প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টদের মধ্যে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর কারও মেলে না। অন্য ফ্যাসিস্টদেরও মেলে না।
রবিবার (১৬ আগস্ট) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ছাত্ররা। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অবদান ছিল।
জনগণও তাদের সমর্থন করেছে। ছাত্রদের মহিমান্বিত আত্মত্যাগের পাশাপাশি অনেক শ্রমিক, রিকশাচালক, হোটেলের বাবুর্চি এবং সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ ও নারকীয় দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নেমে এসেছিল। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ প্রথমেই হয়তো নামে না, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে দুঃশাসন মোকাবিলার একটি অদম্য শক্তি রয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘যুগে যুগে এ দেশের মানুষ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করেছে। এ দেশের মানুষের দুঃশাসন সহ্য করার কোনো ইতিহাস নেই। তাই বিভিন্ন সময়ে মানুষ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।’
ব্রিটিশ শাসনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বাংলা অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী দেশ ছিল।
এ কারণে ব্রিটিশদের এ দেশের প্রতি লোভনীয় দৃষ্টি ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দিয়ে এখানে আধিপত্য বিস্তার করেছিল।’
সিরাজউদ্দৌলার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ‘অনেকে সিরাজউদ্দৌলাকে দুর্বলচিত্তের মানুষ বলে থাকেন। অথচ তিনি দুইবার ইংরেজদের পরাজিত করে কলকাতা উদ্ধার করেছিলেন। পরে ভেতর থেকে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কারণে পরিস্থিতি বদলে যায়।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকার জন্য যারা দেশের সার্বভৌমত্বকে বিসর্জন দিয়েছে, দেশের মানুষ তা সহ্য করেনি। বিএনপি এবং জাতীয়তাবাদী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই প্রতিবাদ ধরে রেখেছেন। অসীম সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে তিনি গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। সুখে-দুঃখে ও সংকটে সবকিছু নিজের মধ্যে ধারণ করে বেগম খালেদা জিয়া এগিয়ে গেছেন। প্রতিক্ষণে, প্রতিমুহূর্তে একদিকে গণতন্ত্র, অন্যদিকে স্বাধীনতা এই দুই প্রত্যয় নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। আধিপত্যকামী বিভিন্ন শক্তি বেগম খালেদা জিয়ার এই অবস্থান সহ্য করেনি। এ কারণে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে এবং তার ওপর জুলুম চালানো হয়েছে। একজন সুস্থ মানুষ কারাগারে গিয়ে হুইলচেয়ারে করে বেরিয়ে এসেছেন। নানাভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘গুম, খুন, রিমান্ডের নামে নির্যাতনসহ নানা ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতন চালানো হয়েছে। ফ্যাসিস্টদের মধ্যে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর কারও মেলে না। অন্য ফ্যাসিস্টদেরও মেলে না।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























