ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের পর ইরানের যুদ্ধ কি এবার কাস্পিয়ান সাগরে? Logo লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল কুয়াকাটা সাগর, উপকূলে ফিরেছে শত শত ট্রলার Logo চলতি অর্থবছরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার Logo আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী Logo বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরাম হত্যা : চিফ প্রসিকিউটর Logo মাঠ প্রশাসনের প্রশিক্ষণ সেশনে নিজেই প্রশিক্ষকের ভূমিকায় গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী Logo সার্ককে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ Logo রাতের মধ্যে সাত অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা Logo অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির বৈঠক : ব্যাংক ও মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা Logo পাঁচ জেলা নিয়ে বগুড়াকে বিভাগ ঘোষণা করা হচ্ছে

বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরাম হত্যা : চিফ প্রসিকিউটর

কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তাদের মধ্যে আবদুর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ খান ও মাহাবুব আলম অন্য মামলায় বর্তমানে আটক রয়েছেন।

শুনানি শেষে অভিযুক্তদের আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেফতার থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, একরাম হতাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপোর্ট দিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দিয়েছি। ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। যারা আটক আছে তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আর যারা পলাতক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৫ অগাস্ট শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, বদিউর রহমান বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই এ ঘটনা ঘটেছিল। একরাম ছিলেন তার প্রতিপক্ষ। একরামকে হত্যার পর তার সম্পত্তি এই বদি বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেন। নেপথ্য নায়ক ছিল বদি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের মতের বিরুদ্ধে গেলেই টার্গেট করে অপহরণ করতো। কাউকে আয়নাঘরে বা কাউকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হতো। এমনই একটি ঘটনা একরাম হত্যা। মোবাইল সুইচ অন থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী ও মেয়েরা ফায়ারিং আওয়াজ ও কথোপকথন শুনতে পেরেছিল। এসব কিছু আমরা আলামত হিসেবে নিয়েছি। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে সুপ্রিরিয়র রেসপনসিবিলিটি হিসেবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল,ওবায়েদুল কাদের ও বদিউর রহমান বদির নাম এসেছে।

র‍্যাবের এক কথিত মাদক বিরোধী অভিযানে ২০১৮ সালের ২৬শে মে একরামুল হক কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে নোয়াখালিয়া পাড়ায় নিহত হয়েছিলেন।

তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন এবং প্রায় এক যুগ তিনি ছিলেন টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। তখন কথিত বন্দুকযুদ্ধে তার নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রেকর্ড করা একটি অডিও প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

পরে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে এ ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা বেগম। এ মামলার পর আগে থেকেই অন্য একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আটক থাকা বদিকে এই মামলাতেও ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতার দেখানো হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এসএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের পর ইরানের যুদ্ধ কি এবার কাস্পিয়ান সাগরে?

বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরাম হত্যা : চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় ০৫:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তাদের মধ্যে আবদুর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ খান ও মাহাবুব আলম অন্য মামলায় বর্তমানে আটক রয়েছেন।

শুনানি শেষে অভিযুক্তদের আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেফতার থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, একরাম হতাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপোর্ট দিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দিয়েছি। ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। যারা আটক আছে তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আর যারা পলাতক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৫ অগাস্ট শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, বদিউর রহমান বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই এ ঘটনা ঘটেছিল। একরাম ছিলেন তার প্রতিপক্ষ। একরামকে হত্যার পর তার সম্পত্তি এই বদি বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেন। নেপথ্য নায়ক ছিল বদি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের মতের বিরুদ্ধে গেলেই টার্গেট করে অপহরণ করতো। কাউকে আয়নাঘরে বা কাউকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হতো। এমনই একটি ঘটনা একরাম হত্যা। মোবাইল সুইচ অন থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী ও মেয়েরা ফায়ারিং আওয়াজ ও কথোপকথন শুনতে পেরেছিল। এসব কিছু আমরা আলামত হিসেবে নিয়েছি। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে সুপ্রিরিয়র রেসপনসিবিলিটি হিসেবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল,ওবায়েদুল কাদের ও বদিউর রহমান বদির নাম এসেছে।

র‍্যাবের এক কথিত মাদক বিরোধী অভিযানে ২০১৮ সালের ২৬শে মে একরামুল হক কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে নোয়াখালিয়া পাড়ায় নিহত হয়েছিলেন।

তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন এবং প্রায় এক যুগ তিনি ছিলেন টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। তখন কথিত বন্দুকযুদ্ধে তার নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রেকর্ড করা একটি অডিও প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

পরে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে এ ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা বেগম। এ মামলার পর আগে থেকেই অন্য একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আটক থাকা বদিকে এই মামলাতেও ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতার দেখানো হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এসএস