ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফের আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের বিক্ষোভ থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দীর্ঘ প্রায় নয় ঘণ্টার ধর্না শেষে সন্ধ্যায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে তাদের আটক করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় বিরোধী এমপিদের পথ আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। পুলিশি ব্যারিকেডের সামনে থেমে যান তারা। পরে রাস্তায় বসে ধর্না শুরু করেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা।

পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাহুল গান্ধী পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে জাতীয় পতাকা ওড়ান। পরে তিনি ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে আকাশবাণী ভবন প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। সেখানেই তারা অবস্থান নিয়ে ধর্না চালিয়ে যান। পুলিশ তাদের স্থান ত্যাগ করতে বললেও তারা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান।

প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে চলা এই অবস্থানের পর দিল্লি পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্য বিরোধী নেতাদের আটক করে। পরে তাদের পুলিশ বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এনডিটিভি জানিয়েছে, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে গান্ধী ভাইবোনদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। তবে কিছুক্ষণ পরেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর)।

বিরোধী দলগুলোর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ তুলেছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হলো মৃত, ভুয়া, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল করা।

এদিকে এসআইআর নিয়ে বিতর্ক ইতোমধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছেছে। আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চেয়েছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে শুনানি চলছে। ফলে রাস্তায় বিরোধীদের আন্দোলনের পাশাপাশি বিষয়টি এখন ভারতের বিচারিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

সূত্র: এনডিটিভি, আলজাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ফের আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

আপডেট সময় ১০:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের বিক্ষোভ থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দীর্ঘ প্রায় নয় ঘণ্টার ধর্না শেষে সন্ধ্যায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে তাদের আটক করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় বিরোধী এমপিদের পথ আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। পুলিশি ব্যারিকেডের সামনে থেমে যান তারা। পরে রাস্তায় বসে ধর্না শুরু করেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা।

পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাহুল গান্ধী পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে জাতীয় পতাকা ওড়ান। পরে তিনি ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে আকাশবাণী ভবন প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। সেখানেই তারা অবস্থান নিয়ে ধর্না চালিয়ে যান। পুলিশ তাদের স্থান ত্যাগ করতে বললেও তারা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান।

প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে চলা এই অবস্থানের পর দিল্লি পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্য বিরোধী নেতাদের আটক করে। পরে তাদের পুলিশ বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এনডিটিভি জানিয়েছে, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে গান্ধী ভাইবোনদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। তবে কিছুক্ষণ পরেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর)।

বিরোধী দলগুলোর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ তুলেছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হলো মৃত, ভুয়া, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল করা।

এদিকে এসআইআর নিয়ে বিতর্ক ইতোমধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছেছে। আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চেয়েছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে শুনানি চলছে। ফলে রাস্তায় বিরোধীদের আন্দোলনের পাশাপাশি বিষয়টি এখন ভারতের বিচারিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

সূত্র: এনডিটিভি, আলজাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/জেএস