
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে ‘পূর্ণ প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।
সোমবার পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রিসভাকে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
গত শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। এ বিষয়ে তার প্রথম মন্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার এই আলোচনাকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শেহবাজ শরীফ বলেন, ‘আজও যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে। আমি যখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, তখনও যেসব বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে, সেগুলো সমাধানের জন্য পূর্ণ প্রচেষ্টা চলছে।’
ইসলামাবাদ আলোচনা পাকিস্তানকে ‘আসন্ন যুদ্ধের মেঘকে স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করার সুযোগ দিয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি ইতিহাসের দিকে তাকান — যেমন অসলো চুক্তি, জেনেভা চুক্তি, গুড ফ্রাইডে চুক্তি… দেখবেন শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে কয়েক মাস, এমনকি কখনও কখনও বছরও লেগেছে।’
ইসলামাবাদ আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদল একটানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছিল এবং সংলাপটি পরোক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি, প্রথমবার মতো দুই প্রতিনিধিদল মুখোমুখি বসেছিল। আমি এর সাক্ষী।’
শেহবাজ বলেন, ‘দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে আছে। এ কারণেই আমি বিশ্বাস করি যে ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আজ জাপানি প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।’
এছাড়াও গত কয়েকদিনে ইউরোপীয় নেতাদের কাছ থেকেও ফোন পেয়েছেন, যারা পাকিস্তানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন বলেও জানান শেহবাজ শরীফ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরান- যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা প্রশমনে অবদানের জন্য বিশেষ করে দেশাটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং প্রতিরক্ষা সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তাদের দলকে প্রশংসা করেছেন।
তিনি বলেন, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তার দলের দূরদর্শিতার কারণেই পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতা করতে সক্ষম হয়েছিল।
পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় গোপনীয় বিষয় যাতে ফাঁস না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তার ছিল। সুতরাং, সেই গোপনীয় বিষয়গুলো আমার হৃদয়েই প্রোথিত। কিন্তু, আমি আপনাদের এটুকু বলতে পারি যে… ফিল্ড মার্শাল এবং তার দল বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন। এমন মুহূর্তও ছিল যখন পরিস্থিতি প্রায় ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, কিন্তু তারপর সেগুলোর সমাধান করা হয়।’
শেহবাজ আরও দাবি করেন, আলোচনার পর মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল পৃথক বিবৃতি দিলেও সেগুলোতে সাদৃশ্য ছিল। উভয় পক্ষ আলোচনা আয়োজনের জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে।
তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ পাকিস্তানকে এমন দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করার সুযোগ দিয়েছেন, যারা ৪৭ বছর ধরে একে অপরের দিকে তাকাতেও প্রস্তুত ছিল না’। এই আলোচনাকে ২৪ কোটি পাকিস্তানির জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দেন পাক প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: ডন
বাংলা৭১নিউজ/জেএস