বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আওয়ামী লীগের আমলের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে : আইনমন্ত্রী ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে ঐতিহাসিক আলোচনার ঘোষণা ট্রাম্পের ‘আওয়ামী লীগ আমলে বিসিএসে নিয়োগে দলীয়করণের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বিকেলে স্বাধীনতা পুরস্কার হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ: তিন দেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্কে স্কুলে বন্দুক হামলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯ টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ার হাসপাতালে মির্জা আব্বাস ‘যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা নিয়ে’ ইরানে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির সম্পর্কে যা জানা গেলো

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক নন বলে প্রচার পায়। তার কিছু ছবি প্রচার করে তাকে বিত্তশালী এবং কৃষক নন বলে দাবি করা হয়। একইসঙ্গে তার কিছু এআই নির্মিত ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার তৈরি হয়।

তবে স্থানীয়রা বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে কবির হোসেন একজন কৃষক। পৈত্রিক জমি ছাড়াও অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করেন তিনি।

জানা যায়, মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের পৈত্রিক জমি রয়েছে ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন। তবে কৃষিকাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় প্রধানমন্ত্রী কবির হোসেনসহ আরও ১৫ জন কৃষককে নিজ হাতে কার্ড দেন।

অনুষ্ঠানে কৃষক হিসেবে কবির হোসেন বক্তব্য রাখেন। এরপরই কবির হোসন প্রকৃত কৃষক নয় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ২০২৫ সালে তিনি এআই দিয়ে তৈরি করা কিছু ছবি নিজের টাইমলাইনে পোস্ট করেন। সেই ছবিগুলো হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে। আর সেসব ছবি পোস্ট করেই তার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়।

এছাড়া বুধবার আলোচিত সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্যও তাদের নিজস্ব ফেসবুকে কবির হোসেন সম্পর্কে পোস্ট করেন। তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

এছাড়া বুধবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় কবিরের বাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কবির হোসেন মূলত প্রকৃত কৃষক। ধানচাষের পাশাপাশি তিনি গরুও লালনপালন করে থাকেন। তিনি এলাকায় একজন ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবেই পরিচিত। একটি টিনের ঘরে থাকেন তিনি। বাড়ির সামনেই সবজি আবাদ করেছেন। এছাড়া বাড়ির পেছনে তিনি গরু লালন পালন করেন।

স্থানীয়রা জানায়, বাবার মতো কবির হোসেনও একজন প্রকৃত কৃষক। তাদের টিনের ঘর রয়েছে। কবির কৃষিকাজ করলেও তিনি নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করেন। যার কারণে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব রয়েছেন। তিনি নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করে থাকেন। তিনি কৃষি কার্ড পাওয়ার যোগ্য। তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

স্থানীয় আমেনা বেগম বলেন, কবির আমাদের এলাকার ছেলে। তিনি প্রকৃতপক্ষেই কৃষক। ছোট থেকেই আমরা দেখে আসছি তিনি কৃষি কাজ করছেন। তিনি ধানচাষের পাশাপাশি গরুও লালনপালন করেন।

মির্জা শিশির বলেন, কবির আমাদের সঙ্গে লেখাপড়া করেছে। ছোটবেলা থেকেই তারা গরিব। তাদের পেশা মূলত কৃষিকাজ। তিনি একজন প্রকৃত কৃষক। যারা বলছেন কবির কৃষক না- তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

রমজান আলী বলেন, অনেকদিন ধরেই কবির কৃষি কাজ করছেন। তার বাবা-দাদা সবাই কৃষক। একজন কৃষকের কী ভালো মানের পোশাক পরার অধিকার নেই। প্রধানমন্ত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এমন মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। কৃষক কার্ডের আবেদনের জন্য আমাদের এলাকায় মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে।

কৃষক কবির হোসেন বলেন, আমি একজন কৃষক। বাবার দেওয়া আমার ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া আমি অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করি। কৃষিকাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি। আমার নিজের কিছু ছবি এআই দিয়ে বানিয়ে ফেসবুকে দেয়েছিলাম। বর্তমানে তা নিয়ে অনেকেই অপ্রচার করছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

সবাইকে তার বাড়িতে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন কৃষকের কি ভালো মানের পোশাক পরা অপরাধ? আমার কোনো দলীয় পদ নেই।

এ ব্যাপারে ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ কবিরুজ্জামান ডল বলেন, কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক। তিনি দীর্ঘদিন করে অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করেন। এছাড়া তিনি গরু লালন পালন ও সবজি আবাদ করেন। কবিরের নামে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করার জন্য আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়। কবির হোসেন আমাদের তালিকাভুক্ত প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক। তিনি নিজ বাড়ির সামনেই অনেক সবজি ও ফসল আবাদ করছেন। কৃষকদের তালিকাগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কবির কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য। সরজেমিনে আমার যা পেয়েছি তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবো।

বাংলা৭১নিউজ/এসএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com