ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিক আমানতকারীরা, দুশ্চিন্তার কিছু নেই

ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিক সাধারণ আমানতকারীরা। তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। মালিকানা বা শেয়ারের উত্থান-পতন নিয়ে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ মোট আমানতের তুলনায় শেয়ারের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য।

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের নিউ মার্কেট শাখায় আয়োজিত এক বিশেষ গ্রাহক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। তিনি বর্তমানে তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জহির হোসেন গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের পরিমাণ মাত্র ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, অথচ গ্রাহকদের আমানত প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা। শেয়ারের এই অনুপাত মোট আমানতের একটি নগণ্য অংশ মাত্র। সুতরাং শেয়ার নিয়ে গ্রাহকদের বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ ও ইসলামী জাতীয়তাবাদের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বিশ্বজুড়ে অনেক ইসলামী ব্যাংক থাকলেও আমাদের এই ব্যাংকটি এ অঞ্চলের অন্যতম পথপ্রদর্শক। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ইনশাআল্লাহ ইসলামী ব্যাংকও সগৌরবে টিকে থাকবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমানভাবে এ ব্যাংকের সেবা পাবেন। এটি কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের ব্যাংক হবে না, এটি হবে সর্বসাধারণের ব্যাংক।

ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে প্রধান অতিথি জানান, ব্যাংকের হারানো অর্থ ও লুটের টাকা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।

একইসঙ্গে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের দক্ষ ম্যানেজমেন্ট যারা ৩০-৩৫ বছর ধরে কাজ করছেন, তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের কাজ শুধু পলিসি (নীতিমালা) দেওয়া, ব্যাংক পরিচালনা করবেন প্রফেশনালরাই।

গ্রাহকদের আমানত বৃদ্ধিতে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের নতুন ভোর উদিত হয়েছে। আমাদের আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে ব্যাংকটি তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনে স্বল্প সময়ের মধ্যেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের শরী’আহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য শাহ মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ। তিনি ব্যাংকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে আজ যে অবস্থানে এসেছে, তার পেছনে আমাদের পূর্বপুরুষদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ রয়েছে।

ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা সেন্ট্রাল জোন প্রধান মো. মাহবুব-এ-আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. মাহবুব আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন নিউ মার্কেট শাখার প্রধান মুহাম্মদ মাহবুবুস সাজ্জাদ।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিক আমানতকারীরা, দুশ্চিন্তার কিছু নেই

আপডেট সময় ০৯:২২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিক সাধারণ আমানতকারীরা। তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। মালিকানা বা শেয়ারের উত্থান-পতন নিয়ে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ মোট আমানতের তুলনায় শেয়ারের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য।

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের নিউ মার্কেট শাখায় আয়োজিত এক বিশেষ গ্রাহক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। তিনি বর্তমানে তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জহির হোসেন গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের পরিমাণ মাত্র ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, অথচ গ্রাহকদের আমানত প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা। শেয়ারের এই অনুপাত মোট আমানতের একটি নগণ্য অংশ মাত্র। সুতরাং শেয়ার নিয়ে গ্রাহকদের বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ ও ইসলামী জাতীয়তাবাদের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বিশ্বজুড়ে অনেক ইসলামী ব্যাংক থাকলেও আমাদের এই ব্যাংকটি এ অঞ্চলের অন্যতম পথপ্রদর্শক। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ইনশাআল্লাহ ইসলামী ব্যাংকও সগৌরবে টিকে থাকবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমানভাবে এ ব্যাংকের সেবা পাবেন। এটি কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের ব্যাংক হবে না, এটি হবে সর্বসাধারণের ব্যাংক।

ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে প্রধান অতিথি জানান, ব্যাংকের হারানো অর্থ ও লুটের টাকা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।

একইসঙ্গে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের দক্ষ ম্যানেজমেন্ট যারা ৩০-৩৫ বছর ধরে কাজ করছেন, তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের কাজ শুধু পলিসি (নীতিমালা) দেওয়া, ব্যাংক পরিচালনা করবেন প্রফেশনালরাই।

গ্রাহকদের আমানত বৃদ্ধিতে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের নতুন ভোর উদিত হয়েছে। আমাদের আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে ব্যাংকটি তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনে স্বল্প সময়ের মধ্যেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের শরী’আহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য শাহ মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ। তিনি ব্যাংকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে আজ যে অবস্থানে এসেছে, তার পেছনে আমাদের পূর্বপুরুষদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ রয়েছে।

ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা সেন্ট্রাল জোন প্রধান মো. মাহবুব-এ-আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. মাহবুব আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন নিউ মার্কেট শাখার প্রধান মুহাম্মদ মাহবুবুস সাজ্জাদ।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ