ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইএমএফের নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা শুরু কাল

নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দল আগামীকাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনায় বসবে।

এ আলোচনার উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি এবং এ পর্যন্ত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু করতে পারে আইএমএফ।

সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে। এই অর্থ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ সামাল দেওয়া ও অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন অর্থমন্ত্রী।

চিঠিতে আইএমএফকে জানানো হয়, আগের ঋণ কর্মসূচি নেওয়ার সময়ের অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা এখন বদলে গেছে। রাজনৈতিক অর্থনীতির পরিবর্তন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে সরকার সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসছে না; বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করতে চায়।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় প্রায় পুরো অর্থনীতি সূচকগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংস্কারের অগ্রগতি, কর–ব্যয়ের সংস্কার ও আর্থিক খাত সংস্কারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

ব্যাংক খাতও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদার, খেলাপি ঋণ কমানোর কৌশল, ব্যাংক পুনর্গঠন ও অবসায়ন কার্যক্রমে অর্থায়নের ব্যবস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে আইএমএফ।

এ ছাড়া রাজস্ব আদায় কম হওয়া ও সরকারি ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয় নিয়েও আলোচনা হবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কতটা বাস্তবসম্মত, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর কার্যকারিতা ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থ কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করা হচ্ছে, সে বিষয়েও জানতে চাইবে আইএমএফ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। প্রতিনিধিদলের মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে পরবর্তী ধাপে পূর্ণাঙ্গ ঋণ আলোচনা শুরু হবে। সেখানে নতুন ঋণের পরিমাণ, অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এবং সংস্কারের শর্ত চূড়ান্ত হবে।

অন্যদিকে, সংস্কারে অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে অথবা নতুন কর্মসূচির শর্ত আরও কঠোর হতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইএমএফের নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা শুরু কাল

আপডেট সময় ১১:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দল আগামীকাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনায় বসবে।

এ আলোচনার উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি এবং এ পর্যন্ত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু করতে পারে আইএমএফ।

সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে। এই অর্থ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ সামাল দেওয়া ও অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন অর্থমন্ত্রী।

চিঠিতে আইএমএফকে জানানো হয়, আগের ঋণ কর্মসূচি নেওয়ার সময়ের অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা এখন বদলে গেছে। রাজনৈতিক অর্থনীতির পরিবর্তন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে সরকার সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসছে না; বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করতে চায়।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় প্রায় পুরো অর্থনীতি সূচকগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংস্কারের অগ্রগতি, কর–ব্যয়ের সংস্কার ও আর্থিক খাত সংস্কারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

ব্যাংক খাতও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদার, খেলাপি ঋণ কমানোর কৌশল, ব্যাংক পুনর্গঠন ও অবসায়ন কার্যক্রমে অর্থায়নের ব্যবস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে আইএমএফ।

এ ছাড়া রাজস্ব আদায় কম হওয়া ও সরকারি ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয় নিয়েও আলোচনা হবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কতটা বাস্তবসম্মত, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর কার্যকারিতা ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থ কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করা হচ্ছে, সে বিষয়েও জানতে চাইবে আইএমএফ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। প্রতিনিধিদলের মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে পরবর্তী ধাপে পূর্ণাঙ্গ ঋণ আলোচনা শুরু হবে। সেখানে নতুন ঋণের পরিমাণ, অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এবং সংস্কারের শর্ত চূড়ান্ত হবে।

অন্যদিকে, সংস্কারে অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে অথবা নতুন কর্মসূচির শর্ত আরও কঠোর হতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস