ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আদালতকক্ষে আইনজীবীর সঙ্গে বিরিয়ানি খেলেন সাহেদ, সাক্ষ্য গ্রহণ পেছিয়ে ৪ অক্টোবর Logo দুই দেশের মধ্যে জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক নির্মাণে ভারত সরকার আগ্রহী Logo চার মন্ত্রণালয়-বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ Logo আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক Logo জ্ঞান ফেরার পর থেকে মির্জা আব্বাস দেশে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে আছে Logo শজিমেক হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬ Logo চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় পাউবো’র প্রকৌশলীকে পিটিয়ে জখম Logo ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৩০০০ ছাড়িয়েছে Logo রংপুরে ৪ খুনের নেপথ্যে পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না খতিয়ে দেখছে ডিবি Logo ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

রংপুরে ৪ খুনের নেপথ্যে পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না খতিয়ে দেখছে ডিবি

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে দ্বিতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ, ঘটনার আগে-পরে আসামিদের গতিবিধি এবং তাদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে বিভিন্ন আলামতের মিল খুঁজতেই এ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করে। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম ও আবু সাঈদ বাবলা। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারেই দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবারও কারাগার গেটে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত সোমবার রংপুর মহানগর হাকিম আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম দুই আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর নতুন করে রিমান্ডের সুযোগ না থাকায় জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি ফরেনসিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন আলামত, মোবাইল ফোনের তথ্য ও ঘটনার আগে-পরে তাদের যোগাযোগের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে ঘন ঘন ফোনালাপের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ৮০ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামির মধ্যে ৮০ বার ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এত অল্প সময়ে এতবার যোগাযোগের বিষয়টি স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না পুলিশ।

গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, এটি একটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। মামলাটি ডিটেক্ট করা পুলিশের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। এ জন্য তদন্তের প্রতিটি বিষয় চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আসামিদের বক্তব্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন আলামত এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব তথ্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

আদালতকক্ষে আইনজীবীর সঙ্গে বিরিয়ানি খেলেন সাহেদ, সাক্ষ্য গ্রহণ পেছিয়ে ৪ অক্টোবর

রংপুরে ৪ খুনের নেপথ্যে পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না খতিয়ে দেখছে ডিবি

আপডেট সময় ০৫:০৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে দ্বিতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ, ঘটনার আগে-পরে আসামিদের গতিবিধি এবং তাদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে বিভিন্ন আলামতের মিল খুঁজতেই এ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করে। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম ও আবু সাঈদ বাবলা। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারেই দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবারও কারাগার গেটে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত সোমবার রংপুর মহানগর হাকিম আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম দুই আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর নতুন করে রিমান্ডের সুযোগ না থাকায় জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি ফরেনসিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন আলামত, মোবাইল ফোনের তথ্য ও ঘটনার আগে-পরে তাদের যোগাযোগের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে ঘন ঘন ফোনালাপের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ৮০ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামির মধ্যে ৮০ বার ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এত অল্প সময়ে এতবার যোগাযোগের বিষয়টি স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না পুলিশ।

গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, এটি একটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। মামলাটি ডিটেক্ট করা পুলিশের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। এ জন্য তদন্তের প্রতিটি বিষয় চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আসামিদের বক্তব্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন আলামত এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব তথ্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ