আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচ্চপর্যায়ের এক নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও প্রতিনিধি দলের প্রধান টোমাস জেডেখভস্কি এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে মূলত আসন্ন নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইইউ প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক রূপান্তর এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রতিনিধি দলটি অত্যন্ত বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় সদস্যদের নিয়ে গঠিত। প্রতিনিধি দলে প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইভার্স ইযাবস ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— লুকাস ম্যান্ডল, লোরান্ত ভিনচে, লেইরে পাখিন, শেরবান দিমিত্রিয়ে স্টুর্দজা এবং মাইকেল ম্যাকনামারা। এছাড়াও কারিগরি ও কৌশলগত বিশ্লেষক হিসেবে ক্যারাটিনা ভিয়েইরা, মার্টিন বিল্লে হারমান, ইনতা লাসেসহ আরও অনেক বিশেষজ্ঞ এই মিশনে যুক্ত রয়েছেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, নির্বাচনের দিন তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভোটকেন্দ্রগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনটি জানিয়েছে , তারা কেবল ভোটের দিন নয়, বরং নির্বাচনের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পরিস্থিতির ওপরও তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন আলোচনায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য যে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনে সংসদীয় ভোটের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক এই পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস