
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ রাত থেকেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এইমাত্র লেবাননের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিবি নেতানিয়াহুর সঙ্গে চমৎকার আলোচনা করেছি। এই দুই নেতা সম্মত হয়েছেন যে, তাদের দেশগুলোর মধ্যে শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে তারা আজ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় (ইএসটি) বিকেল ৫টা (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৩টা) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু করবেন।’
তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর দেশ দু’টি প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেছিল। আমি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান রেজিন কেইনকে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে তারা ইসরায়েল ও লেবাননের সঙ্গে মিলে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের জন্য কাজ করেন।’
দ্বিতীয় বার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ থামানো ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের কৃতিত্ব দাবি করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ৯টি যুদ্ধের সমাধান করা আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল এবং এটি হবে আমার ১০ম, তাই চলুন, কাজটা শেষ করি!’
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া দ্বিতীয় পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি আলোচনার জন্য উভয় দেশের নেতাদের ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানাবেন।
তিনি লিখেছেন, ‘আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিবি নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাবো, যা হবে ১৯৮৩ সালের পর ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রথম অর্থপূর্ণ আলোচনা—অনেক দীর্ঘ সময় পর।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘উভয় পক্ষই শান্তি চায়, এবং আমি বিশ্বাস করি তা দ্রুতই ঘটবে!’
প্রসঙ্গত, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় লেবাননের যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল ইরানের অন্যতম শর্ত। কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার আগে লেবাননে এই যুদ্ধবিরতিকে একটি ‘ইতিবাচক সূচনা’ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বাংলা৭১নিউজ/জেএস