ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ২৪ ঘণ্টায়ও নেভেনি চকবাজারের আগুন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ‘অজানা’ Logo নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর : মুচলেকায় প্রধান আসামির জামিন Logo লটারির মাধ্যমে প্রকৌশলীদের বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে: গণপূর্ত মন্ত্রী Logo দিল্লিতে পুলিশের ভ্যানে নারী বিক্ষোভকারীদের মারধর ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ Logo ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯৫৪ জন Logo ছাত্ররা জীবন না দিলে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারতেন না: নাহিদ ইসলাম Logo জুলাই গণহত্যার বিচারের ভয়েই প্রবাসে বসে উসকানি-সন্ত্রাস চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ: Logo ট্রাম্পের এশিয়া সফরের আগেই পিয়ংইয়ংয়ে মারণাস্ত্রের মহড়া Logo স্বর্ণের বারে তামা, প্রতারণার শিকার তাঁতীবাজারের ব্যবসায়ী Logo ঢাকায় ৭ নভেম্বর গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশ, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী : শাহে আলম

স্বর্ণের বারে তামা, প্রতারণার শিকার তাঁতীবাজারের ব্যবসায়ী

রাজধানীর পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে বিদেশ থেকে আনা স্বর্ণের বার নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ৫০ গ্রাম ওজনের একটি বারের ভেতরে স্বর্ণের পরিবর্তে তামা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী।

বারটির গায়ে ‘সুইজ ৫০ গ্রাম গোল্ড’ (Swiss 50g Gold) লেখা এবং হলমার্কসদৃশ চিহ্ন থাকায় বাইরে থেকে দেখে সেটিকে নকল বলে বোঝা কঠিন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা দেখা যায়। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বারটির বাইরের আবরণ ও ফিনিশিং এতটাই নিখুঁত যে প্রথম দেখায় এটিকে আসল স্বর্ণের বার বলেই মনে হতে পারে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, নকল ওই স্বর্ণের বারে খোদাই করে ‘সুইজ ৫০ গ্রাম গোল্ড’ (Swiss 50g Gold) এবং Swiss Made লেখা রয়েছে।

এতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের হলমার্কও দেওয়া আছে।

নিখুঁত ফিনিশিং দেখে ব্যবসায়ীদের ধারণা, দেশের বাইরে তৈরি তামার পাতের ওপর অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে স্বর্ণের প্রলেপ বা পাত বসিয়ে এই প্রতারণা করা হয়েছে। দেশীয়ভাবে এ ধরনের নিখুঁত ফিনিশিং দেওয়া সম্ভব নয়। চক্রটি বিদেশ থেকে বা আন্তর্জাতিক কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এগুলো দেশে আনছে এবং এর সঙ্গে দেশের কিছু অসাধু চক্র জড়িত রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, যেমন দুবাই, কুয়েত ও সৌদি আরব এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে স্বর্ণের বার আসে। বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম, প্যাকেট ও হলমার্কের মতো চিহ্ন দেখে অনেক সময় ক্রেতারা পণ্যের মান সম্পর্কে ধারণা নেন। কিন্তু এসব চিহ্ন নকল করা হলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের বারের গায়ে লেখা ওজন, বিশুদ্ধতার মাত্রা, প্রস্তুতকারকের নাম কিংবা উৎপত্তির দেশের পরিচয় একা কোনো পণ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে না। একইভাবে অক্ষত প্যাকেট ও চকচকে ফিনিশিংও আসল স্বর্ণ নিশ্চয়তা নয়।

এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে স্বর্ণের বার কেনার আগে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই এবং পণ্যের যথাযথ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু প্যাকেট, ব্র্যান্ডের নাম বা হলমার্ক দেখে স্বর্ণের বার কেনার সিদ্ধান্ত না নিয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগারে এর বিশুদ্ধতা ও উপাদান যাচাই করা জরুরি।

তাঁতীবাজারের এ ঘটনা স্বর্ণের বার কেনাবেচায় পণ্যের সত্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

 

Tag :

২৪ ঘণ্টায়ও নেভেনি চকবাজারের আগুন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ‘অজানা’

স্বর্ণের বারে তামা, প্রতারণার শিকার তাঁতীবাজারের ব্যবসায়ী

আপডেট সময় ০৫:০৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে বিদেশ থেকে আনা স্বর্ণের বার নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ৫০ গ্রাম ওজনের একটি বারের ভেতরে স্বর্ণের পরিবর্তে তামা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী।

বারটির গায়ে ‘সুইজ ৫০ গ্রাম গোল্ড’ (Swiss 50g Gold) লেখা এবং হলমার্কসদৃশ চিহ্ন থাকায় বাইরে থেকে দেখে সেটিকে নকল বলে বোঝা কঠিন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা দেখা যায়। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বারটির বাইরের আবরণ ও ফিনিশিং এতটাই নিখুঁত যে প্রথম দেখায় এটিকে আসল স্বর্ণের বার বলেই মনে হতে পারে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, নকল ওই স্বর্ণের বারে খোদাই করে ‘সুইজ ৫০ গ্রাম গোল্ড’ (Swiss 50g Gold) এবং Swiss Made লেখা রয়েছে।

এতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের হলমার্কও দেওয়া আছে।

নিখুঁত ফিনিশিং দেখে ব্যবসায়ীদের ধারণা, দেশের বাইরে তৈরি তামার পাতের ওপর অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে স্বর্ণের প্রলেপ বা পাত বসিয়ে এই প্রতারণা করা হয়েছে। দেশীয়ভাবে এ ধরনের নিখুঁত ফিনিশিং দেওয়া সম্ভব নয়। চক্রটি বিদেশ থেকে বা আন্তর্জাতিক কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এগুলো দেশে আনছে এবং এর সঙ্গে দেশের কিছু অসাধু চক্র জড়িত রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, যেমন দুবাই, কুয়েত ও সৌদি আরব এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে স্বর্ণের বার আসে। বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম, প্যাকেট ও হলমার্কের মতো চিহ্ন দেখে অনেক সময় ক্রেতারা পণ্যের মান সম্পর্কে ধারণা নেন। কিন্তু এসব চিহ্ন নকল করা হলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের বারের গায়ে লেখা ওজন, বিশুদ্ধতার মাত্রা, প্রস্তুতকারকের নাম কিংবা উৎপত্তির দেশের পরিচয় একা কোনো পণ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে না। একইভাবে অক্ষত প্যাকেট ও চকচকে ফিনিশিংও আসল স্বর্ণ নিশ্চয়তা নয়।

এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে স্বর্ণের বার কেনার আগে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই এবং পণ্যের যথাযথ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু প্যাকেট, ব্র্যান্ডের নাম বা হলমার্ক দেখে স্বর্ণের বার কেনার সিদ্ধান্ত না নিয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগারে এর বিশুদ্ধতা ও উপাদান যাচাই করা জরুরি।

তাঁতীবাজারের এ ঘটনা স্বর্ণের বার কেনাবেচায় পণ্যের সত্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ