নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় দিল্লি পুলিশ। তবে এদিন রাত নাগাদ আটক করা প্রায় ৩ হাজার বিক্ষোভকারীকে ছেড়ে দেয়া হয়। খবর এনডিটিভির।
আটকদের মধ্যে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। তারা হলে দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার পিনারাই বিজয়ন ও ত্রিপুরার মানিক সরকার। বেশিরভাগ আটক ব্যক্তিদের রাতে ছেড়ে দেয়া হলেও, সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এখনও পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস দিল্লিতে বিমান থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আটক হন। মহারাষ্ট্রে নিজ শহরে অভিজিতের দাদি মারা গেলেও তিনি পুলিশি হেফাজতেই ছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে রাত পর্যন্ত মুক্তি পাননি তিনি।
এদিকে সিজেপি এখন জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিদিন যন্তর মন্তরে মিছিলের ঘোষণা দেয়ায় রোববারও (১১ অক্টোবর) দিল্লিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট সোমবার (১২ অক্টোবর) মহাবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
ছাত্রদের নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চেন্নাইতে থাকা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘সব নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সব তরুণকে গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন। আমরা আপনাদের ঘিরে ফেলছি এবং আমরা পিছু হটব না। আমার কথা মিলিয়ে দেখে নেবেন, আমাদের কাছে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে… ভারতের যুবসমাজ, আমি তোমাদের নিয়ে গর্বিত। বিক্ষোভ চালিয়ে যাও। আমরা তোমাদের পাশে আছি।’
অন্য একটি পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘গণতন্ত্র ধ্বংস করছেন’। তার ১৫ বছরের রাজনৈতিক নাটকের অবসান হতে চলেছে।
চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের অগ্রভাগে ছিলেন রাহুল গান্ধী। এর মধ্যে দুইদিন তাকে কিছু সময়ের জন্য আটকও করে পুলিশ। এদিকে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস


























