কিশোরগঞ্জে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে অফিসে ঢুকে মারধর ও রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে একই কার্যালয়ের চার কর্মচারীর বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে গাইটাল শিক্ষকপল্লীস্থ পান উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত প্রকৌশলীর নাম মাহমুদুল ইসলাম (৪০)। তিনি সোনারগাঁও উপজেলার দুধঘাটা গ্রামের মৃত হারুন অর-রশিদের ছেলে এবং বর্তমানে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় চারজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে নাম উল্লেখ করা বিবাদীরা হলেন— একই কার্যালয়ের কর্মচারী সোয়াইব আহমেদ (৫২), মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৫), মোঃ জাকির হোসেন (৩৬) এবং ইসতিয়াক আহমেদ (৩৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে অভিযুক্ত কর্মচারীরা তাদের একজন কেন্দ্রীয় নেতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কথা বলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামের নিকট চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে চলে যায়।
এরই জেরে আজ বুধবার বেলা আনুমানিক ১২:৩০ ঘটিকার সময় বিবাদীরা প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামের কক্ষে প্রবেশ করে চাঁদা না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে গালিগালাজ শুরু করে। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ১ নম্বর বিবাদী সোয়াইব আহমেদ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কক্ষের একটি কাঠের চেয়ার তুলে মাথার দিকে সজোরে আঘাত করেন। প্রকৌশলী ডান হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার ডান হাতের কব্জি এবং বাম চোখের কোণে লেগে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় অন্যান্য বিবাদীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা জখম করে।
পরে সহকর্মীদের ডাক-চিৎকারে অফিসের অন্যান্য কর্মীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। চলে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা বিষয়টি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সহকর্মীরা জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসা প্রদান করেন।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি





















