ভবিষ্যতে কোনো বন্দিবিনিময় বা চুক্তির অংশ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির মৃতদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎসের মঙ্গলবার (১১ আগস্ট)-এর এক প্রতিবেদনে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক আলোচনার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে হামাসের হাতে কোনো ইসরায়েলি বন্দি না থাকলেও ভবিষ্যতে কোনো বিনিময় চুক্তি হলে ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহকে আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে আটকে রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ ইসরায়েলি বাহিনী নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনের মৃতদেহ ফেরত পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেন।
ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলের এই নীতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের দাবি, নিহত ব্যক্তিদের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতি অনুযায়ী দাফনের সুযোগ দেওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে মৃত ব্যক্তিদের মৃতদেহের প্রতি মর্যাদা প্রদর্শন এবং তাদের যথাযথভাবে সৎকার বা দাফনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃতদেহ আটকে রাখার আইনগত বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও বিতর্ক রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে সরাসরি ‘সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’ বলার চেয়ে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের উদ্বেগ হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরা বেশি নির্ভুল।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও অন্যান্য আইনি কারণ দেখিয়ে ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ আটকে রাখার নীতি অনুসরণের নজির রয়েছে। অতীতে বন্দিবিনিময় বা আলোচনার অংশ হিসেবেও মৃতদেহ হস্তান্তরের ঘটনা ঘটেছে।
হারেৎসের প্রতিবেদনে উঠে আসা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মৃতদেহ আটকে রাখার তথ্যটি ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আলোচনার বরাত দেওয়া হয়েছে। এ সংখ্যার স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























