ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শূন্য থেকে কোটিপতি যেসব তারকা

বলিউড তারকাদের রাজকীয় জীবনযাত্রা, দামী গাড়ির বহর আর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা বাইরে থেকে যতটা আকর্ষণীয় দেখায়, এর ভেতরের বাস্তবতা বেশ জটিল। আলো ঝলমলে বিলাসী জীবনের আড়ালে রয়েছে হাড়ভাঙা খাটুনি, অজানা গল্প। পর্দায় যাঁদের অনবদ্য অভিনয়ে বুঁদ হয় কোটি দর্শক, তাঁদের অনেকের জীবনের শুরুটা ছিল কন্টকাকীর্ণ। পেটের টানে কেউ চালিয়েছেন বাস, করেছেন কন্ডাক্টরি, রেস্তোরাঁয় সামলেছেন ওয়েটারের কাজ, আবার কেউ রাত কাটিয়েছেন ফুটপাথে। এ তালিকায় রয়েছেন শাহরুখ, অমিতাভ, অক্ষয়ের মতো তারকারা।

শাহরুখ খান

দিল্লির এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন শাহরুখ খান। অভিনয়ে আসার আগে তিনি দিল্লির থিয়েটারে অভিনয় করতেন। সেখান থেকে ছোটপর্দা এবং পরবর্তীতে মুম্বাইয়ের রুপালি পর্দায় পা রাখেন। প্রথম দিকে বড়পর্দায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি তাঁকে বানিয়েছে কিং খান। অভিনয় ছাড়াও প্রযোজনা সংস্থা ও ক্রিকেট দল পরিচালনার ব্যবসায় যুক্ত থেকে বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি রুপির কাছাকাছি।

অমিতাভ বচ্চন

বিখ্যাত কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও অমিতাভ বচ্চনের শুরুটা সহজ ছিল না। দীর্ঘ শারীরিক গঠন এবং ভারী কণ্ঠস্বরের কারণে প্রথম দিকে তাঁকে নিয়ে নির্মাতাদের মনে সংশয় ছিল। জীবনের একপর্যায়ে ব্যবসায় শুরু করেছিলেন। সেখান থেকে তাঁর কাঁধে প্রায় ৯০ কোটি রুপির বিশাল ঋণের বোঝা চাপে। তবে কঠোর পরিশ্রম, অভিনয় দক্ষতা এবং বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই ঋণের বুঝা সরাতে সক্ষম হয়েছিলেন। আজ তিনি কয়েক হাজার কোটি রুপির মালিক।

রজনীকান্ত

দক্ষিণী সিনেমার মহাতারকা রজনীকান্তের জীবন শুরু হয়েছিল চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে। ছোটবেলায় মাকে হারানোর পর পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়ে। সংসার চালাতে তিনি কুলি, কাঠমিস্ত্রি এবং বেঙ্গালুরুর বাসের কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। বাসে যাত্রীদের অভিনয় করে আনন্দ দেওয়া তরুণটি পরবর্তীতে পরিচালক কে বালচন্দ্রের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসেন। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকায় পরিণত হন।

অক্ষয় কুমার

আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতা অক্ষয় কুমার জীবিকার টানে থাইল্যান্ডের রেস্তোরাঁয় ওয়েটার হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি কলকাতার ভ্রমণ সংস্থায় চাকরির পাশাপাশি ঢাকার একটি হোটেলেও তিনি রান্নার কাজ করেছেন। দিল্লিতে গহনার কাজ করার পর মার্শাল আর্ট শেখাতে গিয়ে এক ছাত্রের পরিবারের মাধ্যমে মডেলিংয়ের সুযোগ পান তিনি। নব্বইয়ের দশকে ‘খিলাড়ি’ ছবির সাফল্যে বদলে যায় অক্ষয়ের জীবন। বর্তমানে তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২৫০০ কোটি রুপি।

মিঠুন চক্রবর্তী

মিঠুন চক্রবর্তীর শুরুর জীবন ছিল অসম্ভব কঠিন। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন তাঁর মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ ছিল না। কখনও গাড়িতে, কখনও ফুটপাথে রাত কাটিয়েছেন তিনি। পেটের দায়ে পার্টিতে নাচ করেছেন, এমনকি একটি জিম পরিষ্কারের কাজও করেছেন যাতে সেখানে স্নান করার সুযোগ পান। পরবর্তীতে ‘ডিস্কো ডান্সার’-এর সাফল্য এবং হোটেল ব্যবসা তাঁকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দেয়।

আয়ুষ্মান খুরানা

অভিনেতা হওয়ার আগে আয়ুষ্মান খুরানার মূল পরিচয় ছিল বেতার সঞ্চালক। মুম্বাইয়ে এসে শুরুতে বড়পর্দায় সরাসরি সুযোগ পাননি তিনি। অনেক লড়াইয়ের পর ‘ভিকি ডোনর’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তিনি। এ সিনেমার মাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন। প্রচলিত নায়কোচিত ছাঁচ ভেঙে অভিনয়, গান ও বিজ্ঞাপনের সুবাদে বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি রুপির সম্পত্তির মালিক তিনি।

অনিল কাপুর

চলচ্চিত্র পরিবারের সন্তান হলেও অনিল কাপুরের সাফল্যের পথ মসৃণ ছিল না। বাবার দীর্ঘ সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখা অনিল শুরুর দিকে ছোটখাটো কাজ করেন। ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে বেশ কিছু ছবি ব্যর্থ হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। ‘মেরি জং’ ও ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবির মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা পোক্ত করেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রূপালি পর্দা মাতিয়ে রেখেছেন।

নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকী

উত্তরপ্রদেশের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা নওয়াজউদ্দীন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে গুজরাটে রাসায়নিক কারখানায় কাজ করতেন। মুম্বাইয়ে এসে দীর্ঘ সময় ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চরম আর্থিক সংকটে দিনেও থিয়েটার ও অভিনয় ছেড়ে যাননি। তাঁর স্বাতন্ত্র্য অভিনয়শৈলী আজ তাঁকে প্রায় ১০০ কোটি রুপির সম্পত্তির মালিক বানিয়েছে।

মনোজ বাজপেয়ী

বিহারের এক কৃষক পরিবারের সন্তান মনোজ বাজপেয়ী ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের নেশায় মেতে ছিলেন। ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় ভর্তির চেষ্টা করে তিনবার প্রত্যাখ্যাত হন। পরে মুম্বাইয়ে চরম আর্থিক অনটনে কেটেছে তার দিন। ‘সত্য’, ‘শূল’, ‘সত‌্যাগ্রহ’-র মতো ছবির মাধ্যমে নিজের জাত চিনিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রায় ১৭০ কোটি টাকার মালিক।

পঙ্কজ ত্রিপাঠী

বিহারের এক ছোট গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান পঙ্কজ ত্রিপাঠী পড়াশোনার পাশাপাশি মাঠে কৃষিকাজে হাত লাগাতেন। মুম্বাইয়ে এসে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে তাঁকে টানা ১৪ বছর ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’ ও ‘মির্জাপুর’-এর মতো কাজ তাঁর ভাগ্য বদলে দিয়েছে। বর্তমানে তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি রুপি।

জ্যাকি শ্রফ

মুম্বাইয়ের এক বস্তিতে বেড়ে ওঠা জ্যাকি শ্রফের জীবনে অর্থকষ্ট ছিল নিত্যসঙ্গী। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে পড়াশোনা শেষ করার আগেই কাজের সন্ধানে নামেন তিনি। একসময় তাজ হোটেলে রান্নার চাকরির চেষ্টা করেছিলেন। একদিন বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকার সময় এক ব্যক্তির নজরে পড়েন, সেই ব্যক্তি হাত ধরে মডেলিংয়ের সুযোগ পান। সেখান থেকে শুরু হয় তাঁর তারকা হয়ে ওঠার লড়াই। বর্তমানে তিনি প্রায় ৩৫০ কোটি রুপির সম্পত্তির মালিক।

কঙ্গনা রনৌত

হিমাচলপ্রদেশের সাধারণ পরিবার থেকে অল্প বয়সে ঘর ছেড়ে দিল্লিতে আসেন কঙ্গনা রানৌত। সেখানে মডেলিং ও অভিনয়ের প্রস্তুতি নিয়ে মুম্বাইয়ে এসে দীর্ঘদিন ধরে অডিশন দিয়েছেন। ‘গ্যাংস্টার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশের পর ‘কুইন’ ও ‘তনু ওয়েডস মনু’-র মতো ছবির সাফল্য তাঁকে প্রথম সারির অভিনেত্রীতে পরিণত করে। প্রযোজনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদ গড়েছেন।

বোমান ইরানি

জীবনের মধ্যে বয়সে এসে অভিনয়ে নাম লেখাণ বোমান ইরানি। এর আগে তিনি ওয়েটার হিসেবে কাজ করেছেন। কাজের পারিশ্রমিকের অর্থ জমিয়ে ক্যামেরা কিনে আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে নানা জায়গায় ছবি তোলার কাজ করেছেন। প্রায় ৩৫ বছর বয়সে মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ পান। ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ ছবির পর বেশ পরিচিতি হয়ে ওঠেন বোমান। বর্তমান তার সম্পত্তি প্রায় ১০০ কোটির আশপাশে।

জনি লিভার

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা জনি লিভারের ছোটবেলা ছিল চরম অর্থকষ্টে ভরা। পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে মাত্র সপ্তম শ্রেণির পর পড়ালেখা ছেড়ে বারো বছর বয়সে কারখানায় শ্রমিকের কাজ নেন তিনি। প্রতিবেশীর অভিনয় নকল করে দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে একসময় আন্তর্জাতিক মঞ্চ পর্যন্ত নিয়ে যায়। ‘বাজিগর’ সিনেমার সাফল্য তাঁর জীবন বদলে দেয়। বর্তমানে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ আড়াইশো কোটি রুপির বেশি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

শূন্য থেকে কোটিপতি যেসব তারকা

আপডেট সময় ১২:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

বলিউড তারকাদের রাজকীয় জীবনযাত্রা, দামী গাড়ির বহর আর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা বাইরে থেকে যতটা আকর্ষণীয় দেখায়, এর ভেতরের বাস্তবতা বেশ জটিল। আলো ঝলমলে বিলাসী জীবনের আড়ালে রয়েছে হাড়ভাঙা খাটুনি, অজানা গল্প। পর্দায় যাঁদের অনবদ্য অভিনয়ে বুঁদ হয় কোটি দর্শক, তাঁদের অনেকের জীবনের শুরুটা ছিল কন্টকাকীর্ণ। পেটের টানে কেউ চালিয়েছেন বাস, করেছেন কন্ডাক্টরি, রেস্তোরাঁয় সামলেছেন ওয়েটারের কাজ, আবার কেউ রাত কাটিয়েছেন ফুটপাথে। এ তালিকায় রয়েছেন শাহরুখ, অমিতাভ, অক্ষয়ের মতো তারকারা।

শাহরুখ খান

দিল্লির এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন শাহরুখ খান। অভিনয়ে আসার আগে তিনি দিল্লির থিয়েটারে অভিনয় করতেন। সেখান থেকে ছোটপর্দা এবং পরবর্তীতে মুম্বাইয়ের রুপালি পর্দায় পা রাখেন। প্রথম দিকে বড়পর্দায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি তাঁকে বানিয়েছে কিং খান। অভিনয় ছাড়াও প্রযোজনা সংস্থা ও ক্রিকেট দল পরিচালনার ব্যবসায় যুক্ত থেকে বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি রুপির কাছাকাছি।

অমিতাভ বচ্চন

বিখ্যাত কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও অমিতাভ বচ্চনের শুরুটা সহজ ছিল না। দীর্ঘ শারীরিক গঠন এবং ভারী কণ্ঠস্বরের কারণে প্রথম দিকে তাঁকে নিয়ে নির্মাতাদের মনে সংশয় ছিল। জীবনের একপর্যায়ে ব্যবসায় শুরু করেছিলেন। সেখান থেকে তাঁর কাঁধে প্রায় ৯০ কোটি রুপির বিশাল ঋণের বোঝা চাপে। তবে কঠোর পরিশ্রম, অভিনয় দক্ষতা এবং বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই ঋণের বুঝা সরাতে সক্ষম হয়েছিলেন। আজ তিনি কয়েক হাজার কোটি রুপির মালিক।

রজনীকান্ত

দক্ষিণী সিনেমার মহাতারকা রজনীকান্তের জীবন শুরু হয়েছিল চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে। ছোটবেলায় মাকে হারানোর পর পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়ে। সংসার চালাতে তিনি কুলি, কাঠমিস্ত্রি এবং বেঙ্গালুরুর বাসের কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। বাসে যাত্রীদের অভিনয় করে আনন্দ দেওয়া তরুণটি পরবর্তীতে পরিচালক কে বালচন্দ্রের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসেন। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকায় পরিণত হন।

অক্ষয় কুমার

আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতা অক্ষয় কুমার জীবিকার টানে থাইল্যান্ডের রেস্তোরাঁয় ওয়েটার হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি কলকাতার ভ্রমণ সংস্থায় চাকরির পাশাপাশি ঢাকার একটি হোটেলেও তিনি রান্নার কাজ করেছেন। দিল্লিতে গহনার কাজ করার পর মার্শাল আর্ট শেখাতে গিয়ে এক ছাত্রের পরিবারের মাধ্যমে মডেলিংয়ের সুযোগ পান তিনি। নব্বইয়ের দশকে ‘খিলাড়ি’ ছবির সাফল্যে বদলে যায় অক্ষয়ের জীবন। বর্তমানে তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২৫০০ কোটি রুপি।

মিঠুন চক্রবর্তী

মিঠুন চক্রবর্তীর শুরুর জীবন ছিল অসম্ভব কঠিন। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন তাঁর মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ ছিল না। কখনও গাড়িতে, কখনও ফুটপাথে রাত কাটিয়েছেন তিনি। পেটের দায়ে পার্টিতে নাচ করেছেন, এমনকি একটি জিম পরিষ্কারের কাজও করেছেন যাতে সেখানে স্নান করার সুযোগ পান। পরবর্তীতে ‘ডিস্কো ডান্সার’-এর সাফল্য এবং হোটেল ব্যবসা তাঁকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দেয়।

আয়ুষ্মান খুরানা

অভিনেতা হওয়ার আগে আয়ুষ্মান খুরানার মূল পরিচয় ছিল বেতার সঞ্চালক। মুম্বাইয়ে এসে শুরুতে বড়পর্দায় সরাসরি সুযোগ পাননি তিনি। অনেক লড়াইয়ের পর ‘ভিকি ডোনর’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তিনি। এ সিনেমার মাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন। প্রচলিত নায়কোচিত ছাঁচ ভেঙে অভিনয়, গান ও বিজ্ঞাপনের সুবাদে বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি রুপির সম্পত্তির মালিক তিনি।

অনিল কাপুর

চলচ্চিত্র পরিবারের সন্তান হলেও অনিল কাপুরের সাফল্যের পথ মসৃণ ছিল না। বাবার দীর্ঘ সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখা অনিল শুরুর দিকে ছোটখাটো কাজ করেন। ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে বেশ কিছু ছবি ব্যর্থ হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। ‘মেরি জং’ ও ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবির মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা পোক্ত করেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রূপালি পর্দা মাতিয়ে রেখেছেন।

নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকী

উত্তরপ্রদেশের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা নওয়াজউদ্দীন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে গুজরাটে রাসায়নিক কারখানায় কাজ করতেন। মুম্বাইয়ে এসে দীর্ঘ সময় ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চরম আর্থিক সংকটে দিনেও থিয়েটার ও অভিনয় ছেড়ে যাননি। তাঁর স্বাতন্ত্র্য অভিনয়শৈলী আজ তাঁকে প্রায় ১০০ কোটি রুপির সম্পত্তির মালিক বানিয়েছে।

মনোজ বাজপেয়ী

বিহারের এক কৃষক পরিবারের সন্তান মনোজ বাজপেয়ী ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের নেশায় মেতে ছিলেন। ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় ভর্তির চেষ্টা করে তিনবার প্রত্যাখ্যাত হন। পরে মুম্বাইয়ে চরম আর্থিক অনটনে কেটেছে তার দিন। ‘সত্য’, ‘শূল’, ‘সত‌্যাগ্রহ’-র মতো ছবির মাধ্যমে নিজের জাত চিনিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রায় ১৭০ কোটি টাকার মালিক।

পঙ্কজ ত্রিপাঠী

বিহারের এক ছোট গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান পঙ্কজ ত্রিপাঠী পড়াশোনার পাশাপাশি মাঠে কৃষিকাজে হাত লাগাতেন। মুম্বাইয়ে এসে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে তাঁকে টানা ১৪ বছর ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’ ও ‘মির্জাপুর’-এর মতো কাজ তাঁর ভাগ্য বদলে দিয়েছে। বর্তমানে তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি রুপি।

জ্যাকি শ্রফ

মুম্বাইয়ের এক বস্তিতে বেড়ে ওঠা জ্যাকি শ্রফের জীবনে অর্থকষ্ট ছিল নিত্যসঙ্গী। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে পড়াশোনা শেষ করার আগেই কাজের সন্ধানে নামেন তিনি। একসময় তাজ হোটেলে রান্নার চাকরির চেষ্টা করেছিলেন। একদিন বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকার সময় এক ব্যক্তির নজরে পড়েন, সেই ব্যক্তি হাত ধরে মডেলিংয়ের সুযোগ পান। সেখান থেকে শুরু হয় তাঁর তারকা হয়ে ওঠার লড়াই। বর্তমানে তিনি প্রায় ৩৫০ কোটি রুপির সম্পত্তির মালিক।

কঙ্গনা রনৌত

হিমাচলপ্রদেশের সাধারণ পরিবার থেকে অল্প বয়সে ঘর ছেড়ে দিল্লিতে আসেন কঙ্গনা রানৌত। সেখানে মডেলিং ও অভিনয়ের প্রস্তুতি নিয়ে মুম্বাইয়ে এসে দীর্ঘদিন ধরে অডিশন দিয়েছেন। ‘গ্যাংস্টার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশের পর ‘কুইন’ ও ‘তনু ওয়েডস মনু’-র মতো ছবির সাফল্য তাঁকে প্রথম সারির অভিনেত্রীতে পরিণত করে। প্রযোজনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদ গড়েছেন।

বোমান ইরানি

জীবনের মধ্যে বয়সে এসে অভিনয়ে নাম লেখাণ বোমান ইরানি। এর আগে তিনি ওয়েটার হিসেবে কাজ করেছেন। কাজের পারিশ্রমিকের অর্থ জমিয়ে ক্যামেরা কিনে আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে নানা জায়গায় ছবি তোলার কাজ করেছেন। প্রায় ৩৫ বছর বয়সে মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ পান। ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ ছবির পর বেশ পরিচিতি হয়ে ওঠেন বোমান। বর্তমান তার সম্পত্তি প্রায় ১০০ কোটির আশপাশে।

জনি লিভার

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা জনি লিভারের ছোটবেলা ছিল চরম অর্থকষ্টে ভরা। পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে মাত্র সপ্তম শ্রেণির পর পড়ালেখা ছেড়ে বারো বছর বয়সে কারখানায় শ্রমিকের কাজ নেন তিনি। প্রতিবেশীর অভিনয় নকল করে দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে একসময় আন্তর্জাতিক মঞ্চ পর্যন্ত নিয়ে যায়। ‘বাজিগর’ সিনেমার সাফল্য তাঁর জীবন বদলে দেয়। বর্তমানে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ আড়াইশো কোটি রুপির বেশি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস