ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান, আটক ৩ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষ, আহত ৩০ Logo আইসিসির প্রেসিডেন্টসহ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা Logo বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে বৈঠক Logo চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন দাদি-নাতনি, ট্রেনে কাটা পড়ে গেল প্রাণ Logo বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে শিশুকে ধর্ষণ, আটক ১ Logo গাজার ক্যাফেতে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৬ Logo কলকাতা নিউ মার্কেটের পাশেই হোটেলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯ Logo দোয়া কবুল হয়নি নাকি অন্যভাবে কবুল হয়েছে? ইসলামের ব্যাখ্যা Logo ৩ জেলার ডিসি প্রত্যাহার

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা না করলেও যে কারণে উত্তেজনা কমছে না

ইরানের সামনে কঠিন সমীকরণ। তেহরান কোনোভাবেই সামরিক চাপের কাছে মাথা নত করতে চাইছে না। তাদের দরকার একটা সম্মানজনক সমাধান। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের জন্য আলোচনায় বসার অর্থ কেবল উত্তেজনা প্রশমন নয় বরং শত্রুপক্ষের পরিকল্পনাকে জটিল করে তোলা। যার ফলে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়কে দীর্ঘায়িত করা।

ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের দ্বন্দ্বে কূটনীতি এবং সামরিক চাপ সবসময় সমান্তরালভাবে চলেছে। একদিকে যখন আলোচনার টেবিল সরগরম থাকে, ঠিক তখনই ইসরায়েল বা আমেরিকার পক্ষ থেকে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ কিংবা আধিপত্যবাদী বাগাড়ম্বর শোনা যায়।

বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের স্ববিরোধী অবস্থান এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। একদিকে দাবি করা হচ্ছে ইরানের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার পরক্ষণেই নতুন সব শর্তারোপ করা হচ্ছে। এটা স্পষ্টতই  মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।

এই ভূ-রাজনৈতিক খেলায় ইসরায়েলের অবস্থান দিন দিন আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে। ওয়াশিংটনের সাথে দীর্ঘদিনের সমন্বয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কৌশলগত তথ্যের আদান-প্রদানে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

মার্কিন পরিকল্পনা থেকে নিজেদের আংশিক বাদ পড়ার বিষয়টি তেল আবিবের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। আমেরিকা যেখানে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, ইসরায়েল সেখানে উদ্ভূত হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মরিয়া।

এই ভিন্নমুখী চিন্তা ভাবনা এবং পারস্পরিক আস্থার অভাব বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিয়ত সামরিক অভিযানের যে দিনক্ষণ বা ফাঁস হওয়া নথির কথা বলা হচ্ছে, তা মূলত তেহরানের ওপর মানসিক চাপ তৈরির একটি কৌশল মাত্র।

বাস্তবতা হলো, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার কোনো লক্ষণ আপাতত নেই। বরং এটি এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত অস্থিরতা। ওয়াশিংটন চাইছে কৌশলগত নমনীয়তা বজায় রাখতে আর তেহরান চাইছে কোনো চাপের মুখে মাথা নত না করে নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রমাণ করতে।

এখানে আলোচনা কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ নয় বরং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এই উত্তেজনার মাঝে একমাত্র বড় বাধা হলো একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সবার সচেতনতা। ইরানকে কেন্দ্র করে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে তছনছ করে দেবে। 

তাই সরাসরি সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা থাকলেও সংকট কমার কোনো লক্ষণ নেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই দীর্ঘসূত্রতা এবং ভঙ্গুর ভারসাম্য প্রমাণ করে বিপদ এখনো কাটেনি, বরং বড় ধরনের সিদ্ধান্তগুলো কেবল সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

সূত্র: আরটি

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান, আটক ৩

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা না করলেও যে কারণে উত্তেজনা কমছে না

আপডেট সময় ০৪:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানের সামনে কঠিন সমীকরণ। তেহরান কোনোভাবেই সামরিক চাপের কাছে মাথা নত করতে চাইছে না। তাদের দরকার একটা সম্মানজনক সমাধান। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের জন্য আলোচনায় বসার অর্থ কেবল উত্তেজনা প্রশমন নয় বরং শত্রুপক্ষের পরিকল্পনাকে জটিল করে তোলা। যার ফলে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়কে দীর্ঘায়িত করা।

ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের দ্বন্দ্বে কূটনীতি এবং সামরিক চাপ সবসময় সমান্তরালভাবে চলেছে। একদিকে যখন আলোচনার টেবিল সরগরম থাকে, ঠিক তখনই ইসরায়েল বা আমেরিকার পক্ষ থেকে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ কিংবা আধিপত্যবাদী বাগাড়ম্বর শোনা যায়।

বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের স্ববিরোধী অবস্থান এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। একদিকে দাবি করা হচ্ছে ইরানের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার পরক্ষণেই নতুন সব শর্তারোপ করা হচ্ছে। এটা স্পষ্টতই  মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।

এই ভূ-রাজনৈতিক খেলায় ইসরায়েলের অবস্থান দিন দিন আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে। ওয়াশিংটনের সাথে দীর্ঘদিনের সমন্বয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কৌশলগত তথ্যের আদান-প্রদানে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

মার্কিন পরিকল্পনা থেকে নিজেদের আংশিক বাদ পড়ার বিষয়টি তেল আবিবের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। আমেরিকা যেখানে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, ইসরায়েল সেখানে উদ্ভূত হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মরিয়া।

এই ভিন্নমুখী চিন্তা ভাবনা এবং পারস্পরিক আস্থার অভাব বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিয়ত সামরিক অভিযানের যে দিনক্ষণ বা ফাঁস হওয়া নথির কথা বলা হচ্ছে, তা মূলত তেহরানের ওপর মানসিক চাপ তৈরির একটি কৌশল মাত্র।

বাস্তবতা হলো, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার কোনো লক্ষণ আপাতত নেই। বরং এটি এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত অস্থিরতা। ওয়াশিংটন চাইছে কৌশলগত নমনীয়তা বজায় রাখতে আর তেহরান চাইছে কোনো চাপের মুখে মাথা নত না করে নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রমাণ করতে।

এখানে আলোচনা কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ নয় বরং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এই উত্তেজনার মাঝে একমাত্র বড় বাধা হলো একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সবার সচেতনতা। ইরানকে কেন্দ্র করে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে তছনছ করে দেবে। 

তাই সরাসরি সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা থাকলেও সংকট কমার কোনো লক্ষণ নেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই দীর্ঘসূত্রতা এবং ভঙ্গুর ভারসাম্য প্রমাণ করে বিপদ এখনো কাটেনি, বরং বড় ধরনের সিদ্ধান্তগুলো কেবল সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

সূত্র: আরটি

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ