রহমতউল্লাহ ও আব্দুল্লাহ দুই ভাই। তাদের বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকায় তার মা অন্যত্র সংসার গড়েছেন।
বৃদ্ধ দাদার কাছে থেকে বিভিন্ন হাট-ঘাট ঘুরে ঘুরে পান ও ঝালমুড়ি বিক্রি করত তারা।
যে বয়সে তাদের হাতে থাকার কথা বই-খাতা। সে বয়সে জীবনের কঠিন বাস্তবতায় দিন পার করছিল তারা। তবে তাদের জীবনে আশার আলো জাগিয়েছে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন।
ব্যক্তিউদ্যোগে ওই দুই শিশুর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উত্তর চরবিশ্বাসের ১ নম্বর ওয়ার্ডে রহমতউল্লাহ ও আবদুল্লাহর বাড়ি। তাদের বাবা আলিউল মাতুব্বর দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তাদের মা শিরিনা বেগম। একপর্যায়ে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র সংসার শুরু করেন। অবুজ দুই ভাই রহমতউল্লাহ ও আব্দুল্লাহকে রেখে যায় বৃদ্ধ দাদা মনির মাতুব্বরের কাছে।
মা-বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত দুই ভাইয়ের শেষ আশ্রয় হয় বৃদ্ধ দাদা মনির মাতুব্বরের কাছে। নিজের সংসারের খাবার জোগাড় করতেই যার হিমশিম খেতে হয়, তার পক্ষে দুই নাতির ভরণপোষণ করা ছিল কঠিন।
অভাবের কাছে তাই হার মানতে হয় দুই শিশুর শৈশবকে। যে বয়সে তাদের স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সেই জীবিকার সন্ধানে পথে নামতে হয়। বিভিন্ন হাট-বাজার ও খেলার মাঠে পান ও ঝালমুড়ি বিক্রি করত তারা।
সম্প্রতি দুই ভাইয়ের এই জীবনসংগ্রামের কথা গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হকের নজরে আসে। তিনি রহমতউল্লাহ ও আব্দুল্লাহকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নেন। কথা বলেন, শোনেন তাদের জীবনের গল্প ও পড়াশোনার ইচ্ছার কথা। এরপর শিশু দুই ভাইকে স্কুলে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেন ইউএনও। তার নির্দেশনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে রহমতউল্লাহ ও আব্দুল্লাহকে মধ্য চরবিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মধ্য চরবিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হালিম বলেন, বুধবার (১৯ আগস্ট) রহমতউল্লাহ ও আব্দুল্লাহকে স্কুলে ভর্তি করেছি। বৃহস্পতিবার ওদের প্রথম ক্লাস ছিল। রহমতউল্লাহ ও আব্দুল্লাহর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ লক্ষ করেছি। তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হবে।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, রহমতউল্লাহ ও আব্দুল্লাহর কথা জানতে পেরে তাদের অফিসে নিয়ে আসি। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে চরবিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়েছে। ওদের স্কুলে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে ভালো লাগছে। ওদের সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন খেয়াল রাখবে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















