ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জনতার পাশে সেনাবাহিনীর অবস্থান: শাসকগোষ্ঠীর শেষ হিংস্রতা Logo এমবাপ্পেকে আনার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে রাজধানীতে দুই মেগা কনসার্ট Logo বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: আহত অন্তত ২০ Logo ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে শুটিংয়ের আগে কেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন— জানালেন অভিনেত্রী Logo ১৫ মাস পর দেশে ফিরলেন ইলিয়াস কাঞ্চন, চাইলেন দোয়া Logo যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা Logo পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৮ কর্মকর্তাকে বদলি Logo ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল Logo এবার বাংলাদেশ সফরে আসছেন মার্কিন নৌ কমান্ডার

কিউবাজুড়ে ভয়াবহ ব্ল্যাকআউট

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে আবারও অন্ধকারে কিউবা। আবারও দ্বীপরাষ্ট্র কিউবাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ ব্ল্যাকআউট। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে অন্ধকারে ডুবে গেছে গোটা দেশ। হঠাৎ পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশটির কোটি মানুষ।

স্থানীয় সময় রবিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কিউবার রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ‘ইলেকট্রিক ইউনিয়ন’ গ্রিড বিপর্যয়ের তথ্য জানায়। তবে তারা এই বিপর্যয়ের মূল কারণ, ক্ষতির পরিমাণ কিংবা কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে- সে সম্পর্কে কিছুই জানায়নি।

কিউবাজুড়ে এই ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আগেই রাজধানী হাভানার বিদ্যুৎ বিভাগ বেশ কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়েছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোর থেকেই গুয়েনাবাকোয়া, হাবানা দেল এস্তে, লা লিসা এবং মারিয়ানাউ-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা হতে থাকে। মূল গ্রিড ভেঙে পড়ার আগে থেকেই ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া, সার্কিট ফিলিয়ার এবং অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে পরিকল্পিত লোডশেডিং চলছিল।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিউবা কর্তৃপক্ষ আপাতত হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জরুরি খাদ্য সরবরাহ কেন্দ্রের জন্য ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সচল করার চেষ্টা করছে। এসব জরুরি সেবা সচল হওয়ার পর ধীরে ধীরে মূল কেন্দ্রগুলোকে আবার জাতীয় গ্রিডে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।

চলতি বছরে কিউবায় এটিই প্রথম ব্ল্যাকআউট নয়। গত জুলাই মাসেই মাত্র নয় দিনের মধ্যে তিনবার জাতীয় গ্রিড ভেঙে পড়েছিল, যার মধ্যে একই সপ্তাহে দুবার পুরো দ্বীপ অন্ধকারে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে একটি ব্ল্যাকআউটে প্রায় এক কোটি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। সে সময় নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু করার পরেও দেশের চাহিদানুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন না থাকায় বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হয়।

জ্বালানি সংকট, খুচরা যন্ত্রাংশের অভাব এবং পুরোনো থার্মোইলেক্ট্রিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিউবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। সেখানকার কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং সেগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

কিউবা সরকার এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে। হাভানার মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্বীপে জ্বালানি তেল সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সরঞ্জাম পাওয়া তীব্রভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করলে কিউবা তার প্রধান জ্বালানি উৎস হারায়।

ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী ছিল। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে মেক্সিকো থেকেও তেল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে কিউবা সরকারের এই দাবির বিপরীতে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, শুধু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং জ্বালানি খাতে সরকারের কয়েক দশকের অব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাবই আজকের এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।

টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কিউবার পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়া, রান্না করা এবং দৈনন্দিন সাধারণ কাজ সম্পন্ন করাও সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

জনতার পাশে সেনাবাহিনীর অবস্থান: শাসকগোষ্ঠীর শেষ হিংস্রতা

কিউবাজুড়ে ভয়াবহ ব্ল্যাকআউট

আপডেট সময় ০৬:১৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে আবারও অন্ধকারে কিউবা। আবারও দ্বীপরাষ্ট্র কিউবাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ ব্ল্যাকআউট। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে অন্ধকারে ডুবে গেছে গোটা দেশ। হঠাৎ পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশটির কোটি মানুষ।

স্থানীয় সময় রবিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কিউবার রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ‘ইলেকট্রিক ইউনিয়ন’ গ্রিড বিপর্যয়ের তথ্য জানায়। তবে তারা এই বিপর্যয়ের মূল কারণ, ক্ষতির পরিমাণ কিংবা কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে- সে সম্পর্কে কিছুই জানায়নি।

কিউবাজুড়ে এই ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আগেই রাজধানী হাভানার বিদ্যুৎ বিভাগ বেশ কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়েছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোর থেকেই গুয়েনাবাকোয়া, হাবানা দেল এস্তে, লা লিসা এবং মারিয়ানাউ-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা হতে থাকে। মূল গ্রিড ভেঙে পড়ার আগে থেকেই ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া, সার্কিট ফিলিয়ার এবং অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে পরিকল্পিত লোডশেডিং চলছিল।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিউবা কর্তৃপক্ষ আপাতত হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জরুরি খাদ্য সরবরাহ কেন্দ্রের জন্য ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সচল করার চেষ্টা করছে। এসব জরুরি সেবা সচল হওয়ার পর ধীরে ধীরে মূল কেন্দ্রগুলোকে আবার জাতীয় গ্রিডে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।

চলতি বছরে কিউবায় এটিই প্রথম ব্ল্যাকআউট নয়। গত জুলাই মাসেই মাত্র নয় দিনের মধ্যে তিনবার জাতীয় গ্রিড ভেঙে পড়েছিল, যার মধ্যে একই সপ্তাহে দুবার পুরো দ্বীপ অন্ধকারে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে একটি ব্ল্যাকআউটে প্রায় এক কোটি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। সে সময় নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু করার পরেও দেশের চাহিদানুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন না থাকায় বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হয়।

জ্বালানি সংকট, খুচরা যন্ত্রাংশের অভাব এবং পুরোনো থার্মোইলেক্ট্রিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিউবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। সেখানকার কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং সেগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

কিউবা সরকার এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে। হাভানার মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্বীপে জ্বালানি তেল সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সরঞ্জাম পাওয়া তীব্রভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করলে কিউবা তার প্রধান জ্বালানি উৎস হারায়।

ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী ছিল। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে মেক্সিকো থেকেও তেল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে কিউবা সরকারের এই দাবির বিপরীতে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, শুধু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং জ্বালানি খাতে সরকারের কয়েক দশকের অব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাবই আজকের এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।

টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কিউবার পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়া, রান্না করা এবং দৈনন্দিন সাধারণ কাজ সম্পন্ন করাও সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/জেএস