অবৈধভাবে পাইপ লাইন তৈরি করে বিশেষ মেশিন বসিয়ে গোপনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে বালু উত্তোলন করছিল একটি চক্র। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে (৮ আগস্ট) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার একটি টিম।
কলাতলী এলাকার সৈকতের দক্ষিণাংশে ভাঙ্গার মোড় সংলগ্ন অবৈধ বালি উত্তোলনের সেই স্থানে জড়িত কাউকে না পাওয়া গেলেও বিপুল পরিমাণ জিও ব্যাগ, বালু উত্তোলনের মেশিন, বড় আকৃতির পাইপসহ বিভিন্ন আলামতের হদিস পাওয়া গেছে।
পর্যটন শাখার ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার) মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান সায়েম গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় কিছু যুবকের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সৈকতের বালিয়াড়ির অদূরে একটি ভবনে পানির পাইপ লাইন বসিয়ে বালিগুলো নেওয়া হচ্ছিল যেখানে বিপুলপরিমাণ জিও ব্যাগ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, তিনজন বিচকর্মীকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রাখা হয়েছে, আলামতগুলো জব্দের পাশাপাশি পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, বালি উত্তোলনে ব্যবহৃত ভবনটিতে এনজিও সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) এর পরিচালিত ‘ব্লু ইকোনমি সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে বালি উত্তোলনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট কারো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কক্সবাজার সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আরিয়ান ফারাবী বলেন, রাতে সৈকতে হাঁটতে গিয়ে একটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে সৈকত থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দৃশ্য চোখে পড়ে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি, তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে বিষয়টি পর্যটন ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করি।খবর পাওয়ার পর পর্যটন ম্যাজিস্ট্রেট, থানা পুলিশ ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে ততক্ষণে জড়িতরা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই সিন্ডিকেট সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করছিল তা জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত। সমুদ্রকে বাঁচানো এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করিম উল্লাহ কলিম বলেন, কক্সবাজারের সৈকত কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এই সৈকত আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, দেশের পর্যটন সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আমানত। উন্নয়নের নামে কিংবা প্রভাবশালীদের স্বার্থে এই সম্পদ ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই।
পরিবেশ বিধ্বংসী এই তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এখনই অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ করুন, সৈকত ও বালিয়াড়ি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিন এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন কর্মকাণ্ড আর না ঘটে, তার স্থায়ী ব্যবস্থা করুন। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আরও একটি বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে।
প্রসঙ্গত, গত বছর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জের ‘সাদা পাথর’ কোয়ারি থেকে হাজার হাজার ঘনফুট পাথর প্রকাশ্যে ও অবৈধভাবে লুট বা চুরি করার ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়।
পরিবেশকর্মী, স্থানীয় সহ কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন সৈকত থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে এখনই কোন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক নির্দশনের উপর ভয়াবহ বিরুপ প্রভাব পড়বে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















