ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মধ্যপ্রাচ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ আহ্বান জানিয়ে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করল ব্রিকস Logo দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান Logo হজের টাকা এজেন্সিকে দিলে সেই টাকার যাকাত দিতে হবে? Logo ‘আমার চেয়ে ভালো কেউ নেই’, ব্যালন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এমবাপ্পে Logo ট্রাম্পের সরাসরি সাহায্য মিলছে না, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মোকাবিলায় সংকটে সৌদি যুবরাজ Logo শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার Logo একসময় বল পায়ে লড়াই, এখন তারা সবাই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোচ Logo চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo ফেনীতে নিহত যুবদল নেতা ও অসহায় এক পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি উপহার Logo ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ৩ জনকে বেছে নিলেন ডেম্বেলে

মেক্সিকোতে ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ১১

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলীয় শহর সালামানকার একটি ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের গুলিতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সময় রোববার (২৫ জানুয়ারি) এই ভয়াবহ হামলা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একাধিক গাড়িতে করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা মাঠে এসে সেখানে জড়ো হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালান। এই প্রাণঘাতী হামলার তদন্তে এরই মধ্যে স্থানীয় ও ফেডারেল নিরাপত্তা বাহিনী কাজ শুরু করেছে।

স্থানীয় দুটি ক্লাবের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অনেক পরিবার মাঠে থেকেই সামাজিক আড্ডায় মেতে উঠেছিল। নিহতদের মধ্যে অন্তত একজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। সালামানকা যে গুয়ানাহুয়াতো রাজ্যে অবস্থিত, সেই রাজ্যেই গত বছর মেক্সিকোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, লোমা দে ফ্লোরেস এলাকার কাবানিয়াস ফুটবল মাঠে হামলার সময় অন্তত ১০০ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনার মাত্র এক দিন আগেই সালামানকা শহরে একাধিক সহিংস ঘটনায় মোট পাঁচজন নিহত হন ও আরও একজনকে অপহরণ করা হয়।

গুয়ানাহুয়াতো রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা বেড়েছে। এখানে সক্রিয় একাধিক গ্যাং তেল ও জ্বালানি চুরি ছাড়াও মাদক পাচার ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

এই গ্যাংগুলোর সদস্যরা প্রায়ই তেলবাহী ট্যাংকার ট্রাক ছিনতাই করে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেমেক্সের মালিকানাধীন পাইপলাইনে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে তেল চুরি করে থাকে।

 

পেমেক্সের একটি বড় পরিশোধনাগার (রিফাইনারি) সালামানকায় অবস্থিত হওয়ায় শহরটি বিশেষভাবে গ্যাং-সম্পর্কিত সহিংস হামলার শিকার হয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি) এবং কার্টেল দে সান্তা রোসা দে লিমার (সিএসআরএল) মধ্যে দ্বন্দ্বই দেশটির বহু নৃশংস সহিংস ঘটনার মূল কারণ।

এই কার্টেলগুলোর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুধু মেক্সিকোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চুরি করা জ্বালানি ও অবৈধ মাদক পাচারের মাধ্যমে এসব সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়ছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সিজেএনজিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সিএসআরএলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ মাদক যেমন- হেরোইন, ফেন্টানিল, মেথামফেটামিন ও কোকেন, পাচারকারী অপরাধী গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানকে তার অগ্রাধিকারগুলোর একটি হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

এর আগে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ‘কার্টেলগুলোই মেক্সিকো চালাচ্ছে’ ও ‘নার্কো-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে স্থল হামলার হুমকিও দেন।

এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পরিবহনের অভিযোগে অন্তত ৩৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কমপক্ষে ১২৫ জন নিহত হয়েছেন।

তবে এসব হামলার আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা ও ট্রাম্পের সমালোচকরা।

এদিকে, গত সপ্তাহে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম ৩৭ জন ‘উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন’ সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী প্রচেষ্টায় সহযোগিতা দেখানো ও মেক্সিকোর ভূখণ্ডে কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে একতরফা মার্কিন হামলার সম্ভাবনা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে তার সরকার।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/এনএস

Tag :

মধ্যপ্রাচ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ আহ্বান জানিয়ে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করল ব্রিকস

মেক্সিকোতে ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ১১

আপডেট সময় ০৭:০৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলীয় শহর সালামানকার একটি ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের গুলিতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সময় রোববার (২৫ জানুয়ারি) এই ভয়াবহ হামলা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একাধিক গাড়িতে করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা মাঠে এসে সেখানে জড়ো হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালান। এই প্রাণঘাতী হামলার তদন্তে এরই মধ্যে স্থানীয় ও ফেডারেল নিরাপত্তা বাহিনী কাজ শুরু করেছে।

স্থানীয় দুটি ক্লাবের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অনেক পরিবার মাঠে থেকেই সামাজিক আড্ডায় মেতে উঠেছিল। নিহতদের মধ্যে অন্তত একজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। সালামানকা যে গুয়ানাহুয়াতো রাজ্যে অবস্থিত, সেই রাজ্যেই গত বছর মেক্সিকোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, লোমা দে ফ্লোরেস এলাকার কাবানিয়াস ফুটবল মাঠে হামলার সময় অন্তত ১০০ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনার মাত্র এক দিন আগেই সালামানকা শহরে একাধিক সহিংস ঘটনায় মোট পাঁচজন নিহত হন ও আরও একজনকে অপহরণ করা হয়।

গুয়ানাহুয়াতো রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা বেড়েছে। এখানে সক্রিয় একাধিক গ্যাং তেল ও জ্বালানি চুরি ছাড়াও মাদক পাচার ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

এই গ্যাংগুলোর সদস্যরা প্রায়ই তেলবাহী ট্যাংকার ট্রাক ছিনতাই করে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেমেক্সের মালিকানাধীন পাইপলাইনে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে তেল চুরি করে থাকে।

 

পেমেক্সের একটি বড় পরিশোধনাগার (রিফাইনারি) সালামানকায় অবস্থিত হওয়ায় শহরটি বিশেষভাবে গ্যাং-সম্পর্কিত সহিংস হামলার শিকার হয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি) এবং কার্টেল দে সান্তা রোসা দে লিমার (সিএসআরএল) মধ্যে দ্বন্দ্বই দেশটির বহু নৃশংস সহিংস ঘটনার মূল কারণ।

এই কার্টেলগুলোর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুধু মেক্সিকোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চুরি করা জ্বালানি ও অবৈধ মাদক পাচারের মাধ্যমে এসব সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়ছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সিজেএনজিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সিএসআরএলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ মাদক যেমন- হেরোইন, ফেন্টানিল, মেথামফেটামিন ও কোকেন, পাচারকারী অপরাধী গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানকে তার অগ্রাধিকারগুলোর একটি হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

এর আগে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ‘কার্টেলগুলোই মেক্সিকো চালাচ্ছে’ ও ‘নার্কো-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে স্থল হামলার হুমকিও দেন।

এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পরিবহনের অভিযোগে অন্তত ৩৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কমপক্ষে ১২৫ জন নিহত হয়েছেন।

তবে এসব হামলার আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা ও ট্রাম্পের সমালোচকরা।

এদিকে, গত সপ্তাহে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম ৩৭ জন ‘উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন’ সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী প্রচেষ্টায় সহযোগিতা দেখানো ও মেক্সিকোর ভূখণ্ডে কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে একতরফা মার্কিন হামলার সম্ভাবনা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে তার সরকার।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/এনএস