ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শরীফুলে আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ Logo ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে নৌকা বাইচে মুখরিত বুড়িগঙ্গা Logo এক বছর পার হলে নিতে পারবে কলেরার টিকা Logo ছাত্রলীগ নেত্রীর ফেসবুকে ‘বিস্ফোরক মন্তব্য’, কড়া জবাব ছাত্রদলের নেত্রীর Logo কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ জনের মরদেহ নিতে বেনাপোলে স্বজনের অপেক্ষা Logo পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৪৯ Logo জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর শ্রদ্ধা Logo ৬ হাজার রুপির দেনাই কি কঙ্গনার সহশিল্পীর মৃত্যুর কারণ? Logo পে স্কেলের দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সুদৃষ্টি চাইলেন সরকারি কর্মচারীরা Logo ২৮ রানে ৫ উইকেট হারালো অস্ট্রেলিয়া, ম্যাচে ফিরলো বাংলাদেশ

পে স্কেলের দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সুদৃষ্টি চাইলেন সরকারি কর্মচারীরা

নবম জাতীয় পে স্কেলের দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। পে কমিশনের সুপারিশ মতে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বেতন আরো বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

এ বিষয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সদয় দৃষ্টি কামনা করেন তারা।

শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় এসব দাবি জানানো হয়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব আশিকুল ইসলাম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, সাভারের সাবেক মহাসচিব ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হক।

সভায় সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি শাহাবুদ্দিন মুন্সী, সহসভাপতি মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ এবাদুল ইসলাম, আজিজুর রহমান ও নুরুজ্জামান লিটন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল কাদের খান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল আমিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক এবং প্রচার সম্পাদক এবি বেগমসহ সংগঠনের অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল মালেক বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। এতে বিদ্যমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেতন বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হবে।

এ সুপারিশে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নবম পে স্কেল হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্য ব্যাপক বেড়েছে। বেতন বাড়ার আগেই নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না।

আবদুল মালেক আরো বলেন, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের বর্তমান অবস্থা ও দ্রব্যমূল্যের পার্থক্য তুলে ধরে দুটি পে স্কেলের সমন্বয়ে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে তা কাটছাঁট করে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

মহাসচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বৈষম্যের শিকল আরো শক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও কমিয়ে দেয় এবং এর সঙ্গে থাকা ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বাদ দেওয়া হয়, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য থাকবে না। এতে কর্মচারীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং তাদের মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা তৈরি হবে।

কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তিনি সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বহাল রাখার পাশাপাশি বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা আরও বাড়িয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান।

সভায় নেতারা বলেন, দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রমবর্ধমান বাজারমূল্যের চাপ থেকে স্বস্তি দিতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সদয় দৃষ্টি কামনা করেন তারা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

শরীফুলে আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ

পে স্কেলের দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সুদৃষ্টি চাইলেন সরকারি কর্মচারীরা

আপডেট সময় ০১:১১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

নবম জাতীয় পে স্কেলের দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। পে কমিশনের সুপারিশ মতে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বেতন আরো বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

এ বিষয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সদয় দৃষ্টি কামনা করেন তারা।

শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় এসব দাবি জানানো হয়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব আশিকুল ইসলাম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, সাভারের সাবেক মহাসচিব ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হক।

সভায় সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি শাহাবুদ্দিন মুন্সী, সহসভাপতি মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ এবাদুল ইসলাম, আজিজুর রহমান ও নুরুজ্জামান লিটন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল কাদের খান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল আমিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক এবং প্রচার সম্পাদক এবি বেগমসহ সংগঠনের অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল মালেক বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। এতে বিদ্যমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেতন বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হবে।

এ সুপারিশে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নবম পে স্কেল হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্য ব্যাপক বেড়েছে। বেতন বাড়ার আগেই নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না।

আবদুল মালেক আরো বলেন, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের বর্তমান অবস্থা ও দ্রব্যমূল্যের পার্থক্য তুলে ধরে দুটি পে স্কেলের সমন্বয়ে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে তা কাটছাঁট করে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

মহাসচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বৈষম্যের শিকল আরো শক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও কমিয়ে দেয় এবং এর সঙ্গে থাকা ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বাদ দেওয়া হয়, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য থাকবে না। এতে কর্মচারীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং তাদের মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা তৈরি হবে।

কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তিনি সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বহাল রাখার পাশাপাশি বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা আরও বাড়িয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান।

সভায় নেতারা বলেন, দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রমবর্ধমান বাজারমূল্যের চাপ থেকে স্বস্তি দিতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সদয় দৃষ্টি কামনা করেন তারা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ