ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জুলাইয়ের ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২২৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার Logo হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের পর ইরানের যুদ্ধ কি এবার কাস্পিয়ান সাগরে? Logo লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল কুয়াকাটা সাগর, উপকূলে ফিরেছে শত শত ট্রলার Logo চলতি অর্থবছরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার Logo আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী Logo বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরাম হত্যা : চিফ প্রসিকিউটর Logo মাঠ প্রশাসনের প্রশিক্ষণ সেশনে নিজেই প্রশিক্ষকের ভূমিকায় গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী Logo সার্ককে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ Logo রাতের মধ্যে সাত অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা Logo অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির বৈঠক : ব্যাংক ও মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা

চলতি অর্থবছরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রফতানির লক্ষ্য ৫৫.২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রফতানির লক্ষ্য ৮.২ বিলিয়ন ডলার। উভয় খাতেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং সরকারি সেবার প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে রফতানিতে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রফতানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রফতানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, শিপবিল্ডিং, শিপ রিসাইক্লিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের বিকাশে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্ক কাঠামোয় বাস্তবিক অর্থে নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বহাল রয়েছে। ফলে দেশের রফতানিতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব সংস্কার, নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের রফতানি খাতে নতুন এক ঊর্ধ্বগতির সূচনা করতে চাই।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২২৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার

চলতি অর্থবছরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় ০৫:৫৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রফতানির লক্ষ্য ৫৫.২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রফতানির লক্ষ্য ৮.২ বিলিয়ন ডলার। উভয় খাতেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং সরকারি সেবার প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে রফতানিতে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রফতানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রফতানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, শিপবিল্ডিং, শিপ রিসাইক্লিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের বিকাশে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্ক কাঠামোয় বাস্তবিক অর্থে নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বহাল রয়েছে। ফলে দেশের রফতানিতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব সংস্কার, নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের রফতানি খাতে নতুন এক ঊর্ধ্বগতির সূচনা করতে চাই।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ