দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) দলটি তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখোমুখি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয়কে জাতীয় স্তরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়ে টিভিকে নেতাদের কিছু স্লোগান ও দাবির জেরে বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটে তীব্র অস্বস্তি ও ফাটল দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের মন্ত্রী রাজেশ কুমার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে টিভিকে যদি রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সমর্থন না করে, তবে সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা কংগ্রেসের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমি একদম স্পষ্ট করে বলছি—২০২৯ সালে আমাদের নেতা রাহুল গান্ধীই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। যদি কোনো কারণে টিভিকে এতে রাজি না হয়, তবে কংগ্রেসের দুই মন্ত্রী তাদের পদে আর থাকবেন না।’
জোটের অভ্যন্তরীণ সংকট ও সমীকরণ
টিভিকে নেতা আধার অর্জুন ও শরৎকুমারসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে দেশের শীর্ষ পদের জন্য বিজয়ের নাম সামনে আনার পর থেকেই এই উত্তেজনার শুরু। এমনকি বিভিন্ন স্থানে ‘বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী’ লেখা পোস্টারও দেখা গেছে। শুরুতে কংগ্রেস বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও, মন্ত্রী রাজেশ কুমারের এই কঠোর হুঁশিয়ারি মন্ত্রিসভার ভেতর থেকে আসা একটি তীব্র ও স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তামিলনাড়ুর ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ১১৮টি হলেও, টিভিকে নির্বাচনে ১০৭টি আসন পেয়েছিল। পরবর্তীতে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক, ভিসিকে, আইইউএমএল এবং অন্যান্য মিত্রদের সমর্থনে এই সরকার গঠিত হয়। সরকারের মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের দুই জন বিধায়ক স্থান পেয়েছেন। ফলে কংগ্রেসের সমর্থন প্রত্যাহার করা হলে এই সরকারের স্থায়িত্ব গুরুতর সংকটে পড়তে পারে।
মিত্রদের প্রতিক্রিয়া ও বিজয়ের নীরবতা
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে এমডিএমকে প্রধান ও জোটসঙ্গী ভাইকো রাহুল গান্ধীর পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতৃত্বে যেহেতু কংগ্রেস রয়েছে, তাই রাহুল গান্ধীকে ছাড়া অন্য কাউকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ভাবার অবকাশ নেই। একই সঙ্গে তিনি মন্ত্রীদের জোটগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার এবং প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে ক্ষমতাসীন টিভিকে বা খোদ মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছেন এবং কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। ফলে বিজয়ের এই রাজনৈতিক উত্থান তামিলনাড়ুর গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে কি না, নাকি এই বিতর্কের অবসান ঘটবে—তার উত্তর এখন মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















