ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আটক ৪ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ Logo সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, আটকে পড়েছেন পর্যটকেরা Logo সৌদিতে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক প্রকাশ Logo মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: জামায়াত আমির Logo ম্যানসিটি ম্যাচের আগে বড় জয় পিএসজির, শীর্ষে মোনাকো Logo স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণ-হত্যার দিনও মাদকাসক্ত ছিলেন সুমন Logo মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ Logo মাটির কাজ শেষে রং-তুলির টান, প্রাণ পাচ্ছে প্রতিমা Logo নারায়ণগঞ্জে পৃথক ৩ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ৬ Logo সৌদি আরবে হুথিদের হামলা: বাংলাদেশ থেকে রিয়াদের ৫ ফ্লাইট বাতিল

সহজ জীবনেই সুখ, শুধু বদলান ছোট্ট কিছু অভ্যাস

সংসার, সন্তান, কর্মক্ষেত্র—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে অনেকেরই জীবন হয়ে ওঠে ক্লান্তি আর দুশ্চিন্তায় ভরা। প্রতিদিনের নানা কাজের চাপ ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দও এলোমেলো করে দিতে পারে। অথচ জীবনকে একটু সহজ করে তুললেই অনেকটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।

বড় কোনো পরিবর্তন নয়, প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস বদলেই মানসিক চাপ কমানো এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা যায়। বদলাতে পারে জীবনযাপনের ধরন, ফিরতে পারে ভালো লাগা।

প্রয়োজন হলে ‘না’ বলতে শিখুন

অনেকেই মনে করেন কারও অনুরোধে সরাসরি ‘না’ বলা ঠিক নয়। আবার কেউ কেউ কাউকে কষ্ট দেওয়ার ভয়ে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও সবকিছুতে সম্মতি দেন।

কিন্তু যে কাজ করার মতো সময় বা সামর্থ্য নেই, সেখানে সম্মতি দেওয়া মানে নিজের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা। তাই অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট না করে প্রয়োজন হলে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে শেখা জরুরি।

অযথা ভাবনা কমান

কাজের বার্তা, বৈদ্যুতিন চিঠি বা বিভিন্ন বার্তা বারবার দেখার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই থাকে। প্রতিটি বার্তার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়াতে পারে।

প্রয়োজনীয় কাজের বার্তা বা দলের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রেখে অপ্রয়োজনীয় বার্তা ও যোগাযোগ কিছুটা দূরে রাখা যেতে পারে। এতে বারবার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নিজের কাজেও মন দেওয়া সহজ হবে।

পছন্দের কাজে সময় দিন

নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় কাটালে মন ভালো থাকে। পাশাপাশি অকারণে মুঠোফোনের ওপর নির্ভরশীলতাও কমতে পারে।

ছবি আঁকা, বই পড়া, গান শোনা কিংবা পছন্দের কোনো শরীরচর্চা—যে কাজটি করতে ভালো লাগে, সেটির জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় রাখা যেতে পারে। এতে ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য সময় বের হবে এবং বর্তমান সময়টাকে উপভোগ করা সহজ হবে।

ঘর গোছানো রাখুন

অগোছালো ঘর শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, এর প্রভাব মনের ওপরও পড়তে পারে। দিনের শেষে পরিপাটি ঘর, সুন্দরভাবে সাজানো ঘরের কোনো অংশ কিংবা ঘরের মধ্যে সবুজের উপস্থিতি মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।

তাই একসঙ্গে পুরো ঘর পরিষ্কার করার চাপ না নিয়ে প্রতিদিন অল্প অল্প করে জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে। এতে ঘরও পরিচ্ছন্ন থাকবে, নিজের মনও কিছুটা হালকা লাগবে।

পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখুন

বাইরে যাওয়ার সময় কী পরবেন, প্রয়োজনীয় জিনিস কোথায় রাখা আছে—এসব নিয়ে শেষ মুহূর্তে খোঁজাখুঁজি করলে অযথা চাপ বাড়ে।

আলমারিতে যেসব পোশাক পরতে ভালো লাগে না বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না, সেগুলো আলাদা করে রাখা যেতে পারে। নিয়মিত পরা পোশাকগুলো সহজে পাওয়া যায় এমনভাবে গুছিয়ে রাখলে প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার সময় ঝক্কি অনেকটাই কমে।

জীবনকে সব সময় বড় কোনো পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজ করতে হয় না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে নিজের সময়, মন ও চারপাশকে কিছুটা গুছিয়ে নিলেই ব্যস্ত জীবনে স্বস্তির জায়গা তৈরি হতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

আটক ৪ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ

সহজ জীবনেই সুখ, শুধু বদলান ছোট্ট কিছু অভ্যাস

আপডেট সময় ১২:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

সংসার, সন্তান, কর্মক্ষেত্র—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে অনেকেরই জীবন হয়ে ওঠে ক্লান্তি আর দুশ্চিন্তায় ভরা। প্রতিদিনের নানা কাজের চাপ ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দও এলোমেলো করে দিতে পারে। অথচ জীবনকে একটু সহজ করে তুললেই অনেকটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।

বড় কোনো পরিবর্তন নয়, প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস বদলেই মানসিক চাপ কমানো এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা যায়। বদলাতে পারে জীবনযাপনের ধরন, ফিরতে পারে ভালো লাগা।

প্রয়োজন হলে ‘না’ বলতে শিখুন

অনেকেই মনে করেন কারও অনুরোধে সরাসরি ‘না’ বলা ঠিক নয়। আবার কেউ কেউ কাউকে কষ্ট দেওয়ার ভয়ে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও সবকিছুতে সম্মতি দেন।

কিন্তু যে কাজ করার মতো সময় বা সামর্থ্য নেই, সেখানে সম্মতি দেওয়া মানে নিজের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা। তাই অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট না করে প্রয়োজন হলে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে শেখা জরুরি।

অযথা ভাবনা কমান

কাজের বার্তা, বৈদ্যুতিন চিঠি বা বিভিন্ন বার্তা বারবার দেখার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই থাকে। প্রতিটি বার্তার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়াতে পারে।

প্রয়োজনীয় কাজের বার্তা বা দলের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রেখে অপ্রয়োজনীয় বার্তা ও যোগাযোগ কিছুটা দূরে রাখা যেতে পারে। এতে বারবার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নিজের কাজেও মন দেওয়া সহজ হবে।

পছন্দের কাজে সময় দিন

নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় কাটালে মন ভালো থাকে। পাশাপাশি অকারণে মুঠোফোনের ওপর নির্ভরশীলতাও কমতে পারে।

ছবি আঁকা, বই পড়া, গান শোনা কিংবা পছন্দের কোনো শরীরচর্চা—যে কাজটি করতে ভালো লাগে, সেটির জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় রাখা যেতে পারে। এতে ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য সময় বের হবে এবং বর্তমান সময়টাকে উপভোগ করা সহজ হবে।

ঘর গোছানো রাখুন

অগোছালো ঘর শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, এর প্রভাব মনের ওপরও পড়তে পারে। দিনের শেষে পরিপাটি ঘর, সুন্দরভাবে সাজানো ঘরের কোনো অংশ কিংবা ঘরের মধ্যে সবুজের উপস্থিতি মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।

তাই একসঙ্গে পুরো ঘর পরিষ্কার করার চাপ না নিয়ে প্রতিদিন অল্প অল্প করে জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে। এতে ঘরও পরিচ্ছন্ন থাকবে, নিজের মনও কিছুটা হালকা লাগবে।

পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখুন

বাইরে যাওয়ার সময় কী পরবেন, প্রয়োজনীয় জিনিস কোথায় রাখা আছে—এসব নিয়ে শেষ মুহূর্তে খোঁজাখুঁজি করলে অযথা চাপ বাড়ে।

আলমারিতে যেসব পোশাক পরতে ভালো লাগে না বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না, সেগুলো আলাদা করে রাখা যেতে পারে। নিয়মিত পরা পোশাকগুলো সহজে পাওয়া যায় এমনভাবে গুছিয়ে রাখলে প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার সময় ঝক্কি অনেকটাই কমে।

জীবনকে সব সময় বড় কোনো পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজ করতে হয় না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে নিজের সময়, মন ও চারপাশকে কিছুটা গুছিয়ে নিলেই ব্যস্ত জীবনে স্বস্তির জায়গা তৈরি হতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস