
সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে ইরান।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের ‘সৌদি আরামকো’র সামরেফ তেল শোধনাগারে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বর্তমানে ‘মূল্যায়ন করা হচ্ছে’।
এ ঘটনা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এদিকে, কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রফতানি স্থাপনায় আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের এ হামলায় স্থাপনাগুলোতে ‘বড় ধরনের আগুন’ লাগার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার এনার্জি।
রাষ্ট্রায়ত্ত এ জ্বালানি কোম্পানিটি জানিয়েছে, হামলায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ওই হামলায় তাদের ‘পার্ল জিটিএল’ (গ্যাস-টু-লিকুইডস) স্থাপনার ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
এছাড়া কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হামলার ফলে সেখানে ‘সীমিত’ পর্যায়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
কুয়েত নিউজ এজেন্সি (কেএনএ) কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে এ ড্রোন হামলা কোথা থেকে চালানো হয়েছে, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি। তেল শোধনাগারটি কুয়েত সিটি থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। দৈনিক ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই স্থাপনাটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার।
এছাড়া কুয়েতের মিনা আব্দুল্লাহ তেল শোধনাগারেও হামলা হয়েছে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাব তেলক্ষেত্র এবং হাবসান গ্যাস কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব জ্বালানি ক্ষেত্রে মিসাইল ছুড়েছিল তেহরান। তবে মিসাইলগুলো সরাসরি আঘাত হানতে পারেনি। সেগুলো প্রতিরোধ করা হয়েছে। তবে এগুলোর ধ্বংসাবশেষ গিয়ে পড়েছে গ্যাস কমপ্লেক্স ও তেলক্ষেত্রে।
এমন পরিস্থিতিতে গ্যাস কমপ্লেক্সের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে আমিরাত। দেশটির আবুধাবি মিডিয়া অফিস এ তথ্য জানিয়েছে।
মিডিয়া অফিস বলেছে, বাব তেলক্ষেত্র এবং হাবসান গ্যাস কমপ্লেক্সে জরুরি পরিষেবার কর্মীরা কাজ করছেন। এটি বিশ্বের অন্যতম বড় স্থল গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। তবে এসব হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।
সূত্র: আল–জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন, বিবিসি
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ