠি দুই মনীষীর চিন্তার জগৎ এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দার্শনিক সংলাপের এক মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ