সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
অফিসে অবস্থান-জ্বালানি সাশ্রয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনলো সিআইডি ঈদের মাসে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড ঢাকার দুটিসহ ৫ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির ইরানের হামলায় জ্বলছে ইসরায়েলি কারখানা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে : ভূমিমন্ত্রী পুলিশের সংস্কারে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে সরকার গণভোট-জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আগে আলোচনা হোক সংসদে, নাহিদ ইসলাম

ঘরে-বাইরে প্রচণ্ড চাপে ট্রাম্প

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে প্রায় এক মাস আগে ইরানে হামলা চালান, তখন তার ধারণা ছিল কয়েক দিনের মধ্যে ইরানে সরকার পরিবর্তন হয়ে যাবে। আর তিনি যুদ্ধে জয়ী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেবেন। সেই পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটির সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিটি। কিন্তু যুদ্ধে নেমে তিনি দেখলেন উল্টো চিত্র। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা এবং অব্যাহত হামলা চালিয়েও তিনি দেশটিকে কাবু করতে পারেননি। উল্টো এখন বেকায়দায় পড়েছেন তিনি নিজে।

একদিকে যুদ্ধের ময়দানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মার খাচ্ছে, অন্যদিকে নিজ দেশেই তুমুল বিরোধিতার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। পুরো আমেরিকাজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে তার বিরুদ্ধে। লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। আগামী নভেম্বরে যখন তিনি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন, সেই মুহূর্তে ঘরে-বাইরে এই চাপ ট্রাম্পকে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এবার তিনি কী করবেন, কীভাবে এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেবেন, সেটা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে তৃতীয়বারের মতো বিক্ষোভটি হলো গতকাল শনিবার। প্রথমটি হয় গত বছরের জুনে তার ৭৯তম জন্মদিন এবং ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সামরিক কুচকাওয়াজের দিনে। একই বছরের অক্টোবরে হওয়া দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভে ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। আর শনিবারের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৮০ লাখের বেশি। এবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অতিরিক্ত ৬০০টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সংবিধানের ওপর হস্তক্ষেপের অভিযোগও তুলেছেন। পাশাপাশি ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট উল্লেখ করে পদত্যাগ দাবি করেছেন।

এই বিক্ষোভের ঠিক চারদিন আগে একটি জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছিল বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ-এর জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলমান সংঘাত ট্রাম্পের রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রশাসনের জন্য খুব দ্রুত একটি বড় রাজনৈতিক দায় বা বোঝায় পরিণত হতে যাচ্ছে। জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিনি (৬১%) ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার সমালোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিক মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপ অনেক দূর গড়িয়েছে। চলমান যুদ্ধের কারণে তারা পেট্রল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্বেগের মধ্যে আছেন।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে রাজনৈতিক চাপে আছে। এমন অবস্থায় স্থল অভিযান চালানো হলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

গত বৃহস্পতিবার ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসির লং ওয়ার জার্নালে দুই গবেষক রায়ান ব্রবস্ট ও ক্যামেরন ম্যাকমিলান লিখেছেন, স্থল অভিযানটি অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হলেও এটি মার্কিন সেনাদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। যুদ্ধও তখন শেষ হওয়ার পরিবর্তে আরও দীর্ঘায়িত হবে। সেটি হলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়বেন।

রোববার যুক্তরাজ্যের প্রথম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লর্ড রিকেটসও একই মত দিয়েছেন। স্কাই নিউজকে তিনি বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে কোনো মীমাংসার লক্ষণ আপাতত নেই। এখন এটি ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে যে, তিনি যুদ্ধবিরতির দিকে যাবেন নাকি আমেরিকান সৈন্য পাঠিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়াবেন।

দেশজুড়ে এক-দুই দিনের ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়তো তাৎক্ষণিক কোনো ফলাফল বয়ে আনবে না। কিন্তু নভেম্বরের নির্বাচনের আগে বড় ধরনের বিক্ষোভ ইতোমধ্যে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিকে ভাবিয়ে তুলেছে। রোববার এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে লিখেছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের জন্য আদর্শিক বিশুদ্ধতা নাকি বৃহত্তর জনমত- কোন পথটি সবচেয়ে ভালো হবে, তা নিয়ে দলটির সক্রিয় কর্মীদের মধ্যে বিতর্ক চলছে।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দফায় ইরানের শাসনব্যবস্থা বদলের হুমকি দিয়েছেন। অভিযানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করতে পারলেও ইসলামিক শাসনব্যবস্থা এখনো টিকে আছে। যেটিকে যুদ্ধে ট্রাম্পের নৈতিক হার হিসেবে দেখছেন অনেকে।

আল জাজিরার সংবাদ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তাদের প্রথম সারির নেতারা নিহত হওয়ার পরও মনোবল পুরোপুরি ভেঙে যায়নি। এমনকি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেটাতে খুব একটা সাড়া দিচ্ছে না ইরান। দেশটি চাচ্ছে, এই সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ তাদের মিত্রদের চরম শিক্ষা দেওয়া।

বাংলা৭১নিউজ/এএস

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com