ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে আগুন, আতঙ্কে যাত্রীরা Logo প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo দুই হাত নেই, মুখে কলম ধরে দাখিলে উত্তীর্ণ রিয়াদ Logo হঠাৎ ভূমি অফিসে প্রতিমন্ত্রী, কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে ধরা পড়ল বড় অনিয়ম Logo কদমতলীতে রিকশাচালক ইমন হত্যা মামলায় আল-আমিনের যাবজ্জীবন Logo ত্রিশালে ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪ Logo তিন জেলায় আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে মাঠ প্রশাসনের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ Logo নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ Logo সালমান এফ রহমানের পক্ষে লড়তে বিদেশি আইনজীবীর আবেদন Logo মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিল চলবে কিনা সিদ্ধান্ত ৭ সেপ্টেম্বর

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ২

ইরানের হরমুজ প্রণালির কাছে লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে রবিবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত জুলাইয়ের শেষের দিকে মার্কিন সামরিক অভিযান স্থগিত হওয়ার পর ইরানে এটিই প্রথম মার্কিন হামলা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র কমান্ডার টিম হকিন্স বিবিসির মার্কিন সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সদস্যদের লারাক দ্বীপে দেখা গিয়েছিল। তারা হরমুজ প্রণালিতে রকেট ছোড়া এবং সমুদ্র মাইন পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, এই মার্কিন হামলায় তাদের দুইজন সদস্য নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন।

হামলার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করে, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তবে এই দাবি নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসির পাল্টা হামলার দাবির কিছুক্ষণ পর জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা দেশটির আকাশসীমায় ঢুকে পড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রা নিউজ এজেন্সি জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানায়, সোমবার ভোরে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ঠেকানো হয়েছে। আইআরজিসি পরে দাবি করে, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক এলাকায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। মার্কিন ঘাঁটির প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা এবং যুদ্ধবিমানের অবস্থানকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। তবে এসব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা করেছে আইআরজিসি। সংগঠনটির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি এই হামলাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের ‘কৌশলগত ও প্রাণঘাতী ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এই ভুল সিদ্ধান্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও সামরিক- দুই দিক থেকেই পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইরানের আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম এর আগে জানিয়েছিল, লারাক দ্বীপে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। লারাক দ্বীপ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বান্দার আব্বাসের কাছেই অবস্থিত। দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির ওপর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। বর্তমানে ইরান এই দ্বীপের পাশ দিয়ে যাওয়া ট্যাংকারগুলো পরীক্ষা করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য জাহাজগুলোকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত দিতে বাধ্য করছে ইরান। এ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। লারাক দ্বীপে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তেল অবকাঠামোয় বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওগুলোর কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে মনে হয়েছে। এর একটি ভিডিওর সঙ্গে ট্রাম্প লেখেন, ‘খার্গ দ্বীপকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে!!!’

ইরানের উপকূলের কাছে খার্গ দ্বীপে দেশটির বড় একটি তেল টার্মিনাল রয়েছে। ট্রাম্প এর আগে এই স্থাপনা দখল করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা হিসেবে ইরান সেখানে যে সমুদ্র মাইন পেতেছিল, সেগুলো বিস্ফোরিত করে দেওয়া হয়েছে অথবা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, ইরান নতুন করে কোনো জাহাজ বা নৌকা দিয়ে সেখানে মাইন পাতার চেষ্টা করলে সেটি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘প্রচারমূলক’ প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন।

সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। গত ২৪ আগস্ট ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। তেহরানকে আরো আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরানের মিত্রদের ওপরও পরোক্ষভাবে চাপ বাড়ানো এই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য। ইরানের কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নতুন নিষেধাজ্ঞাকে আগের মার্কিন অর্থনৈতিক পদক্ষেপেরই ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পরই ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়। এর পর থেকে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ইরান যুদ্ধ এখন ছয় মাস পার করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে আগুন, আতঙ্কে যাত্রীরা

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ২

আপডেট সময় ১১:১৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের হরমুজ প্রণালির কাছে লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে রবিবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত জুলাইয়ের শেষের দিকে মার্কিন সামরিক অভিযান স্থগিত হওয়ার পর ইরানে এটিই প্রথম মার্কিন হামলা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র কমান্ডার টিম হকিন্স বিবিসির মার্কিন সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সদস্যদের লারাক দ্বীপে দেখা গিয়েছিল। তারা হরমুজ প্রণালিতে রকেট ছোড়া এবং সমুদ্র মাইন পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, এই মার্কিন হামলায় তাদের দুইজন সদস্য নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন।

হামলার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করে, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তবে এই দাবি নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসির পাল্টা হামলার দাবির কিছুক্ষণ পর জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা দেশটির আকাশসীমায় ঢুকে পড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রা নিউজ এজেন্সি জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানায়, সোমবার ভোরে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ঠেকানো হয়েছে। আইআরজিসি পরে দাবি করে, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক এলাকায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। মার্কিন ঘাঁটির প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা এবং যুদ্ধবিমানের অবস্থানকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। তবে এসব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা করেছে আইআরজিসি। সংগঠনটির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি এই হামলাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের ‘কৌশলগত ও প্রাণঘাতী ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এই ভুল সিদ্ধান্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও সামরিক- দুই দিক থেকেই পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইরানের আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম এর আগে জানিয়েছিল, লারাক দ্বীপে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। লারাক দ্বীপ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বান্দার আব্বাসের কাছেই অবস্থিত। দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির ওপর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। বর্তমানে ইরান এই দ্বীপের পাশ দিয়ে যাওয়া ট্যাংকারগুলো পরীক্ষা করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য জাহাজগুলোকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত দিতে বাধ্য করছে ইরান। এ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। লারাক দ্বীপে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তেল অবকাঠামোয় বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওগুলোর কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে মনে হয়েছে। এর একটি ভিডিওর সঙ্গে ট্রাম্প লেখেন, ‘খার্গ দ্বীপকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে!!!’

ইরানের উপকূলের কাছে খার্গ দ্বীপে দেশটির বড় একটি তেল টার্মিনাল রয়েছে। ট্রাম্প এর আগে এই স্থাপনা দখল করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা হিসেবে ইরান সেখানে যে সমুদ্র মাইন পেতেছিল, সেগুলো বিস্ফোরিত করে দেওয়া হয়েছে অথবা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, ইরান নতুন করে কোনো জাহাজ বা নৌকা দিয়ে সেখানে মাইন পাতার চেষ্টা করলে সেটি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘প্রচারমূলক’ প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন।

সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। গত ২৪ আগস্ট ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। তেহরানকে আরো আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরানের মিত্রদের ওপরও পরোক্ষভাবে চাপ বাড়ানো এই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য। ইরানের কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নতুন নিষেধাজ্ঞাকে আগের মার্কিন অর্থনৈতিক পদক্ষেপেরই ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পরই ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়। এর পর থেকে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ইরান যুদ্ধ এখন ছয় মাস পার করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ