ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অন্যের অধিকারকে সম্মান জানালে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী Logo জার্মানি আবার যুদ্ধ চাইছে : রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী Logo রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস জাপানের Logo কৃষকের সার নদীপথে পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে Logo দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ-ইতালি একসঙ্গে কাজ করবে Logo অবৈধভাবে ইতালিযাত্রা ঠেকাতে ওয়ার্কশপ হবে : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন দায়িত্ব পেলেন জয়নুল আবদিন Logo দারিদ্র্য দূরীকরণে বিএনপি সরকার ছিল চ্যাম্পিয়ন : রিজভী Logo হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আর আপিলের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর Logo দেশে প্রায় ১০ কোটি ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে : তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী

রমজান সামনে রেখে দাম বেড়েছে মাছ-মাংসের

শীত মৌসুম শেষের দিকে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান মাস শুরু হচ্ছে। শীতকালীন সবজির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও রমজানকে সামনে রেখে দাম বাড়তে শুরু করেছে মাছ-মাংসের। কোনো কোনো সবজির দাম আগের তুলনায় অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত নেমে এসেছে। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজি কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামনগর, শনির আখড়াসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, কুমড়া, শিম, বরবটি, পেঁপে, মূলা, গাজর, বেগুনসহ প্রায় সব শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগেও যে সবজি কিনতে দ্বিগুণ দাম দিতে হতো, এখন তা তুলনামূলক অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

সবজি ক্রেতা রায়হান বলেন, ‘সবজির বাজার এখন বেশ ভালো। পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে আগের মতো চাপ অনুভব করতে হচ্ছে না।’

বিক্রেতারাও বলছেন, কৃষক পর্যায় থেকে সরাসরি বাজারে সবজি আসায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

তবে সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও মাছ ও মাংসের বাজারে তার উল্টো চিত্র। কয়েক দিন আগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে চাহিদা বাড়ার পর থেকে মাছ-মাংসের দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে। সামনে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে, ফলে এই খাতে দামের চাপ আরও বেড়েছে।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রুই, কাতলা, পাঙাশ, তেলাপিয়া থেকে শুরু করে দেশি ছোট মাছের দামও বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেই অনুপাতে না থাকায় দাম বাড়ছে।

মাংসের বাজারেও একই অবস্থা। বর্তমানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। খাসির মাংসের দাম কেজিপ্রতি ১২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে এমন দামে মাংস কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে রমজানকে সামনে রেখে ইফতারে ব্যবহৃত পণ্যের দামেও বাড়তি চাপ দেখা যাচ্ছে। ছোলা, ডাল, খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি লেবুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। আগে যেখানে ২০ টাকায় এক হালি লেবু পাওয়া যেত, সেখানে এখন সেই লেবুর দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান শুরু হলে ইফতার সামগ্রীর চাহিদা আরও বাড়বে, ফলে এসব পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি থাকতে পারে। তবে সবজির ক্ষেত্রে এখনো সরবরাহ ভালো থাকায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন তারা।

শীতের শেষ প্রান্তে সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও রোজা ঘিরে মাছ-মাংস ও ইফতার সামগ্রীর দামে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। বাজার তদারকি জোরদার না হলে সামনে এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন।

বাংলা৭১নিউজ/এএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অন্যের অধিকারকে সম্মান জানালে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

রমজান সামনে রেখে দাম বেড়েছে মাছ-মাংসের

আপডেট সময় ১১:৩৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শীত মৌসুম শেষের দিকে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান মাস শুরু হচ্ছে। শীতকালীন সবজির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও রমজানকে সামনে রেখে দাম বাড়তে শুরু করেছে মাছ-মাংসের। কোনো কোনো সবজির দাম আগের তুলনায় অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত নেমে এসেছে। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজি কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামনগর, শনির আখড়াসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, কুমড়া, শিম, বরবটি, পেঁপে, মূলা, গাজর, বেগুনসহ প্রায় সব শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগেও যে সবজি কিনতে দ্বিগুণ দাম দিতে হতো, এখন তা তুলনামূলক অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

সবজি ক্রেতা রায়হান বলেন, ‘সবজির বাজার এখন বেশ ভালো। পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে আগের মতো চাপ অনুভব করতে হচ্ছে না।’

বিক্রেতারাও বলছেন, কৃষক পর্যায় থেকে সরাসরি বাজারে সবজি আসায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

তবে সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও মাছ ও মাংসের বাজারে তার উল্টো চিত্র। কয়েক দিন আগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে চাহিদা বাড়ার পর থেকে মাছ-মাংসের দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে। সামনে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে, ফলে এই খাতে দামের চাপ আরও বেড়েছে।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রুই, কাতলা, পাঙাশ, তেলাপিয়া থেকে শুরু করে দেশি ছোট মাছের দামও বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেই অনুপাতে না থাকায় দাম বাড়ছে।

মাংসের বাজারেও একই অবস্থা। বর্তমানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। খাসির মাংসের দাম কেজিপ্রতি ১২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে এমন দামে মাংস কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে রমজানকে সামনে রেখে ইফতারে ব্যবহৃত পণ্যের দামেও বাড়তি চাপ দেখা যাচ্ছে। ছোলা, ডাল, খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি লেবুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। আগে যেখানে ২০ টাকায় এক হালি লেবু পাওয়া যেত, সেখানে এখন সেই লেবুর দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান শুরু হলে ইফতার সামগ্রীর চাহিদা আরও বাড়বে, ফলে এসব পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি থাকতে পারে। তবে সবজির ক্ষেত্রে এখনো সরবরাহ ভালো থাকায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন তারা।

শীতের শেষ প্রান্তে সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও রোজা ঘিরে মাছ-মাংস ও ইফতার সামগ্রীর দামে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। বাজার তদারকি জোরদার না হলে সামনে এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন।

বাংলা৭১নিউজ/এএস