ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, মাসিক ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রতি মাসে সরকারের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। এতে আসন্ন চাষাবাদ মৌসুমে সারের সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে পড়ার সম্ভাবনা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা দেশের কৃষিখাত ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু চিমনি বেয়ে আকাশে ওড়া সাদা ধোঁয়া আর মেশিনের চিরচেনা গর্জন এখন পুরোপুরি স্তব্ধ। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গেল ১৬ মাস ধরেই বন্ধ রয়েছে এই রাষ্ট্রীয় কেপিআই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন চাকা।

কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানাটি পূর্ণ ক্ষমতায় সচল রাখতে দৈনিক প্রায় ৪৭ থেকে ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ শূন্যের কোঠায় নামায় বাধ্য হয়েই বন্ধ করতে হয়েছে উৎপাদন।

এ নিয়ে আশুগঞ্জ সার কারখানার শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু কাউসার জানান, এই কারখানাটি ১৯৮৩ সাল থেকে প্রতি বছর ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টন সার উৎপাদন করেছে এবং এখনো সেই পরিমাণ উৎপাদন করতে সক্ষম।

আমাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে অল্প সময়ের জন্য যখনি গ্যাস দিয়ে থাকে। শীতকালে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বন্ধের পর আবার মেশিন চালাতে গেলে কিছুটা যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা যখন এই যান্ত্রিক সমস্যাগুলো সমাধান করে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হই তখনি আবার গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। 

তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে যদি সারা বছর সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয় তাহলে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে সেটি কাটিয়ে উঠতে পারব।

কারখানা শ্রমিক আবু সুফিয়ান ও সামছুল হক বলেন, যন্ত্র সচল না থাকলে সেটি দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে, ঠিক তেমনি কাজ ছাড়া বসে থাকায় তাদের পেশাগত দক্ষতাও স্থবির হয়ে পড়ছে। তার ওপর মাসের পর মাস উৎপাদন না হওয়ায়, সময়মতো বেতন-ভাতা পাওয়া এবং বোনাস কাটায় আর্থিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে সাধারণ কর্মচারীদের।

এই নিয়ে আশুগঞ্জ সার কারখানা উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কারখানা বন্ধের এই ধাক্কায় তৈরি হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি। উৎপাদন না থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণ ও কারখানার যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় থেমে নেয়। ফলে প্রতি মাসে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকার বিশাল লোকসান।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন সচল রাখতে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড ক্যামিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের ভূমিকা অপরিসীম। তাই জাতীয় স্বার্থেই দ্রুততম সময়ে গ্যাস সংকট সমাধান করে এই কারখানাটি পুনরায় চালুর দাবি সংশ্লিষ্ট সবার।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি সংকটে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, মাসিক ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা

আপডেট সময় ১১:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রতি মাসে সরকারের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। এতে আসন্ন চাষাবাদ মৌসুমে সারের সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে পড়ার সম্ভাবনা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা দেশের কৃষিখাত ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু চিমনি বেয়ে আকাশে ওড়া সাদা ধোঁয়া আর মেশিনের চিরচেনা গর্জন এখন পুরোপুরি স্তব্ধ। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গেল ১৬ মাস ধরেই বন্ধ রয়েছে এই রাষ্ট্রীয় কেপিআই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন চাকা।

কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানাটি পূর্ণ ক্ষমতায় সচল রাখতে দৈনিক প্রায় ৪৭ থেকে ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ শূন্যের কোঠায় নামায় বাধ্য হয়েই বন্ধ করতে হয়েছে উৎপাদন।

এ নিয়ে আশুগঞ্জ সার কারখানার শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু কাউসার জানান, এই কারখানাটি ১৯৮৩ সাল থেকে প্রতি বছর ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টন সার উৎপাদন করেছে এবং এখনো সেই পরিমাণ উৎপাদন করতে সক্ষম।

আমাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে অল্প সময়ের জন্য যখনি গ্যাস দিয়ে থাকে। শীতকালে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বন্ধের পর আবার মেশিন চালাতে গেলে কিছুটা যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা যখন এই যান্ত্রিক সমস্যাগুলো সমাধান করে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হই তখনি আবার গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। 

তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে যদি সারা বছর সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয় তাহলে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে সেটি কাটিয়ে উঠতে পারব।

কারখানা শ্রমিক আবু সুফিয়ান ও সামছুল হক বলেন, যন্ত্র সচল না থাকলে সেটি দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে, ঠিক তেমনি কাজ ছাড়া বসে থাকায় তাদের পেশাগত দক্ষতাও স্থবির হয়ে পড়ছে। তার ওপর মাসের পর মাস উৎপাদন না হওয়ায়, সময়মতো বেতন-ভাতা পাওয়া এবং বোনাস কাটায় আর্থিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে সাধারণ কর্মচারীদের।

এই নিয়ে আশুগঞ্জ সার কারখানা উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কারখানা বন্ধের এই ধাক্কায় তৈরি হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি। উৎপাদন না থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণ ও কারখানার যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় থেমে নেয়। ফলে প্রতি মাসে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকার বিশাল লোকসান।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন সচল রাখতে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড ক্যামিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের ভূমিকা অপরিসীম। তাই জাতীয় স্বার্থেই দ্রুততম সময়ে গ্যাস সংকট সমাধান করে এই কারখানাটি পুনরায় চালুর দাবি সংশ্লিষ্ট সবার।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ