বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

মুন্সীগঞ্জে ১৩ বছরের মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নির্যাতন, বৃদ্ধ শিক্ষক কারাগারে

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আপর কাঠি উম্মুল কুরা সিরাজুল ইসলাম মহিলা মাদরাসার ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে প্রতারণামূলকভাবে বিয়ে করে মাদরাসায় রেখে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা দেলোয়ারকে (৬৫) কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

বুধবার ( ১৩ মে ) বিকেল পাঁচটার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা দেলোয়ারকে মুন্সীগঞ্জ আদালতে হাজির করা হলে মুন্সীগঞ্জ আমলী আদালত ৪ এর বিচারক আশিকুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে টঙ্গীবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়।

জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা দেলোয়ার ওই মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে বিয়ে করে মাদরাসায় রেখে দীর্ঘদিন যাবত যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুটি নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বিষয়টি তার খালাকে জানালে ঘটনাটি ওই মাদরাসার অভিভাবক ও আশেপাশের লোকজনের মধ্যে জানাজানি হয়। পরে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা দেলাওয়ারকে (৬৫) আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের স্ত্রী এবং বড় বড় একাধিক সন্তান থাকা সত্ত্বেও প্রতারণামূলকভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীকে কোনো কাবিন রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই বিয়ে করে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী মাদরাসাছাত্রীর খালু মনির হোসেন খান বলেন, ভুক্তভোগী আমার স্ত্রীর বড় বোনের মেয়ে। তাদের বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাবো থানার বিন্না বাইত এলাকায়। তিনি আমার বাড়িতে থেকে এলাকার ওই আবাসিক মাদরাসায় লেখাপড়া করছে। বোর্ডের পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলে আরও দুই ছাত্রীসহ মাওলানা দেলোয়ার আমার ভাগ্নিকে গত ২৪ শে জানুয়ারি টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং মাদরাসায় নিয়ে যায়।

পরে বাকি দুই ছাত্রীকে টঙ্গীবাড়ি বাজারে পুরস্কার দেওয়ার কথা বলে পুরস্কার পছন্দ করতে বলেন। আমার ভাগ্নিকে বড়লিয়া এলাকায় নিয়ে আরও দুইজন মাদরাসাশিক্ষকের সহায়তায় ভয়-ভীতি দেখিয়ে সরা-কাবিন করে বিয়ে করেন।

পরে মাদরাসায় রেখে আমার ভাগ্নিকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন করেন। আমার ভাগ্নি অতিষ্ঠ হয়ে বিষয়টি তার খালাকে জানালে আমরা স্থানীয় লোকজন নিয়ে এসে ওই মাদরাসার শিক্ষককে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।

স্থানীয়রা জানান, মাওলানা দেলোয়ার বিবাহিত। তার একাধিক বড় বড় ছেলে মেয়ে রয়েছে। তিনি তার নাতিনের বয়সের একটি মেয়েকে বিয়ের নামে মাদরাসায় রেখে যৌন নির্যাতন করছেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও অন্যান্য ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাওলানা দেলাওয়ার বলেন, আমি ওই ছাত্রীকে বিয়ে করছি। তবে, প্রমাণ দেখতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই। সরা করে বিয়ে করছি, মেয়ের তো বয়স হয় নাই। বয়স হলে পরবর্তীতে কাবিন রেজিস্ট্রি করব।

তিনি আরও বলেন, ওই ছাত্রী তার মাদরাসায় তিন বছর ধরে লেখাপড়া করে। তিনি ওই ছাত্রীর বয়স ১৪ বছর বলে জানান। ১৪ বছরের মেয়েকে কেন বিয়ে করলেন জানতে চাইলে তার কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) কাজী মাসুদ রানা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে টঙ্গীবাড়ী থানায় ধর্ষণ মামলা রুজু হয়েছে। মামলার শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com