ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

শ্রীপুরে অগ্নিকাণ্ডে বেকারি কারখানা পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি কোটি টাকার

গাজীপুরের শ্রীপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বেকারি কারখানা ও পাশের কলার গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় নগদ ২০ লাখ টাকাসহ প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে বেকারি কারখানার এক অংশীদার আহত হয়েছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে অবস্থিত চিশতিয়া বেকারি কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চটপটি ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন জানান, নাজমুল হাসান মণ্ডল লিটনের মালিকানাধীন একটি টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে প্রায় ১১ বছর ধরে ১০ বন্ধু মিলে চিশতিয়া বেকারি কারখানা পরিচালনা করে আসছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার ভেতরে শেয়ারহোল্ডার আল-আমিনসহ (৪০) তিনজন ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে হৈচৈ শুনে ঘুম ভেঙে বাইরে এসে তিনি বেকারি কারখানায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আগুন নেভাতে গিয়ে কারখানার অংশীদার আল-আমিন আহত হন।

আহত অংশীদার আল-আমিন জানান, ভোররাতে হঠাৎ টিনের বিকট শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। আশপাশের লোকজন এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুনের তাপে তার ডান হাত ঝলসে যায়।

চিশতিয়া বেকারির আরেক অংশীদার হাইসাম বলেন, ১০ জন অংশীদারের যৌথ মালিকানায় তারা বেকারিটি পরিচালনা করেন। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে এসে দেখেন পুরো কারখানায় আগুন জ্বলছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্যাশ বাক্সে থাকা কর্মচারীদের বেতনের নগদ ২০ লাখ টাকা, দুটি জেনারেটর, দুটি মিক্সার মেশিন, দুটি রুটি তৈরির মেশিন, একটি রোলার মেশিন ও একটি কেক তৈরির মেশিন সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

এছাড়া কারখানায় মজুদ থাকা ২০০ বস্তা ময়দা, ৮০ বস্তা চিনি, ১০০ কার্টন ডালডা এবং ১৫০ কার্টন ইস্ট (ছত্রাক) পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করেন তিনি। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি কর্মীদের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও নগদ টাকা পুড়ে যাওয়ায় তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে দোকানঘরের মালিক ও কারখানার কর্মচারীরাও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এ সময় পাশের একটি কলার গোডাউনও পুড়ে যায়। ওই গোডাউনে প্রায় ৫০০ কাঁদি কলা মজুদ ছিল।

মাওনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার খাইরুল আলম জানান, ভোর ৪টার দিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর কাশেম জানান, বেকারি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি আব্দুল মান্নান। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উটেরচর (মাঝপাড়া) গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?

শ্রীপুরে অগ্নিকাণ্ডে বেকারি কারখানা পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি কোটি টাকার

আপডেট সময় ০৫:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বেকারি কারখানা ও পাশের কলার গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় নগদ ২০ লাখ টাকাসহ প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে বেকারি কারখানার এক অংশীদার আহত হয়েছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে অবস্থিত চিশতিয়া বেকারি কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চটপটি ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন জানান, নাজমুল হাসান মণ্ডল লিটনের মালিকানাধীন একটি টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে প্রায় ১১ বছর ধরে ১০ বন্ধু মিলে চিশতিয়া বেকারি কারখানা পরিচালনা করে আসছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার ভেতরে শেয়ারহোল্ডার আল-আমিনসহ (৪০) তিনজন ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে হৈচৈ শুনে ঘুম ভেঙে বাইরে এসে তিনি বেকারি কারখানায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আগুন নেভাতে গিয়ে কারখানার অংশীদার আল-আমিন আহত হন।

আহত অংশীদার আল-আমিন জানান, ভোররাতে হঠাৎ টিনের বিকট শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। আশপাশের লোকজন এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুনের তাপে তার ডান হাত ঝলসে যায়।

চিশতিয়া বেকারির আরেক অংশীদার হাইসাম বলেন, ১০ জন অংশীদারের যৌথ মালিকানায় তারা বেকারিটি পরিচালনা করেন। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে এসে দেখেন পুরো কারখানায় আগুন জ্বলছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্যাশ বাক্সে থাকা কর্মচারীদের বেতনের নগদ ২০ লাখ টাকা, দুটি জেনারেটর, দুটি মিক্সার মেশিন, দুটি রুটি তৈরির মেশিন, একটি রোলার মেশিন ও একটি কেক তৈরির মেশিন সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

এছাড়া কারখানায় মজুদ থাকা ২০০ বস্তা ময়দা, ৮০ বস্তা চিনি, ১০০ কার্টন ডালডা এবং ১৫০ কার্টন ইস্ট (ছত্রাক) পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করেন তিনি। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি কর্মীদের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও নগদ টাকা পুড়ে যাওয়ায় তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে দোকানঘরের মালিক ও কারখানার কর্মচারীরাও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এ সময় পাশের একটি কলার গোডাউনও পুড়ে যায়। ওই গোডাউনে প্রায় ৫০০ কাঁদি কলা মজুদ ছিল।

মাওনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার খাইরুল আলম জানান, ভোর ৪টার দিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর কাশেম জানান, বেকারি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি আব্দুল মান্নান। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উটেরচর (মাঝপাড়া) গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি