ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৭ মিনিটের ‘ঝড়’, ইতালি-বধ করা বসনিয়াকে গোলবন্যায় ভাসাল সুইজারল্যান্ড

বিশ্বকাপ মানেই অঘটনের মঞ্চ। বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে ইতালিকে বিদায়ের মিছিলে ঠেলে দিয়ে রূপকথার জন্ম দেওয়া বসনিয়া ওহার্জেগোভিনা যেন সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বপ্নই দেখছিল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। ম্যাচের ৭৩ মিনিট পর্যন্ত তাদেররক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং লড়াকু মানসিকতা সেই স্বপ্নের পালেই হাওয়া দিচ্ছিল। কিন্তু ফুটবলে ভাগ্য এবং মনোযো দুইয়েরই বড় ভূমিকাথাকে। শেষ ১৭ মিনিটের ঝড়ে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে সুইসরা শুধু ম্যাচটিই জিতল না, নিজেদের শক্তির জানান দিল ৪-১গোলের বিশাল জয়ে ।

পুরো ম্যাচজুড়ে সুইজারল্যান্ড আক্রমণ চালালেও বসনিয়ার রক্ষণব্যূহ ভাঙা ছিল এক দুরূহ কাজ। সুইজারল্যান্ড কোচ যখন কিছুটামরিয়া, তখনই মাঠে নামানো হয় জোহান মানজাম্বিকে। ৭১ মিনিটে মাঠে নেমেই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন তিনি। ৭৪ মিনিটে তারপায়ের জাদুকরী এক ফিনিশিংয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার গোলের দেখা পায় সুইসরা। আর এরপরই যেন বাঁধ ভেঙে যায় বসনিয়ার।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বড় ধরনের বিপদে পড়ে বসনিয়া। ১০ জনেরদল নিয়ে তারা আর দীর্ঘক্ষণ সুইস আক্রমণ সামলাতে পারেনি। এরপর যেন কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল ব্যবধান বড় হওয়ার। ৮৪মিনিটে রুবেন ভার্গাস গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৯০ মিনিটে মানজাম্বি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে বসনিয়ার সব আশা শেষহয়ে যায়।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে এরমিন মাহমিচ একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করলেও তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। একেবারে শেষমুহূর্তে অধিনায়ক গ্রানিত জাকার পেনাল্টি গোলটি ছিল যেন সুইজারল্যান্ডের আধিপত্যের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তাতে ৪-১ গোলেরবিশাল জয় পায় সুইসরা।

বসনিয়ার মতো অঘটনপ্রিয় দলের বিপক্ষে এই জয় সুইজারল্যান্ডকে নকআউট পর্বের (শেষ ৩২) পথে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়েগেল। অন্যদিকে, লড়াকু বসনিয়া এদিন হেরে গেলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা মুগ্ধ করেছে ভক্তদের।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

১৭ মিনিটের ‘ঝড়’, ইতালি-বধ করা বসনিয়াকে গোলবন্যায় ভাসাল সুইজারল্যান্ড

আপডেট সময় ০৭:২৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ মানেই অঘটনের মঞ্চ। বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে ইতালিকে বিদায়ের মিছিলে ঠেলে দিয়ে রূপকথার জন্ম দেওয়া বসনিয়া ওহার্জেগোভিনা যেন সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বপ্নই দেখছিল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। ম্যাচের ৭৩ মিনিট পর্যন্ত তাদেররক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং লড়াকু মানসিকতা সেই স্বপ্নের পালেই হাওয়া দিচ্ছিল। কিন্তু ফুটবলে ভাগ্য এবং মনোযো দুইয়েরই বড় ভূমিকাথাকে। শেষ ১৭ মিনিটের ঝড়ে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে সুইসরা শুধু ম্যাচটিই জিতল না, নিজেদের শক্তির জানান দিল ৪-১গোলের বিশাল জয়ে ।

পুরো ম্যাচজুড়ে সুইজারল্যান্ড আক্রমণ চালালেও বসনিয়ার রক্ষণব্যূহ ভাঙা ছিল এক দুরূহ কাজ। সুইজারল্যান্ড কোচ যখন কিছুটামরিয়া, তখনই মাঠে নামানো হয় জোহান মানজাম্বিকে। ৭১ মিনিটে মাঠে নেমেই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন তিনি। ৭৪ মিনিটে তারপায়ের জাদুকরী এক ফিনিশিংয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার গোলের দেখা পায় সুইসরা। আর এরপরই যেন বাঁধ ভেঙে যায় বসনিয়ার।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বড় ধরনের বিপদে পড়ে বসনিয়া। ১০ জনেরদল নিয়ে তারা আর দীর্ঘক্ষণ সুইস আক্রমণ সামলাতে পারেনি। এরপর যেন কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল ব্যবধান বড় হওয়ার। ৮৪মিনিটে রুবেন ভার্গাস গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৯০ মিনিটে মানজাম্বি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে বসনিয়ার সব আশা শেষহয়ে যায়।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে এরমিন মাহমিচ একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করলেও তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। একেবারে শেষমুহূর্তে অধিনায়ক গ্রানিত জাকার পেনাল্টি গোলটি ছিল যেন সুইজারল্যান্ডের আধিপত্যের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তাতে ৪-১ গোলেরবিশাল জয় পায় সুইসরা।

বসনিয়ার মতো অঘটনপ্রিয় দলের বিপক্ষে এই জয় সুইজারল্যান্ডকে নকআউট পর্বের (শেষ ৩২) পথে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়েগেল। অন্যদিকে, লড়াকু বসনিয়া এদিন হেরে গেলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা মুগ্ধ করেছে ভক্তদের।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস