গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইবোলা প্রাদুর্ভাব। বুধবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ড. জঁ-জাক মুয়েম্বে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ১৮৬ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৭ জন মারা গেছেন।
ড. মুয়েম্বে বলেন, রোগটি অভূতপূর্ব দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ইবোলা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের আমাদের প্রচেষ্টা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি জানান, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
তার ভাষায়, এটি এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে একমত হয়েছে।
সংস্থাটি পরিস্থিতিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিকভাবে জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইবোলা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।
বিশেষ করে দেশটির পূর্বাঞ্চলে চলমান সংঘাত রোগ নিয়ন্ত্রণের কাজে বড় বাধা তৈরি করছে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, খনি শ্রমিকদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলাচল এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
স্কুলে সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ
স্কুলগুলো আবার খুলে দেওয়ায় নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ড. মুয়েম্বে সতর্ক করে বলেছেন, শ্রেণিকক্ষের মতো পরিবেশে মানুষের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে ভাইরাস আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, স্কুলে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।
ইবোলা সংকট মোকাবেলায় আরো সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।
আফ্রিকার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ড. মাৎশিদিসো মোয়েতি বলেন, ‘পরিস্থিতির আরো অবনতি ঠেকাতে এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ইবোলায় ৬ হাজার ১৮৬ জন আক্রান্ত এবং ৩ হাজার ৭ জন মারা গেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতির অগ্রগতি ও প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন বাধা নিয়ে অতিরিক্ত তথ্য ও বিশ্লেষণ দিয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





















