পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারতে বসবাসকারী নারী, শিশুসহ ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ভুক্তভোগীরা দুই দেশের মধ্যবর্তী জিরোলাইনে অবস্থান নিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গভীর রাতে ভারতে তাদের পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে পঞ্চগড় সদরের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮ এর ৫ নম্বর সাব পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি ও স্থানীয়রা। পরে সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হলেও সুরাহা হয়নি।
শনিবার (৬ জুন) দুপুর পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টা ধরে ওই নারী ও শিশুসহ ১০ জন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিল। বৃষ্টি আর বজ্রপাতের সময়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাদা-পানির মধ্যেই শুয়ে বসে ছিলেন।
এ ঘটনায় সীমান্তের উভয় পাশে বিএসএফ-বিজিবি মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে। অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে সীমান্তবাসীদের।
শুক্রবার বিকেলে বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সুরুজ মিয়া, নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সংকট নিরসনে শনিবার দুপুরের বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে আবারও পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী-পুরুষসহ ১০ জনকে রাতের আঁধারে পুশইনের চেষ্টা করে। এ নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আজ আবারও বৈঠক করেছি।
তিনি আরও বলেন, ভারতের ৯৩ বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা বাংলাদেশের নাগরিক, এজন্য তাদেরকে ফেরত নিতে চান না। তবে আমরা বলেছি যে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হলে আন্তর্জাতিক আইন মেনে প্রপার চ্যানেলে পাঠান।
এভাবে রাতের অন্ধকারে পাঠানো হলে তাদেরকে কোনোভাবেই রিসিভ করব না। তারা বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের মধ্যেও খোলা মাঠে অবস্থান করছে। এটা অমানবিক।শেষে তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানাতে চেয়েছেন।
বাংলা৭১নিউজ/এসএন