জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, দর্শন, আদর্শ ও বিপুল সৃষ্টিসম্ভারকে জাতীয় পর্যায়ে নতুনভাবে তুলে ধরতে সরকার ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। বছরব্যাপী এই আয়োজনে কবির সৃষ্টিকর্ম ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে পালন করা হবে নানা কর্মসূচি।
২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আজ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে ‘নজরুল বর্ষ’-এর নির্ধারিত লোগো সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে বছরব্যাপী আয়োজনের প্রচার ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নজরুল বর্ষের অন্যতম প্রথম কর্মসূচি হিসেবে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী একযোগে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর সৃষ্টির প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।
এতে থাকবে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, একক অভিনয় এবং নজরুলসংগীতভিত্তিক একক নৃত্য। আবৃত্তি বিভাগে শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় কবির নির্বাচিত কবিতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টায় সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হবে। জেলা পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য অথবা জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্য অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। স্থানীয় সংস্কৃতিজন, শিক্ষানুরাগী, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদেরও এসব অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় ধাপে ধাপে বাছাই করে শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ে নেওয়া হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রতিটি বিষয়ের প্রথম স্থান অধিকারী উপজেলা পর্যায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। উপজেলা পর্যায়ের প্রথম স্থান অধিকারীরা জেলা পর্যায়ে এবং জেলা পর্যায় থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীরা বিভাগীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। বিভাগীয় পর্যায়েও প্রতিটি বিষয়ের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীরা জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুধু সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাই নয়, নজরুল বর্ষজুড়ে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সংগীত নিয়ে আলোচনা, গবেষণা, পাঠচর্চা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর বহুমাত্রিক সৃষ্টিকে নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে নজরুলের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং চেতনাকে সমকালীন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বছরব্যাপী থাকবে নানা আয়োজন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















