ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি Logo ‘এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজ আপনি মন্ত্রী’ Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা Logo হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু Logo এবার সাইন্সল্যাব থেকে সংসদ অভিমুখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা Logo অবসরে আপিল বিভাগের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম Logo সারাদেশে বছরে গড় বৃষ্টিপাত ২২০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৭ দিনেই ১৪৫৪ Logo তিস্তার পানি কমলেও বন্যার আতঙ্ক কাটেনি Logo আগামীতে জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ১৩৩৬ বাংলাদেশি

তিস্তার পানি কমলেও বন্যার আতঙ্ক কাটেনি

কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি সোমবার রাতভর পর্যায়ক্রমে ৩, ১০ ও ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে পানি প্রবাহ সামান্য কমে গিয়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করেছিল, তবে এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে পানি পুনরায় বাড়তে শুরু করে এবং সোমবার সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করায় চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যার শঙ্কা প্রবল হয়েছে।

তিস্তার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌকা ও ভেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষ গৃহপালিত পশু, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একইসঙ্গে রয়েছে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব।

হাতীবান্ধার পারুলিয়া চরের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যার সময় চারদিকে শুধু পানি থাকায় আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে।

পানির তীব্র চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী তীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলো সংস্কার না করায় সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করে বলে অভিযোগ তাদের। শুষ্ক মৌসুমে কাজ করলে বাঁধ পাকাপোক্ত হতো এবং মানুষ নদীভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেত বলে দাবি করেন তারা।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তায় পানিপ্রবাহ বেড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে!

পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীতে পানির চাপ বাড়ছে। এতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা, ফসলি জমি ও কাঁচা রাস্তায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার কুদ্দুস আলী বলেন, “ব্যারাজে পানি বাড়লে তো আমাদের এখানে পানি বাড়বে। রাতের মধ্যেই আমাদের এখানে পানি আসবে। সেই চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম।”

একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানান হাতীবান্ধা গড্ডিমারী এলাকার জসীম উদ্দিনের। তিনি বলেন, সোমবার রাতে পানি বাড়তে শুরু করায় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।”

তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনেক অংশ টেকসই সংস্কার না করায় পানি বৃদ্ধি পেলেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বর্ষাকালে জরুরি ভিত্তিতে নামমাত্র মেরামতের কারণে কার্যকর সুরক্ষা মিলছে না।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, মাঠ পর্যায়ে তাদের টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, প্রথম দফার বন্যায় দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এবারও জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
তিনি বলেন, তিস্তাপাড়ের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি

তিস্তার পানি কমলেও বন্যার আতঙ্ক কাটেনি

আপডেট সময় ০৫:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি সোমবার রাতভর পর্যায়ক্রমে ৩, ১০ ও ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে পানি প্রবাহ সামান্য কমে গিয়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করেছিল, তবে এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে পানি পুনরায় বাড়তে শুরু করে এবং সোমবার সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করায় চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যার শঙ্কা প্রবল হয়েছে।

তিস্তার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌকা ও ভেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষ গৃহপালিত পশু, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একইসঙ্গে রয়েছে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব।

হাতীবান্ধার পারুলিয়া চরের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যার সময় চারদিকে শুধু পানি থাকায় আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে।

পানির তীব্র চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী তীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলো সংস্কার না করায় সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করে বলে অভিযোগ তাদের। শুষ্ক মৌসুমে কাজ করলে বাঁধ পাকাপোক্ত হতো এবং মানুষ নদীভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেত বলে দাবি করেন তারা।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তায় পানিপ্রবাহ বেড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে!

পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীতে পানির চাপ বাড়ছে। এতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা, ফসলি জমি ও কাঁচা রাস্তায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার কুদ্দুস আলী বলেন, “ব্যারাজে পানি বাড়লে তো আমাদের এখানে পানি বাড়বে। রাতের মধ্যেই আমাদের এখানে পানি আসবে। সেই চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম।”

একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানান হাতীবান্ধা গড্ডিমারী এলাকার জসীম উদ্দিনের। তিনি বলেন, সোমবার রাতে পানি বাড়তে শুরু করায় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।”

তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনেক অংশ টেকসই সংস্কার না করায় পানি বৃদ্ধি পেলেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বর্ষাকালে জরুরি ভিত্তিতে নামমাত্র মেরামতের কারণে কার্যকর সুরক্ষা মিলছে না।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, মাঠ পর্যায়ে তাদের টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, প্রথম দফার বন্যায় দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এবারও জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
তিনি বলেন, তিস্তাপাড়ের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ