ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চট্টগ্রামে সোনার দোকানের শোকেসে ঝুলছিল ১৪ ফুট লম্বা অজগর Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ করা হবে: আইনমন্ত্রী Logo আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা নেই: উপদেষ্টা জাহেদ Logo এল নিনোর কারণে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ব্যাহত হতে পারে Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার: মীর শাহে আলম Logo বাংলাদেশের পাশে থাকার জোরালো প্রতিশ্রুতি বিশ্বব্যাংকের: অর্থমন্ত্রী Logo রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালসহ ৮ জনের ১৪ বছরের কারাদণ্ড Logo এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ কখন, যা জানা গেল Logo গাজীপুরে ৬ সিএনজি স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ২ কোটি টাকা জরিমানা Logo এ এক ‘অচেনা মিরপুর’, যেভাবে বদলে দিচ্ছেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম

চার কোটি টাকার সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থার নেই সুফল, ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের অভাবে কষ্টে রোগীরা

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক। তবে প্রয়োজনীয় হিউমিডিফায়ার বোতল ও ফ্লোমিটারের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে রোগীদের অক্সিজেন সেবা। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এসব যন্ত্রাংশের ঘাটতির পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার একাধিক আউটারও অচল হয়ে পড়ে আছে।

হাসপাতালের ১০টি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের কাউকে কাউকে সচল অক্সিজেন-সংযুক্ত বেডের পাশে মেঝেতে পাটি বিছিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। কোথাও অন্য রোগীর বেডের নিচে বসিয়েও অক্সিজেন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সেবা পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের ১০ নম্বর ওয়ার্ড ও মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সংকট বেশি। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১৮টি বেডের বিপরীতে সচল হিউমিডিফায়ার ও ফ্লোমিটার রয়েছে মাত্র দুটিতে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ২৮টি বেডের বিপরীতে সচল রয়েছে পাঁচটি। এ ছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২০টি বেডের মধ্যে ছয়টির অক্সিজেন সংযোগ অচল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। অন্য ওয়ার্ডগুলোতেও প্রায় একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন আব্বাস বলেন, তাঁর রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। নির্দিষ্ট বেডে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় অন্য একটি বেডের পাশে মেঝেতে পাটি বিছিয়ে অক্সিজেন দিতে হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

১০ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬ দিন ধরে ভর্তি থাকা পোড়াদহের কালীনাথপুরের মুক্তা বলেন, অক্সিজেনের সরঞ্জামগুলো অনেক সময় কাজ করে না। প্রয়োজন হলে রোগীকে সচল ব্যবস্থা থাকা বেডে নিয়ে যাওয়া হয়। কখনো একটি বেডের বোতল খুলে অন্য জায়গায় লাগিয়েও অক্সিজেন দেওয়া হয়।

হাসপাতালে ভর্তি সদর উপজেলার আসাননগরের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি অক্সিজেন নিচ্ছেন। বেড ফাঁকা থাকায় অক্সিজেনের সংযোগ আছে এমন বেড নিয়েছেন, তবে সেখানে অক্সিজেনের বোতল নেই।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ বিলকিস খাতুন বলেন, তাঁর ওয়ার্ডে দুটি হিউমিডিফায়ার ও ফ্লোমিটার সচল রয়েছে। বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে ওয়ার্ডে দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে। অন্যদিকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্স রাবেয়া বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের প্রয়োজনে অন্য বেডের পাশে বসিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হয়।

ওয়ার্ডসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা স্থাপনের পর থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে কয়েকটি আউটার নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও সেগুলো মেরামতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কয়েক দফায় টেকনিশিয়ানরা এসে নষ্ট আউটার পরীক্ষা করলেও সেগুলো সচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া হিউমিডিফায়ার বোতল ও ফ্লোমিটার নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে নতুন সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ উদ্যোগে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ওই অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য অক্সিজেন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁদের নিয়মিত বা উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন প্রয়োজন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত হিউমিডিফায়ার বোতল, ফ্লোমিটার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি নষ্ট আউটারগুলো দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/নাসির

Tag :

চট্টগ্রামে সোনার দোকানের শোকেসে ঝুলছিল ১৪ ফুট লম্বা অজগর

চার কোটি টাকার সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থার নেই সুফল, ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের অভাবে কষ্টে রোগীরা

আপডেট সময় ০১:৫৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক। তবে প্রয়োজনীয় হিউমিডিফায়ার বোতল ও ফ্লোমিটারের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে রোগীদের অক্সিজেন সেবা। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এসব যন্ত্রাংশের ঘাটতির পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার একাধিক আউটারও অচল হয়ে পড়ে আছে।

হাসপাতালের ১০টি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের কাউকে কাউকে সচল অক্সিজেন-সংযুক্ত বেডের পাশে মেঝেতে পাটি বিছিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। কোথাও অন্য রোগীর বেডের নিচে বসিয়েও অক্সিজেন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সেবা পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের ১০ নম্বর ওয়ার্ড ও মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সংকট বেশি। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১৮টি বেডের বিপরীতে সচল হিউমিডিফায়ার ও ফ্লোমিটার রয়েছে মাত্র দুটিতে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ২৮টি বেডের বিপরীতে সচল রয়েছে পাঁচটি। এ ছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২০টি বেডের মধ্যে ছয়টির অক্সিজেন সংযোগ অচল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। অন্য ওয়ার্ডগুলোতেও প্রায় একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন আব্বাস বলেন, তাঁর রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। নির্দিষ্ট বেডে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় অন্য একটি বেডের পাশে মেঝেতে পাটি বিছিয়ে অক্সিজেন দিতে হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

১০ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬ দিন ধরে ভর্তি থাকা পোড়াদহের কালীনাথপুরের মুক্তা বলেন, অক্সিজেনের সরঞ্জামগুলো অনেক সময় কাজ করে না। প্রয়োজন হলে রোগীকে সচল ব্যবস্থা থাকা বেডে নিয়ে যাওয়া হয়। কখনো একটি বেডের বোতল খুলে অন্য জায়গায় লাগিয়েও অক্সিজেন দেওয়া হয়।

হাসপাতালে ভর্তি সদর উপজেলার আসাননগরের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি অক্সিজেন নিচ্ছেন। বেড ফাঁকা থাকায় অক্সিজেনের সংযোগ আছে এমন বেড নিয়েছেন, তবে সেখানে অক্সিজেনের বোতল নেই।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ বিলকিস খাতুন বলেন, তাঁর ওয়ার্ডে দুটি হিউমিডিফায়ার ও ফ্লোমিটার সচল রয়েছে। বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে ওয়ার্ডে দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে। অন্যদিকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্স রাবেয়া বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের প্রয়োজনে অন্য বেডের পাশে বসিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হয়।

ওয়ার্ডসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা স্থাপনের পর থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে কয়েকটি আউটার নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও সেগুলো মেরামতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কয়েক দফায় টেকনিশিয়ানরা এসে নষ্ট আউটার পরীক্ষা করলেও সেগুলো সচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া হিউমিডিফায়ার বোতল ও ফ্লোমিটার নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে নতুন সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ উদ্যোগে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ওই অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য অক্সিজেন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁদের নিয়মিত বা উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন প্রয়োজন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত হিউমিডিফায়ার বোতল, ফ্লোমিটার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি নষ্ট আউটারগুলো দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/নাসির