ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ‘পরিচয় সংকটে’ বিএনপিতে যোগ দেওয়া হেভিওয়েটরা! Logo শেখ হাসিনার দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo জমির উদ্দিন সরকারের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত Logo ইরান যুদ্ধের কট্টর সমর্থক মার্কিন সিনেটর গ্রাহাম মারা গেছেন Logo নেত্রকোণায় উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে Logo মন্দা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক Logo সাতক্ষীরা সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গুলি, পালালেন দুই ভারতীয় Logo দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী Logo বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন, বান্দরবানে উদ্ধার ৬০০ মানুষ Logo মুজিববর্ষ উদযাপনে খরচ ৯৮৩ কোটি টাকা : সংসদে অর্থমন্ত্রী
কক্সবাজারে আতঙ্কে লাখো মানুষ

পাহাড়ধসে ১১ জনের মৃত্যু

টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগর এলাকায় বিশ্রামে থাকা স্বামী-স্ত্রীর উপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়লে স্ত্রী নাসিমা আক্তার লিমার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী জসিম উদ্দিন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৃত নাসিমার লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে ও আহত স্বামী একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে, যেখানে এক রাতেই তিনটি পৃথক স্থানে আটজন নিহত হন। সোমবার (৬ জুলাই) পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে পাহাড়ধসে মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

এছাড়া কক্সবাজার শহর, সদর উপজেলার দরিয়ানগর এবং পেকুয়ায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় জেলার পাহাড়ঘেরা এলাকায় প্রায় তিন লাখ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও রামুর বিভিন্ন পাহাড়ঘেরা এলাকায় প্রায় তিন লাখ মানুষ পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। টানা বর্ষণে এসব এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে ক্যাম্পের বহু এলাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মতে, এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে সৃষ্টি হওয়া মানবসৃষ্ট বিপর্যয়।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘পরিচয় সংকটে’ বিএনপিতে যোগ দেওয়া হেভিওয়েটরা!

কক্সবাজারে আতঙ্কে লাখো মানুষ

পাহাড়ধসে ১১ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৮:২৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগর এলাকায় বিশ্রামে থাকা স্বামী-স্ত্রীর উপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়লে স্ত্রী নাসিমা আক্তার লিমার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী জসিম উদ্দিন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৃত নাসিমার লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে ও আহত স্বামী একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে, যেখানে এক রাতেই তিনটি পৃথক স্থানে আটজন নিহত হন। সোমবার (৬ জুলাই) পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে পাহাড়ধসে মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

এছাড়া কক্সবাজার শহর, সদর উপজেলার দরিয়ানগর এবং পেকুয়ায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় জেলার পাহাড়ঘেরা এলাকায় প্রায় তিন লাখ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও রামুর বিভিন্ন পাহাড়ঘেরা এলাকায় প্রায় তিন লাখ মানুষ পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। টানা বর্ষণে এসব এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে ক্যাম্পের বহু এলাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মতে, এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে সৃষ্টি হওয়া মানবসৃষ্ট বিপর্যয়।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস