ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে ফ্লাটে দিতে হয় না ভাড়া, উল্টো বাড়িওয়ালা দেয় লাখ টাকা

সাধারণত বহুতল ভবন বা ফ্ল্যাটে বসবাস করতে হলে মাসিক ভাড়া বা রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দিতে হয়। কিন্তু ভারতের মুম্বাইয়ের নরিমান পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত ‘জলি মেকার’ নামের একটি বহুতল ভবনে চিত্রটা ঠিক উল্টো। এখানে ফ্ল্যাটে থাকতে ভাড়া তো দিতে হয়ই না, বরং ফ্ল্যাটের মালিকরা প্রতি মাসে হাতে পান লাখ টাকা। 

এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার শুরু ১৯৭০ সালে করা একটি সুদূরপ্রসারী ব্যবসায়িক চুক্তি থেকে। সে সময় জলি মেকার ভবনের নির্মাতা ফ্ল্যাট বিক্রির পাশাপাশি ক্রেতাদের একটি বিশেষ প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফ্ল্যাট কেনার পাশাপাশি ক্রেতাদের নরিমান পয়েন্টে নির্মাণাধীন তাঁর আরেকটি বাণিজ্যিক ভবনে বিনিয়োগ করতে হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ফ্ল্যাটের মূল দামের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থ ওই বাণিজ্যিক ভবনে বিনিয়োগ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেই বাণিজ্যিক ভবনটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত লাভজনক। বর্তমানে সেখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ভাড়া আদায় হয়।

এই ভাড়ার অর্থ থেকেই জলি মেকার ভবনের সব রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানো হয়। খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ ফ্ল্যাট মালিকদের মধ্যে মাসিক লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করা হয়। ফলে ফ্ল্যাট মালিকদের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দিতে হয় না; উল্টো তাঁরা প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকারও বেশি আয় করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের রিয়েল এস্টেট ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও যৌথ বিনিয়োগের একটি বিরল ও সফল উদাহরণ, যা আজও ফ্ল্যাট মালিকদের নিয়মিত আয় নিশ্চিত করে চলেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

যে ফ্লাটে দিতে হয় না ভাড়া, উল্টো বাড়িওয়ালা দেয় লাখ টাকা

আপডেট সময় ১২:১৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাধারণত বহুতল ভবন বা ফ্ল্যাটে বসবাস করতে হলে মাসিক ভাড়া বা রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দিতে হয়। কিন্তু ভারতের মুম্বাইয়ের নরিমান পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত ‘জলি মেকার’ নামের একটি বহুতল ভবনে চিত্রটা ঠিক উল্টো। এখানে ফ্ল্যাটে থাকতে ভাড়া তো দিতে হয়ই না, বরং ফ্ল্যাটের মালিকরা প্রতি মাসে হাতে পান লাখ টাকা। 

এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার শুরু ১৯৭০ সালে করা একটি সুদূরপ্রসারী ব্যবসায়িক চুক্তি থেকে। সে সময় জলি মেকার ভবনের নির্মাতা ফ্ল্যাট বিক্রির পাশাপাশি ক্রেতাদের একটি বিশেষ প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফ্ল্যাট কেনার পাশাপাশি ক্রেতাদের নরিমান পয়েন্টে নির্মাণাধীন তাঁর আরেকটি বাণিজ্যিক ভবনে বিনিয়োগ করতে হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ফ্ল্যাটের মূল দামের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থ ওই বাণিজ্যিক ভবনে বিনিয়োগ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেই বাণিজ্যিক ভবনটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত লাভজনক। বর্তমানে সেখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ভাড়া আদায় হয়।

এই ভাড়ার অর্থ থেকেই জলি মেকার ভবনের সব রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানো হয়। খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ ফ্ল্যাট মালিকদের মধ্যে মাসিক লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করা হয়। ফলে ফ্ল্যাট মালিকদের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দিতে হয় না; উল্টো তাঁরা প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকারও বেশি আয় করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের রিয়েল এস্টেট ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও যৌথ বিনিয়োগের একটি বিরল ও সফল উদাহরণ, যা আজও ফ্ল্যাট মালিকদের নিয়মিত আয় নিশ্চিত করে চলেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস

বাংলা৭১নিউজ/জেএস