
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর পেশাদার ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়েও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান তারকা ডেভিড ওয়ার্নার। দেশটির ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) ব্যাট হাতে রীতিমতো আগুন ঝরাচ্ছেন তিনি।
চলমান আসরে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে ৮৬.৬০ গড় ও ১৫৪.০৯ স্ট্রাইক রেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ওয়ার্নার। এই সময়ে আর কোনো ব্যাটারই ৪০০ রানের কাছাকাছি যেতে পারেননি।
শুক্রবার সিডনি ডার্বিতে সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন সিডনি থান্ডারের এই ওপেনার। ৬৫ বলে ১১টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১১০ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি। তবে ওয়ার্নারের ইনিংসের বাইরে থান্ডারের আর কোনো ব্যাটার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে না পারায় ১৯০ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিয়েও জয় পায়নি দলটি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন স্টিভেন স্মিথ। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন বাবর আজম, যিনি করেন ৪৭ রান। মাঝপথে কয়েকটি উইকেট হারালেও ১৬ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সিক্সার্স। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে স্মিথ–বাবরের দলটি, আর তলানিতেই রয়ে গেছে সিডনি থান্ডার।
দল হারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল ওয়ার্নার। সিক্সার্সের বিপক্ষে করা এই সেঞ্চুরিটি টি-টোয়েন্টিতে তার দশম। এর মাধ্যমে তিনি টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বনিম্ন ১০টি সেঞ্চুরি করা মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হলেন। এই এলিট তালিকায় শীর্ষে আছেন ‘ইউনিভার্স বস’ ক্রিস গেইল, যার টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি ২২টি। দ্বিতীয় স্থানে সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম (১১টি) এবং তৃতীয় স্থানে ডেভিড ওয়ার্নার (১০টি)।
৪৩২ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ওয়ার্নার করেছেন ১০টি সেঞ্চুরি ও ১১৫টি হাফসেঞ্চুরি। তুলনায় গেইল ৪৬৩ ম্যাচে করেছেন ২২টি সেঞ্চুরি ও ৮৮টি হাফসেঞ্চুরি, আর বাবর আজম ৩৩৭ ম্যাচে করেছেন ১১টি সেঞ্চুরি ও ৯৭টি হাফসেঞ্চুরি। তালিকায় এরপর আছেন রাইলি রুশো ও বিরাট কোহলি উভয়ের সেঞ্চুরি ৯টি করে।
একই ম্যাচে আরও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন ওয়ার্নার। বিশ্বের মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৪ হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যাটারের বর্তমান রানসংখ্যা ১৪,০২৮। এই তালিকায় তার আগে আছেন ক্রিস গেইল (১৪,৫৬২), কাইরন পোলার্ড (১৪,৪৬২) ও অ্যালেক্স হেলস (১৪,৪৪৯)।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস