ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার রাতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার পর বুধবার এ হুমকি দেয় তারা। হামলায় আরামকোর সদর দপ্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হুথিরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে তারা এসব হামলা চালাচ্ছে বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানি, বেসামরিক নাগরিক ও কর্মীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং তেল স্থাপনা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

হুথিদের বিবৃতি অনুযায়ী, বুধবার ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং রিয়াদের একটি আরামকো তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

রয়টার্সকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতের হামলায় ধাহরানে আরামকোর স্থাপনার কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, হামলায় সীমিত পরিসরে আগুন লেগেছিল। হামলার পরও আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল এবং কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছেন দুটি সূত্র। এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি আরামকো।

এদিকে, বুধবার রিয়াদ অভিমুখে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এদিন সৌদি রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বিকট শব্দও শোনা যায়। এর আগে রিয়াদে সম্ভাব্য আকাশপথের হামলার হুমকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে বিস্ফোরণের শব্দের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন। গত এক দশকে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সৌদি আরবগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে এয়ারলাইনসগুলো।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। এর আগে হুথিরা দেশটির রাজধানী সানা দখল করে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও চলতি বছর পর্যন্ত তা ভঙ্গুর শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করেছিল।

গত মাসে হুথিদের আকস্মিক অগ্রগতির পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সহায়তা দিতে সৌদি আরব আবারও সামরিক অভিযান শুরু করে। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হয়েছিল।

এদিকে, সংঘাত তীব্র হওয়ায় ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে যুদ্ধাহত মানুষের চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি। অন্যদিকে, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, হুথি যোদ্ধাদের অবরোধে থাকা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহরের ছয় লাখের বেশি মানুষের কাছে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। এসব মানুষের মধ্যে দুই লাখের বেশি নারী ও শিশু রয়েছে।

ডব্লিউএফপি বলেছে, তাইজে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছয় লাখের বেশি মানুষের কাছে সংস্থাটি ও তার অংশীদাররা পৌঁছাতে পারছে না।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে কোন শ্রেণিতে ফি কত

সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি

আপডেট সময় ১০:৩১:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার রাতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার পর বুধবার এ হুমকি দেয় তারা। হামলায় আরামকোর সদর দপ্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হুথিরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে তারা এসব হামলা চালাচ্ছে বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানি, বেসামরিক নাগরিক ও কর্মীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং তেল স্থাপনা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

হুথিদের বিবৃতি অনুযায়ী, বুধবার ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং রিয়াদের একটি আরামকো তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

রয়টার্সকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতের হামলায় ধাহরানে আরামকোর স্থাপনার কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, হামলায় সীমিত পরিসরে আগুন লেগেছিল। হামলার পরও আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল এবং কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছেন দুটি সূত্র। এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি আরামকো।

এদিকে, বুধবার রিয়াদ অভিমুখে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এদিন সৌদি রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বিকট শব্দও শোনা যায়। এর আগে রিয়াদে সম্ভাব্য আকাশপথের হামলার হুমকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে বিস্ফোরণের শব্দের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন। গত এক দশকে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সৌদি আরবগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে এয়ারলাইনসগুলো।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। এর আগে হুথিরা দেশটির রাজধানী সানা দখল করে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও চলতি বছর পর্যন্ত তা ভঙ্গুর শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করেছিল।

গত মাসে হুথিদের আকস্মিক অগ্রগতির পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সহায়তা দিতে সৌদি আরব আবারও সামরিক অভিযান শুরু করে। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হয়েছিল।

এদিকে, সংঘাত তীব্র হওয়ায় ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে যুদ্ধাহত মানুষের চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি। অন্যদিকে, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, হুথি যোদ্ধাদের অবরোধে থাকা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহরের ছয় লাখের বেশি মানুষের কাছে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। এসব মানুষের মধ্যে দুই লাখের বেশি নারী ও শিশু রয়েছে।

ডব্লিউএফপি বলেছে, তাইজে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছয় লাখের বেশি মানুষের কাছে সংস্থাটি ও তার অংশীদাররা পৌঁছাতে পারছে না।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ