শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
চ্যাম্পিয়নদের জন্য আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর টাইব্রেকারে ভারতকে কাঁদিয়ে সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত আসতে পারে: অর্থমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত ৯৪৭, মৃত্যু ৩ আর একটু সময় পেলে সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারব: ট্রাম্প দাবদাহে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা, মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাসের চাকা ফেটে সেতুতে ধাক্কা, প্রাণ গেল ৩ জনের ট্রাম্পের নতুন হুমকিতেও অনড় ইরান, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলাকে ‌‌‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা শত্রুপক্ষের হামলায় ভেঙে গেল ইরানের সবচেয়ে উঁচু সেতু, শতাধিক হতাহত এবার বিকল্প পথে সৌদি থেকে আসছে ১ লাখ টন তেল

পদ্মা অয়েল : বহাল তবিয়তে সনদ-স্বাক্ষর জালিয়াতিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে সনদ ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন এক কর্মকর্তা। আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা অয়েল কোম্পানির বর্তমান কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক (এভিয়েশন) মো. সাইদুল হক ২০১৯ সালে সহকারী ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত থাকাকালে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের সময় জাল বেতন সনদ দাখিল করেন। ওই বেতন সনদে তৎকালীন উপ-মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ শহীদুল আলমের স্বাক্ষর জাল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকে দাখিল করা জাল বেতন সনদের সঙ্গে কোম্পানির দেওয়া প্রকৃত সনদের লেখা, তারিখ ও পত্রসূত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বেতন সনদের সঙ্গে সংযুক্ত চারটি ভাউচারে কোম্পানির সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক আখতার উদ্দৌজা এবং সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মহিউদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় ব্যাংকের সন্দেহ হলে একটি তদন্ত দল পদ্মা অয়েল কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে যাচাই-বাছাই করে। পরে ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সাইদুল হককে সাত কর্মদিবসের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। পরে এই অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়নি। এরপর ২০২০ সালে তাকে উপ-ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, পেট্রোলিয়াম খাতে স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো অপরাধে সাধারণত কঠোর শাস্তির নজির থাকলেও এক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। তাদের মতে, কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সাইদুল হক শাস্তির পরিবর্তে পদোন্নতি পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর ডিপোর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তেলে মিশ্রণ এবং ডিলার ও পরিবেশকদের কম মাপ দেওয়ার অভিযোগে সাইদুল হকের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল।

আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের হস্তক্ষেপে তাকে ডিপো থেকে প্রত্যাহার করে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা কার্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে এক বছর পর তাকে আবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপ-ব্যবস্থাপক (বিমান জ্বালানি) পদে পদায়ন করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাইদুল হক পদ্মা অয়েল কোম্পানির শ্রমিক সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া নেতা মো. আমিনুল হকের ছোট ভাই। সাইদুল হকের ঢাকার বনানী এলাকায় দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। একটি ফ্ল্যাটে তার পরিবার বসবাস করে এবং অপরটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ফ্ল্যাট দুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। পাশাপাশি তিনি একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন।

দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, সাইদুল হকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা হয়েছে। তার বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পদ্মা অয়েল কোম্পানির কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক (এভিয়েশন) মো. সাইদুল হককে কল করা হলে তিনি প্রতিবেদকের প্রশ্ন শুনেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর তাকে কল করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, আমি নতুন যোগ দিয়েছি। এই অভিযোগ আমার যোগদানের আগেই। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএম

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com